সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

fake-egg-fake-rice.jpg

ভোক্তা সমাজ সাবধান নকল ডিমের পর এবার আসছে নকল চাউল

চীনে তৈরি হওয়া এসব কৃত্রিম বা নকল ডিম এক কথায় বিষাক্ত। কৃত্রিম ডিম তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট, স্টার্চ, রেসিন, জিলেটিন মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

সত্যি কথা বলতে কী, এতদিনও আমার ধারণা বা বিশ্বাস ছিল যে, আর যাই হোক, ডিমে হয়তো ভেজাল কিছু মেশানো সম্ভব হবে না। কিন্তু ডিমে ভেজাল মেশানো তো তুচ্ছ বিষয়।

প্রথম যখন শুনলাম যে, গোটা ডিমই নকল হচ্ছে, তখন কথাটা আমার বিশ্বাসই হয়নি। তবুও কৌতুহল বশতঃ কম্পিউটারে সার্চ দিয়ে দেখলাম, নকল ডিম তৈরীর গোটা প্রক্রিয়াটাই ইউটিউবে প্রদর্শিত হচ্ছে, তখন আর বিশ্বাস না করার কোন যুক্তি খুঁজে পাইনি।

শুধু তাই নয় সার্চ দিয়ে আরও যা দেখলাম, তা দেখে যে কোন মানুষই স্তম্ভিত না হয়ে পারে না। মেশিনের এক প্রান্ত দিয়ে চিকন চিকন ছোবরা জাতীয় প্লাষ্টিকের সুতলীর মত বস্তু বস্তা থেকে বের করে করে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে আর কয়েকটা ধাপ পেরিয়ে অন্য প্রান্ত দিয়ে চমৎকার(!) চাউল হয়ে বেরিয়ে আসছে!

'ঈমান হীন ব্যক্তি যে সবার জন্যই বিপজ্জনক' সেই সত্যটিই নকল ডিম আর প্লাষ্টিকের নকল চাউল তৈরীর এ সব কান্ড-কারখানার জীবন্ত দৃশ্য ইউটিউব সবার সামনে চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছে। এ জন্য তারা অবশ্যই আমাদের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা সহ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য ই বটে।

ইতোপূর্বে আমরা দেখেছি, যারা বিভিন্ন ধরণের মাদক দ্রব্য তৈরী ও বাজারজাত করার সাথে জড়িত, তারা বা তাদের বংশধরগণও মাদকাসক্ত হয়ে মুত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তদ্রুপ, নকল ডিম ও নকল চাউল উৎপাদণকারী ও বাজারজাতকারীগণ ও তাদের বংশধরের পেটে যে এই সমস্ত বিষাক্ত পদার্থ ঢুকবে না তার কোন নিশ্চয়তা কী তারা দিতে পারবে? বিষয়টি একেবারে আনকোরা নতুন নয়, তবুও কেন যেন আমার মনে হ’লো, লেখক ডট কমের লেখক ও পাঠক বর্গের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা আমার কর্তব্য, সে করণেই দেরীতে হলেও তুলে ধরবার চেষ্টা করছি। আমার বলা কথা আপনাদের বিশ্বাস করতে বলছি না, ইচ্ছা করলে আপনারা যে কেউই নকল ডিম বা নকল চাউল লিখে গুগলে সার্চ দিলেই আপনি নিজের চোখেই এই সব অপকর্মগুলো দেখতে পাবেন।

যদিও এ বিষয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে তারপরও পাঠক বর্গের অবগতির জন্য তার পূনরুল্লেখ করছি:

মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট মর্নিং নিউজ এজেন্সিসহ বেশ কয়েকটি বিদেশি সংবাদ মাধ্যম সম্প্রতি জানিয়েছে যে, মায়ানমারের প্রাক্তন রাজধানী ইয়াঙ্গুনসহ ওই দেশের বিভিন্ন এলাকার সীমান্তের চোরাপথে চীন থেকে কৃত্রিম ডিম পাচার হয়ে আসছে, যা দেখতে অবিকল হাঁস-মুরগির ডিমের মতই এবং চোরাপথেই সেই সব ডিম আবার মায়ানমার থেকে ভারত-সহ আশপাশের অন্যান্য দেশেও পাচার হয়ে সে সব দেশের মানুষের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে!

