সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

iranian-neclear-deal-2015.jpg

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি: শুরু হল নয়া যুগের সূচনা

অবশেষে ১৪ জুলাই ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে পরমাণু বিতর্কের আপাতত অবসান ঘটেছে। অনেকেরই প্রশ্ন কি এমন হল, যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু অধিকারই মানতে রাজি ছিল না তারা কেন শেষ পর্যন্ত ইরানের বিষয়টি মেনে নিল?

অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তি সই হল। যে চুক্তিকে কেউ বলছেন ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’, কারও মতে, ‘ঐতিহাসিক ভুল’। দু’পক্ষই বলছে এটি একটি ভারসাম্যমূলক চুক্তি এবং সবাই এতে ছাড় দিয়েছে, বিজয় হয়েছে সব পক্ষেরই। তবে, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে জঙ্গি-গোষ্ঠী আইএসআইএল (ভিন্ন নাম আইএস) এর দাপট যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি এক অন্য বার্তা বয়ে নিয়ে এল বলেই মনে করছেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সংকট চলছে প্রায় ১২ বছর ধরে। আর ইরান-মার্কিন বিরোধ গত প্রায় ৩৫ বছর ধরে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ শুধু পরমাণু কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। এ বিরোধের ইতিহাস অনেক পুরনো। সেই ১৯৭৯ সালে ইরানের ইমাম খোমেনির নেতৃত্বে এক বিপ্লবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের অন্যতম সেবাদাস, মিত্র রেজা শাহ পাহলভির পতনের মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল।  

যুক্তরাষ্ট্র সেই ১৯৭৯ সাল থেকেই ইরানের বর্তমান ইসলামী শাসন ব্যবস্থাকে উৎখাতের জন্য সব রকম চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। আর সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ঘায়েল করতে ব্যবহার করছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। এজন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাতিসংঘ কতশত অবরোধ আরোপ করেছে তার হিসাব নেই কিন্তু ইরানও পিছিয়ে ছিল না। ইরান শক্তি সামর্থ্যে বলিয়ান হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কখনই তেহরানে হামলা চালানোর সাহস পায়নি। যে ইরান প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংস কামনা করে সেই দেশের সাথে বিশ্বের একমাত্র সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্র কোনো সম্মানজনক সমঝোতায় বা চুক্তিতে উপনীত হবে - এটা ছিল কল্পনারও অতীত। 

যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোনো পরমাণু কর্মসূচিই চালাতে দিবে না বলে সংকল্প করেছিল এবং ইরানকে যে কোনো মূল্যে তার পরমাণু কর্মসূচি পরিত্যাগ করাতে বাধ্য করাবে, ‌আর ক’দিন পরপরই সামরিক হামলার হুমকি দিত সেই যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের পরমাণু কর্মসূচি মেনে নেওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইরানের এক মহাবিজয়। কিন্তু প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছে ইসরায়েল ও সৌদি আরব। সমঝোতার পরপরই নেতানিয়াহুর উক্তি - ‘এটা এক ঐতিহাসিক ভুল হয়েছে... এটা একটা খারাপ চুক্তি...। ইরানিরা যা চেয়েছে তাই পেয়েছে।’
 

যে কারণে চুক্তি করতে বাধ্য হল যুক্তরাষ্ট্র:

১. ইরানের শত্রু সাদ্দামকে তাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত দু:খের বিষয় সেই ইরাক এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে। ইরাক যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের কথাই বেশি শুনে।

২. আফগানিস্তান সরকারের সাথে ইরানের দহরম মহরমও কম নয় আর আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র এখন সম্মানজনক বিদায় চায় সেখানে ইরানের সহায়তা অবশ্যই দরকার।

৩. মধ্যপ্রাচ্যের সংকটগুলিতে ইরান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত যেমন জড়িত যুক্তরাষ্ট্র। এখানে ইসরায়েল ও সৌদিও খেলোয়াড়। তবে তারা উভয় ইরানের কাছে পরাজিত হয়েছে বিশেষ করে সিরিয়া, হামাস ও হিজবুল্লাহ’র কাছে যাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরান।

