সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

bangladesh-india-transit.jpg

ভারত পাচ্ছে ট্রানজিট, হচ্ছেনা তিস্তা চুক্তি

কোলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার ৩ জুনের সংখ্যায় তিস্তা চুক্তি নিয়ে দুটি লেখা প্রকাশ পায়। এর একটি সম্পাদকীয়। অন্যটি জয়ন্ত ঘোষালের বিশেষ প্রতিবেদন। সম্পাদকীয়তে তিস্তা চুক্তির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে বলা হয় ছিটমহল বিনিময়ে বাংলাদেশের তেমন কোন লাভ হয়নি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরে তিস্তা চুক্তি হচ্ছেনা। বন্ধুপ্রতিম দেশটির সরকারের তরফে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে যে কাজটি হয়েছে তা হল বাংলাদেশে এসে মোদীকে অস্বস্তিকর কোন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবেনা। কিন্তু তিস্তার হিস্যা না পেলে ভারতকে কোন সুবিধা নয় - এমন দাবি কেউ কেউ তুললেও তা ঠেই পাচ্ছেনা। ভারত ঠিকই বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে তার এক ভূখণ্ড দিয়ে অন্য ভূখণ্ডে যাওয়ার সুবিধা বা ট্রানজিট নিচ্ছে।

চলতি জুনের পয়লা তারিখে কোলকাতা - ঢাকা - আগরতলা রুটের যাত্রীবাহী বাস পরীক্ষামূলকভাবে  বেনাপোল হয়ে কোলকাতা থেকে আগরতলা গেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহন সচিব আলাপন ব্যানার্জীর নেতৃত্বে প্রশাসনের ১৪জন কর্মকর্তা নিয়ে বাসটি বাংলাদেশে প্রবেশ করলে বেনাপোল চেকপোস্টে তাদেরকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব  আজাহারুল ইসলাম, যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবির, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, বেনাপোল কাস্টসের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম, বন্দরের উপ পরিচালক আব্দুল জলিল ও শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম শরিফুল আলম।

ভারত বাংলাদেশের ভেতরকার সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে আগামী ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ঢাকায় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর বাণিজ্যিকভাবে এই রুটে বাস সার্ভিস চালু হবে বলে জানান দু’দেশের কর্মকর্তারা। এই রুটে সড়ক ট্রানজিট চালু হলে মাত্র ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভারতের কোলকাতা থেকে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় পৌঁছে  যাবে বাস। ভারতের ভেতর দিয়ে যেতে হলে তাকে পাড়ি দিতে  প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার পথ। এরআগে ঢাকা - শিলং - গুয়াহাটি রুটে পরীক্ষামূলক সড়ক ট্রানজি চালু হয়।

কোলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার ৩ জুনের সংখ্যায় তিস্তা চুক্তি নিয়ে দুটি লেখা প্রকাশ পায়। এর একটি সম্পাদকীয়। অন্যটি জয়ন্ত ঘোষালের বিশেষ প্রতিবেদন। সম্পাদকীয়তে তিস্তা চুক্তির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে বলা হয় ছিটমহল বিনিময়ে বাংলাদেশের তেমন কোন লাভ হয়নি। 

সম্পাদকীয়টি হুবহু এরকম:

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সঙ্গী হতে রাজি হয়েছেন।

আমরা তো খবরের কাগজসর্বস্ব মানুষ। খবরের কাগজে যা বেরোয়, তাকে সত্য বলে ধরে নিয়ে মনে মনে সেই সত্যের ভিত্তি হিসেবে অপ্রকাশিত অনেক মিথ্যে কল্পনা করে দিন কাটাই। সেটাই আমাদের রাজনীতি। সেই খবরেই জানা গেল, মমতার কথা অনুযায়ীই নাকি মোদী-সফরে ‘তিস্তা জলবণ্টন’ আলোচ্যসূচির বাইরে রাখা হয়েছে। খবরে আরও জানা গেল, ছিটমহল হস্তান্তর চুক্তি সই হয়ে গেলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরে আসবেন, আধবেলা পরেই।

এ খবরগুলো সত্য হতে পারে, মিথ্যেও হতে পারে। কিন্তু আমরা, যারা রোজকার কাগজের খবরের ভিতরে একটা কারণ খুঁজে বেড়াই, তাদের মনে একটা বা কয়েকটা সরল জিজ্ঞাসা জেগে উঠছে। মমতার এত তাড়া কীসের?

নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ঢাকায় যাওয়ার এত দায় কীসের? ছিটমহল হাতবদলের সিদ্ধান্ত ও সেই অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের অধিকার পার্লামেন্টের এক্তিয়ারে। পার্লামেন্ট সেই দায়িত্ব নির্বাহ করেছেন। নরেন্দ্র মোদী - হাসিনার ভিতর এই চুক্তি-সই দিল্লিতেও হতে পারত। কিন্তু মোদীর বাংলাদেশ যাওয়াটা বাকি ছিল। এই সুবাদে সেটা হয়ে যাবে।

এর মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায়? নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার বিদেশমন্ত্রী তাঁকে অনুরোধ করেছেন মোদীর সঙ্গে যেতে, মমতা সম্মত হয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রের বিদেশমন্ত্রী কি কখনও এই ফোনটা করতেন, যদি কেন্দ্র ও রাজ্যের সেক্রেটারিদের মধ্যে ফোনাফুনিতে এটা স্থির হয়ে না যেত যে মমতা মোদীর সঙ্গে সফরে যেতে চান? মমতার ইচ্ছে না জানলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদল তৈরিতে মমতার নাম আসতেই পারে না। আর, মমতাকে এই প্রতিনিধিদলের ভিতরে এনে মোদীর একশোর ওপর দু’শো শতাংশ লাভ, আর মমতা দু’শো-র উপর পাঁচশো শতাংশ ক্ষতি।

কিন্তু মমতাকে হেঁশেল সামলাতে হবে। তাই খবর রটল, তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনও কথা হলে নাকি তিনি যাবেন না, হেঁশেলের জাত রাখবেন।

দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী সীমান্তের অদলবদল নিয়ে চুক্তিতে সই করবেন। এর ভিতর তিস্তার কথা ওঠে কোত্থেকে? একমাত্র এমন একটা আওয়াজ দেওয়া ছাড়া যে, হেঁশেলের জাত ঠিক আছে। এ ক্ষেত্রে তিস্তা হচ্ছে হেঁশেল।

যদ্দূর মনে পড়ছে, মাস পাঁচ-সাত আগে এই ছিটমহলই কিন্তু মমতার হেঁশেল ছিল। তিনি তখন হিসেব দিয়ে বলেছিলেন, ছিটমহল হস্তান্তরের ফলে পশ্চিমবঙ্গের হাত থেকে যত জমি বাংলাদেশের হাতে যাবে, তার চাইতে অনেক অনেক কম জমি বাংলাদেশের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গের হাতে আসবে।

এই হিসেবে একটা অর্ধসত্য ছিল। সংখ্যার হিসেবটা সত্যি হলেও, আসলে যে সব ছিটমহল পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে যাবে, তার বড় একটা অংশ নদীর পরিত্যক্ত চর। তাতে মানুষ তো দূরের কথা, পাখিও থাকে না।

ছিটমহল হস্তান্তর নিয়ে মমতা তাঁর এই সরবতা থেকে কবে সরে এলেন, এটার হিসেব আমরা জানি না। কবে তিনি মনে করলেন, ছিটমহল তাঁর হেঁশেল নয়।

আর এটাও আমরা জানি না, কেন মমতা উল্টে চাইছেন না যে তিনি মোদী-সফরে প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভুক্ত হবেন শুধু এই শর্তে যে, তিস্তা নিয়ে কথা হবে ও তিস্তা ব্যারেজ ভেঙে দিয়ে তিস্তাকে তিস্তায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কেন মমতা চাইবেন না যে, বাংলাদেশে জল দেওয়ার ব্যাপারেই নয়, তিস্তা ব্যারেজ উত্তরবঙ্গেরও জল পাওয়ার বড় বাধা।

