সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

World-Zoonoses-Day.jpg

৬ জুলাই বিশ্ব সংক্রামক রোগ দিবস ২০১৫

মানুষ সাধারণত পোল্ট্রী, সরীসৃপ, রোডেন্ট বা গর্তবাসী প্রাণি, উভচর প্রাণি, কীটপতঙ্গ, শামুক, গৃহপালিত ও বন্য প্রাণি ইত্যাদি দ্বারা আক্রান্ত হন। যারা যত বেশি প্রাণির সংস্পর্শে আসেন বা থাকেন তাদেরই আক্রান্ত হবার সম্ভাবণা তত বেশি।

প্রতি বছর ৬ জুলাই বিশ্ব সংক্রামক রোগ দিবস (World Zoonoses Day) পালিত হয়। জুনোসিস (Zoonosis) শব্দটি গ্রীক শব্দ Zoon যার অর্থ প্রাণি এবং Nosos অর্থাৎ ব্যাধি বা রোগ থেকে এসেছে। সাধারণত যে সকল রোগ প্রাণি থেকে প্রাণি, প্রাণি থেকে মানুষ, মানুষ থেকে মানুষ বা মানুষ থেকে প্রাণিতে গিয়ে রোগ সৃষ্টি করে তাকে সংক্রামক রোগ বলে। ওয়ার্ল্ড হেল্‌থ অরগানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) মতে সারা বিশ্বে ২০০ টিরও অধিক সংক্রামক রোগ রয়েছ। দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য হল মানুষকে এই সকল রোগ সম্পর্কে সচেতন করা এবং সমস্যার সমাধান করা।

মানুষকে আক্রান্ত করে এমন শতকরা ৭০ ভাগেরও অধিক রোগ প্রাণি থেকে আসে। সাধারণত নিম্নোক্ত শ্রেণীর লোকের মাঝে সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়াতে পারে।

  • বন্য প্রাণি নিয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তি।
  • ভেটেরিনারিয়ান বা প্রাণিচিকিৎসক।
  • প্রাণি ও পরিবেশবিদ।
  • প্রাণি ও পাখি পালনকারি সাধারণ মানুষ।

মানুষ সাধারণত পোল্ট্রী, সরীসৃপ, রোডেন্ট বা গর্তবাসী প্রাণি, উভচর প্রাণি, কীটপতঙ্গ, শামুক, গৃহপালিত ও বন্য প্রাণি ইত্যাদি দ্বারা আক্রান্ত হন। যারা যত বেশি প্রাণির সংস্পর্শে আসেন বা থাকেন তাদেরই আক্রান্ত হবার সম্ভাবণা তত বেশি।

সংক্রামক রোগগুলো সাধারণত সরাসরি কিংবা বাহকের মাধ্যমে ছড়ায়। আমাদের দেশে পরিচিত বাহকগুলো হল মশা, মাছি, আঁটুলি, বাদুড়, পাখি ইত্যাদি। বাহকগুলো রোগ ছড়ানো ছাড়াও আবার সরাসরি ক্ষতিও করতে পারে।

আমাদের অতিপরিচিত সংক্রামক রোগগুলোর মাঝে রয়েছে সালমোনেলোসিস, যক্ষা, জলাতংক বা র‌্যাবিস, অ্যান্থ্রাক্স বা তড়কা রোগ, নিপাহ, ইবোলা, বার্ড ফ্লু, দাঁদ, চুলকানি, প্লেগ, বিভিন্ন ধরনের কৃমিজনিত রোগ, খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ ইত্যাদি।

সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হলে অর্থ ও জীবন উভয়েরই ক্ষতি হতে পারে। সাধারণত নিম্নোক্ত শ্রেণীর লোকেরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

  • ৫ বছরের কম ও ৬৫ বছরের অধিক বয়স্ক ব্যক্তি।
  • গর্ভবতী মহিলা।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তি। যেমন: এইচআইভি আক্রান্ত ও কেমোথেরাপি নিচ্ছেন এমন ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি।

সংক্রামক রোগ থেকে বাঁচতে হলে আমাদের কিছু নিয়মনীতি মেনে চলা উচিৎ। তাহলেই রোগগুলো কম ছড়াবে। আবার কঠিন হলেও কিছু রোগ পুরোপুরি ছড়ানো বন্ধ করা যাবে।

  • আক্রান্ত প্রাণি থেকে দূরে থাকুন।
  • সাবান, পভিডন আয়োডিন, স্যাভলন ইত্যাদি দিয়ে ভালভাবে হাত পরিষ্কার করুন।
  • অসুস্থ প্রাণি ধরতে গ্লোভস ব্যবহার করুন। বিশেষত সংক্রামক রোগাক্রান্ত প্রাণি।
  • পতঙ্গের কামড় থেকে নিজকে নিরাপদ রাখুন।
  • আপনার শিশু, প্রাণি ও আপনার শরীরে আঁটুলি থাকলে যথাযথ উপায়ে সরিয়ে ফেলুন।
  • মাছ, মাংস ডিম অধিক সিদ্ধ করুন। কাঁচা ফলমূল, সবজি পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে খাবেন।
  • পাখি বা প্রাণি খেয়েছে এমন ফল খাবেন না (বাদুড়ে খাওয়া আম, কলা ইত্যাদি)।
  • পোষা প্রাণি যেমন কুকুর, বিড়াল ইত্যাদির টিকা নিন।
  • ভেটেরিনারিয়ান বা প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আমরা ইতোমধ্যেই জানলাম সংক্রামক রোগ ছড়ায় প্রাণি থেকে। তাই প্রাণির রোগ প্রতিরোধ করেই মানুষের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। একজন প্রাণিচিকিৎসক খুব সহজেই বুঝতে পারেন কোন সংক্রামক রোগ কিভাবে মানুষে ছড়ায়। পাশাপাশি তারা জানেন সেই রোগটার জন্য কি ব্যবস্থা নিলে তা আর মানুষে ছড়াবে না। হিউম্যান ডাক্তাররা এসব বিষয়ে প্রাণিচিকিৎসকদের থেকে কমই জ্ঞান রাখেন। উন্নতদেশে মানুষের রোগবিস্তার প্রতিরোধে তাই প্রাণিচিকিৎসকদের পরামর্শ নেয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এই পরিবেশ এখনও তেমন গড়ে ওঠেনি। তবে এই সমন্বয়হীনতা থাকা মোটেও কাম্য নয়।

-
লেখক: চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়।

সূত্র: সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি), ওয়ার্ল্ড হেল্থ অরগানাইজেশন (ডব্লিউএইচও)।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

World, Zoonoses, day, Nature, animal, Diseases, awareness, prevention, cure