৪. যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থাও ভাল না। ওবামা নিজেই বলেছেন, ইরানের সাথে আমাদের হয় সমঝেতা নয় যুদ্ধ এ দু’টির যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা অনবরত সরকারের ওপর চাপ দিয়ে যাচ্ছে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করতে।  

৫. বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য আর আগের মত নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ইরান বিরোধী অবরোধও খুব একটা কাজে আসছে না বরং যে ক্ষেত্রেই ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ করা হয়েছে সে ক্ষেত্রেই ইরান স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ইরানকে ঠেকানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না। এছাড়া, মার্কিন ও ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলো ইরান ঢোকার জন্য তাদের নিজ নিজ সরকারকে চাপ দিচ্ছে।

৬. ইরানের সামরিক শক্তি দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আপোষের অন্যতম বড় কারণ। কেননা যুক্তরাষ্ট্র ভালো করেই উপলব্ধি করেছিল হামলা চালিয়ে ইরানকে কিছুতেই কাবু করা যাবে না।

পরমাণু চুক্তিতে ইরানের লাভ: 

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ি যে রেড লাইন বেঁধে দিয়েছিলেন চুক্তিতে সকল রেড লাইন মেনে নেয়া হয়েছে। পশ্চিমারা দাবি করছিল ইরানের ফোরদো পরমাণু স্থাপনা বন্ধ করতে হবে কিন্তু চুক্তিতে সে দাবিও তাদের অর্জিত হয়নি। পশ্চিমারা দাবি করেছিল ইরানের সামরিক ক্ষেত্রগুলোতেও পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে কিন্তু পশ্চিমাদের সে দাবিও অর্জিত হয়নি। পশ্চিমারা দাবি করেছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা বিশেষ করে ইরানের মিসাইল সক্ষমতা আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে সে দাবিও ইরান বরাবরই নাকচ করেছে। এমনকি পরমাণু বিজ্ঞানীদের সাক্ষাতের নামে জিজ্ঞাসার অনুমতিও দেয়নি ইরান যা পশ্চিমাদের অন্যতম একটি দাবি ছিল। অন্যদিকে পরমাণু চুক্তির ফলে ইরানের ওপর থেকে উঠে যাবে সব নিষেধাজ্ঞা। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে জব্দ করা ১০,০০০ কোটি ডলার দেশে ফিরে আসবে আর ফের চালু হবে ব্যাংকিং লেনদেনও। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সিবিআই, শিপিং লাইন্স, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ওয়েল কোম্পানি বা এনআইওসি'সহ অন্য ৮০০ সংস্থা এবং ব্যক্তির ওপর থেকেও সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে।

