সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

tomtom-dhaka-horse-cart.jpg

পুরান ঢাকা ঐতিহ্যবাহী টমটম

বর্তমানে বঙ্গবাজার, ফায়ার সার্ভিস, পশু হাসপাতাল, বকশীবাজার, নারিন্দা, সিদ্দিকবাজার, কেরানীগঞ্জ এলাকায় অন্তত ৩০-৪০টি ঘোড়ার গাড়ি চলাচল করে। প্রতিদিন পুরান ঢাকার রাস্তায় চলাচলের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিয়েসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে এই গাড়িগুলোর কদর আজও রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রাচীনতম যানবাহন ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি। আমরা অনেকেই এই ঘোড়ার গাড়িটিকে টমটম নামেই চিনে থাকি। ঘোড়ার গাড়ি রাজকীয় ঐতিহ্যের একটি অংশ। একসময়ে এই ঐতিহ্যটি ছিল জমিদার, রাজা-বাদশা, ধনাঢ্যব্যক্তি এবং রাজ পরিবারের সদস্যদের পরিবহনের প্রধান বাহন। ইংরেজ শাসন আমলে ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন শুরু হয়।

অতীতে রাজা-বাদশাহ, আমির-ওমরাহ, জমিদাররা ঘোড়ার গাড়িকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতেন। ঘোড়ার গাড়ি ছিল রণাঙ্গনের রসদ সরবরাহের প্রধান বাহন। ১৮৩০ সালে ইংরেজ শাসন আমলে ঢাকায় ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন শুরু হয়। এখনো পুরান ঢাকার সদরঘাট-গুলিস্তানে যাত্রী পরিবহণের জন্য ঘোড়ার গাড়িকে অন্যতম বাহন হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

রাজকীয় এই ঘোড়ার গাড়ি এ দেশের ঐতিহ্যে ১৩০ থেকে ১৫০ বছরের বেশি সময় পার করেছে। বর্তমানে এটি হারিয়ে যেতে বসেছে। কেবল পুরান ঢাকায় স্বল্প পরিসরে আজো টিকে আছে ঐতিহ্যবাহী এ বাহনটি।

ঘোড়ার গাড়ি অনেক জায়গায় ‘টমটম’ নামেও পরিচিত। যাত্রী পরিবহণ ছাড়াও টমটম ব্যবহৃত হয় বিয়ে, পূজা, বিভিন্ন শোভাযাত্রায়। এসব কাজে টমটমকে ফুল দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়। কোচোয়ান ও হেলপারের জন্যও ওইসব অনুষ্ঠানের সময় রয়েছে বিশেষ পোশাক। বিশেষ করে পুরান ঢাকার বিয়েতে ঘোড়ার গাড়ি একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিয়ে উপলক্ষে ঘোড়ার গাড়িগুলো রঙিন করে সাজানো হয়। ফুলের মালা দিয়ে আর রঙিন কাগজ কেটে নকশা বানিয়ে সাজানো হয় ঘোড়ার গাড়িকে।

অনেকেই পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত টমটম চালনা করে জীবিকা নির্বাহ করে। এই গাড়ি থেকে দৈনিক দুই-আড়াই হাজার টাকা আয় হয়। যাত্রীদের আজও রাজা-বাদশাহদের ভ্রমণের আবহ উপভোগ করার সুযোগ করে দেয় এই গাড়ি। মানুষ আজও নতুন প্রজন্মকে ঢাকার ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ছুটে আসেন ঘোড়ার গাড়ির কাছে। আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ঘোড়ার গাড়িকে দেখা হয় আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে।

বর্তমানে বঙ্গবাজার, ফায়ার সার্ভিস, পশু হাসপাতাল, বকশীবাজার, নারিন্দা, সিদ্দিকবাজার, কেরানীগঞ্জ এলাকায় অন্তত ৩০-৪০টি ঘোড়ার গাড়ি চলাচল করে। প্রতিদিন পুরান ঢাকার রাস্তায় চলাচলের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিয়েসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে এই গাড়িগুলোর কদর আজও রয়েছে।

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের ধারক টমটমে এক জোড়া ঘোড়া ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিছু কিছু ঘোড়ার গাড়িতে একটি ঘোড়াও ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। চার চাকাবিশিষ্ট গাড়ির সামনে, মধ্যে ও পেছনে মোট ১২ থেকে ১৪ জন যাত্রী বসতে পারে।

লোহার ও স্টিলের তৈরি দুই ধরনের ঘোড়ার টমটম রয়েছে পুরান ঢাকায়। গাড়িটি তৈরি করতে ব্যয় হয় ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। একটি ভালো জাতের ঘোড়া কিনতেও লাখ টাকার উপরে চলে যায়। সব মিলিয়ে একটি ঘোড়ার গাড়ি বানাতে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ পড়ে।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

tomtom, horse, cart, Dhaka, heritage, culture, british, colonial, History