সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

hiroshima-nagasaki.jpg

৬ আগস্ট হিরোশিমা দিবস শান্তির সারস উড়ুক সারাবিশ্বে

পারমাণবিক বোমা ফেলার পর নিহত ১ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষের স্মরণে হিরোশিমা শান্তি দিবস উদযাপিত হয়। হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে ৭০ হাজার ও পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয়তার জন্য আরো ৭০ হাজার লোক মারা যায়।

১৯৪৫ সালের আজকের এইদিনে সকাল ৮ টা ১৫ মিনিটে লিটল বয় নামক পারমাণবিক বোমা ফেলা হয় জাপানের হিরোশিমায়। এটিই ছিল যুদ্ধে ব্যবহৃত প্রথম কোন পারমাণবিক বোমা। পারমাণবিক নামক অমানবিক বোমাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইনোলা গে, বি-২৯ বোমারু বিমান থেকে ফেলা হয়েছিল। পারমাণবিক বোমার শক্তি হিরোশিমা শহরকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। ৯ আগস্ট নাগাসাকি শহরে ফেলা হয় ফ্যাট ম্যান নামক আরেকটি পারমাণবিক বোমা। মানব জাতির ইতিহাসে ঘৃণ্য ও ন্যাক্কারজনক ইতিহাস রচিত হয়েছিল সেদিন।

পারমাণবিক বোমা ফেলার পর নিহত ১ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষের স্মরণে হিরোশিমা শান্তি দিবস উদযাপিত হয়। হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে ৭০ হাজার ও পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয়তার জন্য আরো ৭০ হাজার লোক মারা যায়। প্রতিবছর পারমাণবিক অস্ত্রপাতির ব্যবহার রহিতকরণ ও শান্তি আনয়নের প্রত্যাশায় দিবসটি পালিত হয়। নিহতদের স্বজনরা দিবসটি উদযাপনে একত্রিত হয়। এবছর বিষাদময় ঘটনার ৭০ বছর পূর্তি। আমাদের দেশেও বিভিন্ন সংগঠন, বাংলা একাডেমী দিবসটি পালন করে থাকে।

দিনটিতে হিরোশিমার মেয়র বিশেষ শান্তি ঘোষণা করে থাকেন। তার এই ঘোষণা বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশের নেতাদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হয় যাতে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার রহিত হয়। ঠিক সকাল ৮ টা ১৫ মিনিটে শান্তির ঘন্টা বাজানো হয়। সারা শহরের মানুষ এক মিনিট নিরবতা পালন করে থাকে।

সাডাকো সাসাকি নামের একটি ২ বছরের মেয়ে বোমা হামলার পরও বেঁচে ছিল। বোমার তেজস্ক্রিয়তার জন্য দশ বছর বয়সে লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়। সাডাকো একটি জাপানি গল্প বিশ্বাস করত। সে জানত যদি এক হাজার কাগজের সারস পাখি বানানো হয় তবে শ্রষ্টা তার একটি ইচ্ছা মঞ্জুর করবেন। তাই পাখি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং সুস্বাস্থ্য কামনার ইচ্ছাপোষণ করেছিল। সবগুলো পাখি তৈরির পূর্বেই সে মারা যায় এবং পরে তার স্কুলের বন্ধুরা বাকিগুলো বানিয়ে দেয়। শিশুটি বলেছিল, আমি তোমার পাখায় শান্তি লিখে দিব এবং তুমি সারাবিশ্বে উড়ে বেড়াবে।

হিরোশিমা শান্তি স্মৃতিসৌধ যাকে ‘এটমিক বোম ডোম’ বা ‘গেনবাকু ডোমু’ বলা হয় সেটি হিরোশিমা শান্তি স্মৃতিসৌধ পার্কের একটি অংশ। যা ১৯৯৬ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়।

প্রতিবছর হিরোশিমার শান্তি পার্কে সাডাকো ভাস্কর্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আনা হাজার হাজার কাগজের সারস পাখি ঝুলিয়ে দেয়া হয়। সারস পাখি এবং তার কথাটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় আমরা যাতে শান্তি নষ্ট না করি।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বিভিন্ন ইংরেজি পত্রিকা।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Hiroshima, Nagasaki, Atomic, Bomb, World, War, Japan, mankind, disaster, 1945