কাগজেই পড়লাম, কল্যাণ রুদ্র কমিটির কথা নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন। এও নাকি বলেছেন যে, সেই কমিটির সুপারিশ নিয়ে তাঁরা চিন্তাভাবনা করছেন।

এটা একটা খবর বটে। যদ্দূর মনে পড়ছে, কল্যাণ রুদ্র তাঁর সঙ্গে দেখা করে কিছু দরকারি তথ্য চেয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি তাঁকে বলে দিয়েছিলেন— আপনাকে এ নিয়ে আর কিছু করতে হবে না। কল্যাণ রুদ্র কোনও সুপারিশ করেছেন বলে কারওই জানা নেই। এখন মমতার হেঁশেলের জাত রাখার চৌকিদার হিসেবে কল্যাণ রুদ্রের নাম এসে গেল কোত্থেকে?

বামফ্রন্ট, বিশেষত সিপিআই(এম)-এর প্রেত-তর্পণ না করে মমতা কোনও দিন জল গ্রহণ করেন না। কিন্তু বামফ্রন্ট সরকারের যেটা প্রকাশ্য ও প্রমাণিত মারাত্মক অপকল্পনা— তিস্তা ব্যারেজ— সেটি রক্ষা করার ব্যাপারে মমতা খড়্গহস্ত। যেন বাংলাদেশ তিস্তার সব জল নিয়ে নিতে চাইছে। মমতা বলেছেন, কাগজে পড়লাম, উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত করে তিনি বাংলাদেশকে তিস্তার জল দিতে পারেন না।

দেশপ্রেম খুব মহৎ আবেগ। কিন্তু সেটা নির্ভর করে কে তার দেশ বলতে কী বোঝে।

আমরা অজস্র বার বলছি, তিস্তা ব্যারেজ তিস্তাকে হত্যা করছে। অজস্র বার জিজ্ঞেস করেছি, তিস্তায় ক্যানাল কেটে গত কয়েক দশকে কৃষি ফলনের হিসেব কী? অজস্র বার ম্যাপ এঁকে, ফিতে মেপে দেখিয়েছি, তিস্তা ব্যারেজের ফলে তিস্তা-অববাহিকার ৩০ কিলোমিটার মতো লম্বা ভারতীয় এলাকায় চাষের সর্বনাশ হচ্ছে।

তিস্তা ব্যারেজের পরিকল্পনা যখন নেওয়া হয়, বামফ্রন্ট সরকারকে বলেছি, কেউ কান দেননি। তৃণমূল সরকারকে বলেছি, কেউ কান দেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলছি, মিথ্যে কৌলীন্যের মিথ্যে অহঙ্কার ছাড়ুন। মোদীর সফরসঙ্গী না হয়ে আপনার উপায় নেই। প্রতিনিধিদলে থেকে আধবেলায় ফেরা যায় না। ও-সব দেখানেপনা ছাড়ুন। বরং এই সুযোগ নিয়ে মোদী-হাসিনার উপস্থিতিতে বাধ্য করুন ভারত-বাংলাদেশ যৌথ তিস্তা কমিশন তৈরি করতে। ইতিহাস কোনও সুযোগ দেয় না। ইতিহাসকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। হেঁশেল ভাঙুন।

জয়ন্ত ঘোষাল তার প্রতিবেদনে তিস্তা নিয়ে আশার বাণী শোনানো হলেও মোদীর সফরে যে এ নিয়ে কোন কথা হচ্ছেন তা স্পষ্ট করা হয়েছে। তার প্রতিবেদনটি এরকম:

এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক জিওস্ট্র্যাটেজিক গুরুত্বর কথা মাথায় রেখে ভারতও মনে করে দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করা প্রয়োজন। আর তাই স্থলসীমান্ত চুক্তিকে ভারত রূপায়িত করতে চলেছে, দু’দেশের মধ্যে তা স্বাক্ষর হতে চলেছে আগামী ৬ জুন। আর এই চুক্তির বিরোধিতা শুধু পশ্চিমবঙ্গ সরকার নয়, অসমে নরেন্দ্র মোদীর নিজের দল বিজেপি-ও করেছিল। এই অসন্তোষ, রাজ্য ইউনিটের এই বিরোধিতাকে সামলে শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদী এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কথা সত্য, এই সফরে তিস্তাচুক্তি হয়তো স্বাক্ষরিত হবে না কিন্তু তিস্তা চুক্তির জট ছাড়িয়ে তাকে বাস্তবে রূপ দিতে মোদী যে বদ্ধপরিকর সে বার্তা কিন্তু শেখ হাসিনাকে দেওয়া হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান সম্পর্কেও একটা ভ্রান্ত ধারণা এই সফরের আগে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। মমতা এখনই তিস্তা চুক্তি চূড়ান্ত করে এই সফরেই তাতে স্বাক্ষর করতে রাজি হননি ঠিকই, কিন্তু মমতা কখনওই বলেননি তিনি এই চুক্তির বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্য, একটি অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কাছে প্রধান অগ্রাধিকার হল রাজ্যের স্বার্থ। তিস্তাচুক্তি এমন ভাবে সম্পাদন করতে হবে যাতে উত্তরবঙ্গ জল থেকে বঞ্চিত না হয়। তিস্তা সিকিম থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশ যাচ্ছে। জলের অভাবে সিকিম আটটি হাইড্রলিক বাঁধ নির্মাণ করেছে। মমতার বক্তব্য, এই বাঁধগুলির ফলে উত্তরবঙ্গে জলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ, ভারতের এই দুই রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক আগে মোদীকে মেটাতে হবে। কারণ সিকিম সরকার পাল্টা যুক্তি দিচ্ছে যে জল সঞ্চয় করে তারা বাঁধ নির্মাণ করেনি, জলের চলন্ত স্রোতকে অবরুদ্ধ না করেই তা থেকে জল নিয়ে বাঁধের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

কিন্তু এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক পাঠানো প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বীনা শিকরি সে দিন বলছিলেন, গঙ্গাচুক্তির সময় সমস্যাটা কম ছিল। কারণ ওখানে কার কাছে কতটা জল কতটা পানি যাচ্ছে তার একটা পরিমাপ ছিল। এই সুনির্দিষ্ট পরিমাপ যোগ্যতার ব্যবস্থা তিস্তা নদীতে নেই। এর ফলে এই পরিসংখ্যান নিয়েও বিতর্ক আছে। এখনও পর্যন্ত যে খসড়াটি মনমোহন সিংহ সরকার তৈরি করেছিল সেটাই রয়েছে। এই খসড়ায় কোনও পরিবর্তন হয়নি বটে, কিন্তু দু’দেশের মধ্যে ট্র্যাক-টু কূটনীতি চলছে।

প্রণব মুখোপাধ্যায়, মনমোহন সিংহ, সলমন খুরশিদ বা প্রধানমন্ত্রী অথবা প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে বার বার ঢাকায় গিয়েছি, দেখেছি বাংলাদেশে তিস্তা কিন্তু এক প্রবল আবেগতাড়িত বিষয়। অনেকে বলছেন দু’দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক চুক্তি রূপায়ণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু সেটা যেমন সত্য, তেমনই ওটাও সত্য যে কোনও রাষ্ট্রের পক্ষেই অভ্যন্তরীণ যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় রাজ্যের মতামতকে অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয়। তবে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের কর্মপদ্ধতিতে একটা মৌলিক ফারাক আছে। মনমোহন যা পারেননি সেটা মোদী পেরেছেন। মোদী মমতাকে বোঝাতে পেরেছেন যে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা বিশেষ প্রয়োজন। 


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Bangladesh, India, Transit, Tista, Treaty, Modi, Hasina, Visit, June, 2015