এরই মধ্যে বিদেশের শত শত কোম্পানির প্রতিনিধিরা ইরানে আসতে শুরু করেছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত অ্যাপেল, জেনারেল মটরস্‌ ও যাত্রীবাহী বিমান কোম্পানিও ইরানে তাদের ব্যবসার চিন্তাভাবনা করছে। এ ছাড়া, ইরান ঘোষণা করেছে, পরমাণু চিকিৎসার জন্য তারা পশ্চিম এশিয়ায় নজিরবিহনী হাসপাতাল গড়ে তুলবে। এই হাসপাতালে পারমাণবিক রশ্মির বিকিরণসহ নানা সাজ-সরঞ্জাম থাকবে রোগীদের জন্য। পাশ্চাত্য প্রথমে ইরানের সমস্ত পরমাণু কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানালেও এবং চুক্তির ফলে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমিয়ে আনা হলেও শান্তিপূর্ণ পরমাণু গবেষণা ও এর উন্নয়নের কাজ অব্যাহত থাকবে। অত্যাধুনিক আইআর-৬ এবং আইআর-৮'সহ সব ধরণের সেন্ট্রিফিউজের উন্নয়ন তৎপরতাও অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, পরমাণু চুক্তি পাশ্চাত্যের জন্য কতটুকু লাভ হয়েছে তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার ফলে পাশ্চাত্যেও অনেক লাভ হয়েছে। কারণ এর ফলে ইরানের পরমাণু বোমা তৈরির আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তবে ওবামার এ দাবি সম্পর্কে বলা যায়, ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বহু আগেই পরমাণু অস্ত্রকে ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছিলেন। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চুক্তির বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেছেন, যখন ৯৯% বিশ্ববাসী এবং বেশিরভাগ পরমাণু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন এ সমঝোতার ফলে ইরানকে পরমাণু বোমা তৈরি থেকে বিরত রাখা যাবে তখন আপনারা তার উল্টো বলছেন। তাহলে আপনারা এর বিকল্প কোনো পন্থা প্রস্তাব করুন। ওবামা বলেন, ইরানের পরমাণু ইস্যুতে দু’টি পথ খোলা ছিল। হয় আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক পন্থায় এর সমাধান অথবা সংঘাত। ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতায় না গেলে মধ্যপ্রাচ্যে  আরো বেশি সংঘাত ও রক্তপাত হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন। বারাক ওবামা বলেন, কংগ্রেসের উচিত হবে বাস্তবতার ভিত্তিতে ইরানের পরমাণু সমঝোতার পক্ষে রায় দেয়া, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে নয়। মার্কিন কর্মকর্তারা এও বলছেন, ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা আরো নিশ্চিত হবে। 

পরমাণু চুক্তির ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া:

রুহানি: ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, তার দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কখনোই সফল হয় নি এবং প্রতিরোধই পরমাণু আলোচনায় ইরানি জাতির বিজয় নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, ইরান, ইরানে ইসলামী বিপ্লব এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি আজ ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের কোনো কোনো বলদর্পী শক্তি গত ১২ বছর ধরে ইরানকে নিয়ে একটি ঘোরের মধ্যে ছিল কিন্তু এখন ইতিহাসের নতুন একটি পাতা খোলা হয়েছে এবং নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তিনি বলেন, অন্য পক্ষ যদি চুক্তি মেনে চলে তাহলে ইরানও এর প্রতি সম্মান দেখাবে। প্রেসিডেন্ট বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে হুমকি দেয়ার যুগ শেষ হয়ে গেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী পরমাণু আলোচক দলের কঠোর পরিশ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও  ইরানের সংসদে পরমাণু সমঝোতাপত্র  অনুমোদিত হোক বা না হোক ইরান কখনোই তার আঞ্চলিক বন্ধুদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করবে না। ইরানকে আত্মসমর্পণ করানোর মার্কিন স্বপ্ন কখনোই বাস্তবায়িত হবে না বলেও জানান সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, পরমাণু ক্ষেত্রে সমঝোতা হলেও যুক্তরাষ্ট্রকে কখনো বিশ্বাস করা যায় না এবং ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে কাউকে নাক গলানোর সুযোগ দেয়া হবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির ফলে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক কিংবা ইরানের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক এমনকি দ্বিপক্ষীয় কোনো বিষয় নিয়ে ইরান আলোচনা করবে না। যদিও ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এ ধরণের কড়া মন্তব্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

ওবামা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, পরমাণু ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর যে চূড়ান্ত সমঝোতা  হয়েছে তার পেছনে গোটা বিশ্বের সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গত দুই বছরের আলোচনায় যা অর্জন করেছে কয়েক দশকের শত্রুতার মাঝ দিয়ে তা অর্জন করা যায় নি। প্রেসিডেন্ট ওবামা জোর দিয়ে বলেছেন, এ চুক্তি বা সমঝোতার বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেস যদি কোনো বিল আনে তাহলে তাতে আমি ভেটো দেব।”তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “কোনো চুক্তি না হওয়া মানেই হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে আরো বড় যুদ্ধের আশংকা থাকা।

