সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

ঠেকে শেখা

জেনে রাখুন, সাবধান থাকুন

ইতালি আসতে চান? তাহলে অবশ্যই পড়ুন!



shamim ১৬ এপ্রিল ২০১৫, ০৩:১১


সাধারণ স্পন্সরে আসলে আপনি কাজ পান বা নাই পান কিন্তু আপনি এখানে এসে কম করে হলেও ১-২ বছরের ওয়ার্ক পারমিট পাবেন এবং সেটি দিয়ে আপনি চাইলে ইউরোপের অন্যান্য যে কোন দেশ ভ্রমন করতে পারবেন, সাথে বাংলাদেশেও ঘুরে আসতে পাড়বেন। এছাড়াও আপনি এখানের স্কুলে ভর্তি হয়ে ইতালীয়ান ভাষা শিখে কাজ খোঁজার জন্য চেষ্টা করতে পাড়বেন (যদিও বর্তমানে নরমাল স্পন্সরে ইতালি আসাটা মহামারী কিছু না)।

তার মধ্যে যদি কেউ কৃষি কাজের স্পন্সরে আসেন তাহলে তো তার কান্না আর আফসোস ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। উনি এখানে এসে কোন কাজ পাবেন না এবং তার কোন বৈধ কাগজপত্র থাকবে না। সে চাইলেও দেশে যেতে পারবেনা, যদি যেতে চায় তাহলে একবারের জন্য চলে যেতে হবে এবং আরো অনেক সমস্যায় পড়বে।

এগ্রিকালচার সিজনাল বা কৃষি ভিসা দালালরা দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা দিয়ে ক্রয় করে এবং তা পাঁচ থেকে  দশ লক্ষে বিক্রি করে। ইতালীতে আসার আগে দালালরা বলে মাসে বাংলার এক লক্ষ টাকা রোজগার আছে কিন্তু এখানে সবই ভুয়া। প্রধান সমস্যা এখানে বর্তমানে দুই তিন বৎসর ধরে কোন ধরনের কাজই পাওয়া যায়না। তাই ইতালীতে এসে নিজের মুল্যবান জীবন ও সময় নষ্ট করবেন না। তার সাথে বলতে চাই এই সব দালালরা দেশের শত্রু, জাতির শত্রু, মানুষের শত্রু। বরং সাবধান হয়ে নিজে বাঁচুন ও আপনার বন্ধুদেরকে ও বাঁচান।

আসলে খুব খারাপ লাগে যখন এখানকার নিরুপায় ভাইদের সাথে কথা বলি। তারা অনেক স্বপ্ন নিয়ে এখানে আসে, আসার পর বুঝতে পারে যে জীবনের সবচাইতে বড় ভুল করে ফেলেছে যা থেকে ফিরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। অনেকের কাছে শোনা যায় যে ইতালীতে আসার জন্য তাদের একমাত্র মাথা গুজার শেষ সম্বল ভিটেবাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে এসেছে। আর এখানে এসে হয়ে যাচ্ছে সম্পূর্ণ নিঃস্ব। না পারছে দেশে ফিরতে, না পারছে এখানে কিছু করতে। কি যে এক ভয়াবহ অবস্থায় তারা আছে তা একমাত্র তাদের সাথে কথা বলেই বোঝা যায়। এতে কিছু সংখ্যক দালাল হয়ে যাচ্ছে লাখপতি আর অসহায়রা হারাচ্ছে সব। কাজেই আমরা একটু সচেতন হলেই পারি এই চক্রের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে। আর এটি আমাদের সবার দায়িত্ব।

এখানে আর একটি কথা না বললেই নয় যে শুধু দালালদের দোষ দিলে ভুল হবে। কেননা এই স্পন্সরের মাধ্যমে ইতালির সরকার আমাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি ইউরো যা আমরা সাধারণ জনগন বুঝতে পারি না। যেমন ইতালিতে আগে মানুষ বাই পথে বর্ডার পারি দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে আসতো, সরকার নানা ভাবে চেষ্টা করেও এটি বন্ধ করতে পারেনি। তাই তারা চুক্তি করে বৈধভাবে ইতালিতে জনগন আনার ব্যবস্থা করে। এতে লুকায়িত আছে তাদের পরিকল্পিত চিন্তা যা জনগন বুঝতে পারে না।