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সাল থেকেই তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম ডিম। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য ইন্টারনেট জার্নাল অফ টক্সোকোলজি’তে কৃত্রিম ডিম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাতে অবশ্য একথাও বলা হয়েছে যে, কৃত্রিম ডিমে কোনও খাদ্যগুন নেই, নেই কোনও প্রোটিনও। বরং তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। চীনে তৈরি হওয়া এসব কৃত্রিম বা নকল ডিম এক কথায় বিষাক্ত। কৃত্রিম ডিম তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট, স্টার্চ, রেসিন, জিলেটিন মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এই ধরনের ডিম খেলে স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। ক্যালসিয়াম কার্বাইড ফুসফুসের ক্যান্সারসহ জটিল রোগের কারণ।

 নকল ডিম চেনার উপায়:

  • কৃত্রিম ডিম অনেক বেশি ভঙ্গুর। এর খোসা অল্প চাপেই ভেঙে যায়।
  • এই ডিম সিদ্ধ করলে কুসুম বর্ণহীন হয়ে যায়।
  • ভাঙার পর আসল ডিমের মতো কুসুম এক জায়গায় না থেকে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
  • কৃত্রিম ডিম আকারে আসল ডিমের তুলনায় সামান্য বড়।
  • এর খোলস খুব মসৃণ হয়। খোসায় প্রায়ই বিন্দু বিন্দু ফুটকি দাগ দেখা যায়।
  • রান্না করার পর এই ডিমে অনেক সময় একটা বাজে গন্ধ পাওয়া যায় অথবা কোন গন্ধই পাওয়া যায় না। ফলে আসল কুসুমের যে একটা পরিচিত গন্ধ সেটা পাওয়া যায় না ।
  • নকল ডিমকে যদি আপনি সাবান বা অন্য কোন তীব্র গন্ধ যুক্ত বস্তুর সাথে রাখেন, ডিমের মাঝে সেই গন্ধ ঢুকে যায়। রান্নার পরেও ডিম থেকে সাবানের গন্ধই পেতে থাকবেন।
  • নকল ডিমের আরেকটি উল্লেখ্য যোগ্য লক্ষণ হলো ডিম দিয়ে তৈরি খাবারে এটা ডিমের কাজ করে না। যেমন পুডিং বা কাবাবে ডিম দিলেন বাইনডার হিসাবে। কিন্তু রান্নার পর দেখবেন কাবাব ফেটে যাবে, পুডিং জমবে না।
  • নকল ডিমের আকৃতি অন্য ডিমের তুলনায় তুলনামূলক লম্বাটে ধরণের হয়ে থাকে।
  • নকল ডিমের কুসুমের চারপাশে রাসায়নিকের পর্দা থাকে বিধায় কাঁচা কিংবা রান্না অবস্থাতে কুসুম সহজে ভাঙতে চায় না।

নকল চাউল:

এবার আলু এবং মিষ্টি আলুর সাথে প্লাষ্টিকের মিশ্রণ ঘটিয়ে চীনে তৈরী হচ্ছে নকল চাউল। যে চাউল খেলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে মানুষ মুত্যুর সম্মুখীন হওযাও বিচিত্র নয়। শুধুমাত্র বাড়তি মুনাফার লোভে চীনের প্রতারক চক্র এমন মানব ঘাতী কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়েছে যা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য।

ইতোমধ্যে তারা ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, মায়ানমার, ভিয়েতনাম ও ভারতের বাজারে স্বল্প মূল্যে এই চাউল সরবরাহের মাধ্যমে চাউলের বাজার দখল করার এক ঘৃণ্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ও এমন বিপদের আশংকা থেকে মুক্ত নয়। খবরে প্রকাশ, দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চাউল ব্যবসায়ীগণও আসল ও নকল চাউল পাশাপাশি রেখেও আসল-নকল চিহ্নিত করতে অপারগ। এমনকি রান্না করার পরও বোঝা মুসকিল শুধু কিঞ্চিৎ স্বাদের তারতম্য ছাড়া!

তবে আশার কথা, আগুনের আঁচে ধরলে আসল চাউল যেমন পুড়ে যাবে, প্লাষ্টিকের চাউল তদ্রুপ পুড়ে না গিয়ে বরং প্লাষ্টিকের মত গলে গিয়ে দলা ধরে যাবে ।

এরপর আমাদের জন্য বিজ্ঞানের আর কী আশীর্ব্বাদ(!) অপেক্ষা করছে, আল্লাহতা’লাই ভাল জানেন।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Fake, Rice, Egg, china, health, risk, Corrupt, Enemy, Market, food