বাশার আল আসাদ: সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যকার পরমাণু চুক্তিকে ‘বিরাট বিজয়’বলে মন্তব্য করেছেন। বাশার আসাদ হচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে পাঠানো বার্তায় প্রেসিডেন্ট আসাদ বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর মাধ্যমে ইরান বিরাট বিজয় অর্জন করেছে এবং তাতে আমি খুশি হয়েছি। অন্য এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট আসাদ ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানিকে বলেছেন, সিরিয়ার জনগণের পক্ষ থেকে আমি আপনাকে ও ইরানের জনগণকে এই ঐতিহাসিক অর্জনে অভিনন্দন জানাচ্ছি। বাশার আসাদ আরো বলেছেন, এ চুক্তি ইরান, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হবে।

লিন্ডসে গ্রাহাম: ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার তীব্র বিরোধী মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, পরমাণু ইস্যুতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর চুক্তি ইসরাইলের জন্য মৃত্যুদণ্ডের সমান। তিনি দাবি করেছেন, এ চুক্তির ফলে সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে। ইরানের সঙ্গে চুক্তির পরপরই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ভূমিকার সমালোচনা করেছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে তাদের অনুসৃত নীতিরও তীব্র সমালোচনা করেন লিন্ডসে গ্রাহাম। এমএসএনবিসি-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসরাইল: ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পরমাণু ইস্যুতে চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের পর ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবি করেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ। তিনি বলেছেন, কয়েক বছর ধরে আপনি বলেছেন কেবল আমিই পারি ইরানের পরমাণু চুক্তি প্রতিরোধ করতে কিন্তু এখন তো চুক্তি হয়ে গেল। এর দায়ভার আপনার এবং আপনি পদত্যাগ করুন। নেতানিয়াহুর ইরান-বিরোধী কূটনৈতিক প্রচারণার সমালোচনা করে তিনি একে তার বিশাল ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেন।

ইউরোপ: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যকার পরমাণু চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দৃশ্যপট পাল্টে দিতে পারে - এ কথা বলেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি। তিনি বলেন, এ চুক্তি বিশ্বের জন্য আশার প্রতীক বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য যেখানে এমন আশা খুব বেশি প্রয়োজন কারণ এ অঞ্চল উগ্রবাদ ও যুদ্ধে পরিপূর্ণ। মোগেরিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সহিংসতা ও সংঘাত পুরো বিশ্বের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। তবে আজকের শিক্ষা হচ্ছে কূটনীতিই পারে কয়েক দশকের সংকট ও উত্তেজনাকে দূর করতে।

বন্দর বিন সুলতান: সৌদি প্রিন্স ও সাবেক গোয়েন্দা প্রধান বন্দর বিন সুলতান ইরানের সাথে ছয় বিশ্বশক্তির পরমাণু চুক্তিকে তাদের জন্য ধ্বংসাত্মক হিসাবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, সৌদি আরব তাঁর আরব মিত্রদের সাথে নিয়ে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলিতে হামলা করে ধ্বংস করতে বদ্ধ পরিকর।

সার্বিক বিবেচনায় বলা যায়, ছয় জাতিগোষ্ঠী নিঃসন্দেহে ইরানের কাছে মাথানত করেছে। মিথ্যা দাবির ভিত্তিতে ইরানের উন্নয়ন ও অগ্রগতি থামিয়ে দেয়ার জন্য জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে ইরানের ওপর যে অন্যায় নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে ভিয়েনা চুক্তির পর ওই নিষেধাজ্ঞা থেকে ইরানের বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু অধিকার রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাসীকেও এটা দেখিয়ে দিয়েছে যে, ন্যায্য অধিকার রক্ষায় তারা বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। ইরান দীর্ঘ আলোচনায় এটাই তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়েছে যে, তারা কোনো হুমকি ও নিষেধাজ্ঞার কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। কারণ সত্যিকারের মুসলমান অন্যায় ও জুলুমের কাছে মাথা নত করতে জানে না - তারা মাথা নত করবে শুধু আল্লাহর কাছে।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

iran, nuclear, deal, USA, russia, china, EU, economical, Middle-East, israel