এতে ওদের যা যা লাভ হয়:

  • যখন কেউ বৈধভাবে ইতালিতে আসতে পারবে তখন কেউ আর বর্ডার পাড়ি দিয়ে আসবে না। এতে করে তাদের আর এই ব্যাপার নিয়ে চিন্তা করতে হবে না, বর্ডারে আর্মিরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবে।
  • ইতালিতে ইতালিয়ানরা কর্মীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেয় ঠিকই কিন্তু সরকারকে পরিপূর্ণ ট্যাক্স দিতো না, আর তাই তারা এই বৈধভাবে লোক আনার কথা চিন্তা করে এবং তারা শর্ত দিয়ে দেয় যে বাংলাদেশ থেকে কাউকে আনতে হলে সম্পূর্ণ ট্যাক্স জমা দিতে হবে অন্যথায় আনতে পারবে না। কাজেই ইতালিয়ান মালিকদের দালাল সহ সবাই টাকার লোভ দিয়ে বলে তুমি আমার লোক এনে দাও যত ট্যাক্স হয় তা আমি দিব। এতে করে সরকার আমাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা যা আমরা বুঝেও বুঝতে পারছি না।
  • ইতালিতে একসময় বাংলাদেশীদের আলাদা মূল্যায়ন ছিল। কেননা লোক সংখ্যা কম তাই যথাযথ মূল্যে কাজ করে পারিশ্রমিক পাওয়া যেত। কিন্তু তারা চিন্তা করে দেখলো যদি বৈধভাবে আরো  বিদেশী আনা যায় তাহলে আমাদের দেশের ইতালিয়ান মালিকরা তাদের ইচ্ছা মতো কম পারিশ্রমিকে লোক কাজে লাগাতে পারবে। এতে লাভবান হচ্ছে তাদের দেশের ইতালিয়ান মালিক পক্ষ আর সমস্যায় পড়ছে অসহায় বাংলাদেশী নাগরিক।
  • এই স্পন্সর জমা দেওয়া নিয়েও তারা করে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ ইউরোর ধান্দা। যেমন - ওরা প্রতি স্পন্সর ঘোষণা দেওয়ার সময় কোঠা উল্লেখ করে দেয় যে বাংলাদেশ থেকে ২০০০ হাজার লোক কে তারা কাগজ দিবে, কিন্তু এখানে আবেদন জমা পড়ছে ৫ লাখেরও বেশী। উল্লেখ্য, এই আবেদন ১৫০০ টাকা দিয়ে জমা দিতে জমা দিতে হয় এবং এটি ফেরত যোগ্য নয়। কাজেই যারা জমা দেয় তারা চিন্তা করে যাক আমার না হয় ১৫০০ টাকায় যাবে - পেলে পাবো না পেলে নাই। কিন্তু আমরা এটা চিন্তা করি না যে এই ১৫০০ টাকা ৫ লক্ষ দিয়ে গুন করলে কত হয়।
  • তারা খুব ভালো করে চিন্তা করেই এই কাজগুলো করছে। তারা মজা পেয়ে গেছে আর তাই তারা এখন প্রতি বছর এই স্পন্সর ও ইতালিতে থাকা অবৈধ লোকদের বৈধ করার জন্য আইন পাস করে যাচ্ছে। কেননা ওরা জানে এতে করে এক সময় প্রচুর বিদেশী এসে জমা হবে এবং যখন তারা কাজ পাবেনা, খেতে পারবে না এবং নানান সমস্যায় ভুগে নিজে থেকেই হয় তাদের দেশে ফিরে যাবে বা ইতালি ত্যাগ করবে।

তারা তাদের পুলিশ প্রশাসনকে তৎপর করে দিয়েছে যাতে কেউ চাইলেও কোন অন্যায় কাজ করতে না পারে। এক কথায় ওরা খুব সুন্দরভাবে বুদ্ধি খাটিয়ে এই কাজগুলো করে যাচ্ছে। কেননা একই সাথে তারা জাতিসঙ্ঘের কাছেও ভালো থাকছে এ বলে যে, দেখো আমরা কত মহৎ হৃদয়ের যে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় একমাত্র আমরাই বিদেশীদের নিয়ে ভাবছি।

