সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

cricket-celebration-dhaka.jpg

নেশা কেটে যাক ক্রিকেটের আফিম, গালি সংস্কৃতির আফিম

নারী কেলেঙ্কারিতে যখন রুবেল পর্যুদস্ত তখন বিজ্ঞাপনে রুবেল বললো ঠিক ভাইঙ্গা দিমু। কি ভাইঙ্গা দিতে চাইছে কে জানে? তবে এটা খুব পুরোনো একটা পুরুষতান্ত্রিক গালি, যার লক্ষ্য বস্তু নারী।

ক্রিকেটি যৌনতা ঢুকছে বেশ কিছুদিন হলো। শুরুটা হয়েছিলো আইপিএল দিয়ে। বণিকেরা আমাদের বুঝাতে চেষ্টা করলো ক্রিকেট মানে এখন আর শুধু চার ছয়ের খেলা নয়। একটি নিখুত বোল্ড আউট কিংবা একটি দূর্দান্ত ক্যাচ আউটেই ক্রিকেটের সৌন্দর্য নয়। সাথে চাই উত্তেজনা। এই উত্তেজনা কিন্তু শেষ বলে একরানের যে উত্তেজনা সেই উত্তেজনা নয়। এই উত্তেজনা শরীরের উত্তেজনা। আরো খোলামেলা বললে নারীদেহের উত্তেজনা। তাই আমদানি হলো চিয়ার লিডারদের। মাঠে হাজির হলো স্বল্পবসনা এ্যাংকর। স্টুডিওর টকশোতে আনা হলো সুন্দরী উপস্থাপিকা। চিয়ার লিডারদের উদ্দামনৃত্যে বণিককুল মুনাফা করতে লাগলো আর আমাদের একটি নির্ভেজাল বিনোদন হয়ে গেলো প্রাপ্তবয়স্কদের অনুষ্ঠান বা এক্সরেটেড প্রোগ্রাম।

সেই যৌনতার ধারাবাহিকতা শুরু হলো আমাদের দেশে। তবে তা অন্যভাবে। এটাতো আর ইন্ডিয়া না যে আপনি হাফপ্যান্ট পড়া মেয়েদের দিয়ে নর্দন কুর্দন করাবেন। এখানকার মানুষের অনুভুতি খুব প্রখর, কখন কে আহত হয় কে জানে। তবে বীর বাঙ্গালির মুখটা চলে খুব। তাই শুরু হলো গালি সংস্কৃতি। বণিকেরা বুঝতে পারলো এটা পাবলিক খাবে।

নারী কেলেঙ্কারিতে যখন রুবেল পর্যুদস্ত তখন বিজ্ঞাপনে রুবেল বললো ঠিক ভাইঙ্গা দিমু। কি ভাইঙ্গা দিতে চাইছে কে জানে? তবে এটা খুব পুরোনো একটা পুরুষতান্ত্রিক গালি, যার লক্ষ্য বস্তু নারী। পাবলিকও লুফে নিলো। এখনতো ছোটছোট পোলাপানও ঝগড়া লাগলে বলে ভাইঙ্গা দিমু। তারপর আসলো বাঁশ দিমু। পাবলিক এটাও লুফে নিলো। শুধু তাই নয় আরো একধাপ এগিয়ে এটা হয়ে গেলো ভইরা দিমু। এটাও একটা পুরোনো কুৎসিত গালি যার লক্ষ্যও নারী। এইভাবে এই ধরনের যৌন বিকৃতিমূলক কথা বার্তা হয়ে গেলো একটা ট্রেন্ড। এখন খেলা দেখে বাশ নিয়ে স্ট্যাটাস না দিলে ঠিক স্মার্ট হওয়া যায় না।

এগুলো সবই কুৎসিত কথাবার্তা। এই সেদিনও আড্ডায় সদ্য প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেপেলেরা এসব বলে মজা করতো কিন্তু কখনো ভদ্র সমাজে বলতো না। অথচ এখন সবাই তা অবলীলায় ব্যবহার করছে। বণিকেরা আমাদের সম্মতি আদায় করে নিয়েছে। এখন একজন নারীও ফেসবুকে বাঁশ নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়।

আমরা বুঁদ হয়ে আছি আফিমে। ক্রিকেটের আফিম, গালি সংস্কৃতির আফিম। আমাদের আফিমের নেশা দ্রুত কেটে যাক, এইটুকুই চাওয়া।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Cricket, Bangladesh, trend, slang, celebration, limit, gentle, civilization