সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

bangladesh-chhitmahal.jpg

আজ ছিটমহলে নতুন সূর্যোদয়

বাংলাদেশের নতুন নাগরিকরা আনন্দের জোয়ারে ভাসলেও ভারত গমনেচ্ছুক কুড়িগ্রামের ১২ টি ছিটমহলের ৩১৭জনের মাঝে বিরাজ করছে বিষাদের ছায়া। এদের মধ্যে মুসলমান রয়েছে ১শ ৫৯ জন এবং হিন্দু রয়েছে ১শ ৫৮জন।

শুক্রবার রাত ১২ টা ১ মিনিটে ছিটের ৫১ হাজার মানুষের ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবনের অবসান হয়েছে। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত পাকিস্তান বিভক্তের রেডকিফ‘র মানচিত্র থেকে ১৬২টি ছিটমহল স্বাধীনতা পেয়েছে। ছিটের মানুষ আজ নতুন স্বাধীন সুর্যকে প্রান ভরে স্বাগত জানাচ্ছেন। এই দিনটিকে স্মরনীয় করে রাখতে দাসিয়ারছড়া ছিটমহলসহ সবগুলোতে তিন দিনের উৎসব ঘোষনা করা হয়েছে।

শুক্রবার রাত ১২টা ১মিনিটে জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিক ভাবে উত্তোলন করার কথা থাকলেও স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়ের রাতে পতাকা তোলার নিষেজ্ঞার কারনে শনিবার (আজ) সুর্যাদয়ের সাথেসাথে তোলা হয় লাল সবুজের পতাকা। অপরদিকে ৬৮ বছরের অন্ধকার জীবনের অবসান ঘটিয়ে ছিটের প্রতিটি বাড়ীতে ৬৮টি মোমবাতী জ্বালিয়ে স্বাধীন দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে আলোর পথে যাত্রায় ছিটবাসীরা।

ছিটের মানুস নানা সাজে সেজে নেচে গেয়ে অংশ নেন আতশবাজী ও ফানুস উড়ানো প্রতিযোগীয়। মসজিদ ও মন্দিরে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। অন্যদিকে নৌকা বাইচ, ঘোড়-দৌড়, লাঠি খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানান গ্রামীন খেলা অনুষ্টিত হয়। তৈরি করা হয় বিশাল মঞ্চ। ‘ছিটমহল আন্দোলন সংগ্রামের আতুরঘড়’ দেশের সবচেয়ে বড় দাসিয়ারছড়া ছিটমহল মুখরিত ছিল গণমাধ্যমকর্মী জনপ্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের মানুষজন। বাংলাদেশের নতুন নাগরিকরা আনন্দের জোয়ারে ভাসলেও ভারত গমনেচ্ছুক কুড়িগ্রামের ১২ টি ছিটমহলের ৩১৭জনের মাঝে বিরাজ করছে বিষাদের ছায়া। এদের মধ্যে মুসলমান রয়েছে ১শ ৫৯ জন এবং হিন্দু রয়েছে ১শ ৫৮জন।

বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি বাংলাদেশ ইউনিটের সভাপতি মঈনুল হক, সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান, আলোকসজ্জা, আতশবাজী, তোপধ্বনী, মোমবাতী প্রজ্জলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলা-ধুলাসহ উৎসব পালনের ৩ দিনের কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের ফল আমরা দু’দেশের সরকারের নিকট থেকে পেয়েছি। এ আনন্দের শেষ নেই। অতিকষ্টে মা সন্তান জন্ম দেয়ার পর সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে যে আনন্দ পায় সে আনন্দ আমরা ছিটবাসীরা পেয়েছি। ৩১ জুলাই মধ্যরাতে আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হবো। দিনটিকে স্মরনীয় করে রাখতে এসব আয়োজন করা হয়েছে। আমরা প্রতিবছর এদিনটিকে ছিটবাসীর মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করবো।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

chhitmahal, Bangladesh, India, Boarder, enclaves, nationality, Crisis, Treaty