ও এখানে আরো একটা কথা তো বলতে ভুলেই গিয়েছি - এই যে প্রতি বছর স্পন্সর ও বৈধ করার নাম নিয়ে ওরা যে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তা কোথা থেকে আসছে? এই টাকা আমাদের সম্পদ যা আমাদের প্রবাসী ভাইরা নানান দেশ থেকে নিজের পায়ের ঘাম মাথায় ফেলে অর্জন করছে। এই টাকা আমাদের দেশে ঢোকার কথা, কিন্তু দুঃখের বিষয় এই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ওরা। কেননা যখনি কোনো স্পন্সর বা বৈধ করার কোথা শোনা যায় তখনি আমরা আমাদের ভাইবোনদের কাছে আবদার করে বসি - ভাই যেভাবেই হোক আমাকে ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে না হলে আমি কাগজ পাবনা। আর আমাদের ভাইবোনেরাও তাদের ভাইয়ের কথা ফেলতে না পেরে তারা ইংল্যান্ড, আমেরিকাসহ বিশ্বে যে যেখানে আছে সেখান থেকে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছে।

তাহলে কি দাঁড়ালো, এভাবে ইতালীতে পুরো বিশ্ব থেকে টাকা তাদের ফান্ডে জমা হচ্ছে। তারা আরো অনেক ভাবে অত্যাচার করছে প্রবাসীদের প্রতি। তাই আমার একটাই কথা জেগে উঠো বাংলাদেশ। নিজের বুদ্ধি কাজে লাগাও, আর সবাইকে জানিয়ে দাও আমিও পারি। এক কথায় জেগে উঠো বাংলাদেশ।

ভালো লাগলে সবার সাথে শেয়ার করে জানিয়ে দিন কেননা এটি আপনার, আমার ও আমাদের সবার দায়িত্ব। আপনার এই কাজটির জন্য হয়তো বেঁচে যাবে অনেকের জীবন। 

ধন্যবাদ।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Italy, Sponsor, visa, work-permit, legal, travel, crime, problem, Bangladesh


ঢাকার নামকরণের ইতিহাস এবং প্রাসঙ্গিক ঐতিহাসিক ঘটনাবলী

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোঘল-পূর্ব যুগে কিছু গুরুত্বধারন করলেও শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করে মোঘল যুগে। ঢাকা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট করে তেমন কিছু জানা যায় না। এ সম্পর্কে প্রচলিত মতগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ: ক) একসময় এ অঞ্চলে প্রচুর ঢাক গাছ (বুটি ফুডোসা) ছিল; খ) রাজধানী উদ্বোধনের দিনে ইসলাম খানের নির্দেশে এখানে ঢাক অর্থাৎ ড্রাম বাজানো হয়েছিল; গ) ‘ঢাকাভাষা’ নামে একটি প্রাকৃত ভাষা এখানে প্রচলিত ছিল; ঘ) রাজতরঙ্গিণী-তে ঢাক্কা শব্দটি ‘পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে অথবা এলাহাবাদ শিলালিপিতে উল্লেখিত সমুদ্রগুপ্তের পূর্বাঞ্চলীয় ...

১৮৬৯ এর আগে শরীয়তপুর জেলা বৃহত্তর বিক্রমপুর এর অংশ ছিল

জেলা হিসেবে ১৯৮৪ সালে আত্মপ্রকাশ করলেও এ অঞ্চলটি সৃষ্টির প্রথম হতেই বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় সকল ব্যাপারেই বিকশিত হতে থাকে। ইতিহাসের আদিকাল হতেই বিভিন্ন সামন্ত প্রভু ও রাজা দ্বারা এ অঞ্চল শাসিত হয়ে এসেছিল। আদিকালে শরীয়তপুরের এ অঞ্চল ‘বংগ’ (Vanga) রাজ্যের অধীনে ছিল। ‘বংগ’ পদ্মা নদীর দক্ষিণে বদ্বীপ অঞ্চলে বিস্তৃত তৎকালীন রাজ্যের নাম। এটি তৎকালীন ভাগীরথী এবং পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্র নদীর দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে বিস্তৃত অঞ্চল। দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের (৩৮০ খৃঃ - ৪১২ খৃঃ) রাজত্বকালে প্রখ্যাত কবি কালিদাসের ‘রঘুবানসা’ গ্রন্থে তিনি এ অঞ্চলকে গঙ্গানদীর প্রবাহে...