সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Turtle-day.jpg

কচ্ছপ সংরক্ষণে প্রয়োজন অধিক সচেতনতা আন্তর্জাতিক কচ্ছপ দিবস, ২০১৫

এক সময় বঙ্গোপসাগর, নদীনালা, বিল-বাওড়, পুকুরসহ বাড়ির আঙ্গিনাতেই কচ্ছপ দেখা যেত। এখন আর তেমন দেখাই যায় না। জানা যায় ৭ প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ রয়েছে। এরা হচ্ছে অলিভ রিডলে, সবুজ কচ্ছপ, হকসবিল, লগারহেড, ফ্ল্যাটব্যাক, লেদারব্যাক ও ক্যাম্প রিডলে কচ্ছপ।

আমাদের অতি পরিচিত একটি সরীসৃপ প্রাণি হচ্ছে কচ্ছপ। প্রাণিটি জলস্থল উভয় স্থানেই বাস করে। শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত প্রাণিটি প্রাচীন প্রাণিদের মাঝে অন্যতম। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৩০০ প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশে ২০ প্রজাতির রয়েছে। যাদের মাঝে কিছু প্রজাতি মারাত্মক ভাবে বিলুপ্তির পথে। একাকি থাকতে ভালবাসে। এরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। সামুদ্রিক কচ্ছপগুলো এক উপকূল থেকে অন্য উপকূলে উদ্ভিদের বিস্তরণ ঘটাতে পারে। পুকুরের তলদেশের বিষাক্ত পদার্থ খেয়ে জলজ পরিবেশকে রক্ষা করে।

কচ্ছপ পরিবেশের বন্ধু। কচ্ছপ ও কাছিম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রকৃতিতে সকল জীবের পাশাপাশি এদের প্রতি সন্মান দেখানো ও জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য সারাবিশ্বে প্রতি বছর ২৩ মে বিশ্ব কচ্ছপ দিবস পালিত হয়। ২০০০ সাল থেকে ‘আমেরিকান টরটয়েজ রেসকিউ’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দিবসটি পালনে উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছিল। সেই থেকেই দিবসটি সারাবিশ্বে উদযাপিত হচ্ছে।

এক সময় বঙ্গোপসাগর, নদীনালা, বিল-বাওড়, পুকুরসহ বাড়ির আঙ্গিনাতেই কচ্ছপ দেখা যেত। এখন আর তেমন দেখাই যায় না। জানা যায় ৭ প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ রয়েছে। এরা হচ্ছে অলিভ রিডলে, সবুজ কচ্ছপ, হকসবিল, লগারহেড, ফ্ল্যাটব্যাক, লেদারব্যাক ও ক্যাম্প রিডলে কচ্ছপ।

এদের মাঝে অস্ট্রেলিয়ান ফ্ল্যাটব্যাক ছাড়া বাকিগুলো সংকটাপন্ন। বাংলাদেশে ৫ প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপের উপস্থিতির কথা শোনা গেলেও বর্তমানে শুধু অলিভ রিডলে কচ্ছপকেই পাওয়া যাচ্ছে।

দ্য ওয়ার্ল্ড কনজারভেশন ইউনিয়ন (IUCN) সামুদ্রিক কচ্ছপ সংকটাপন্ন কেন তার উত্তর দিতে পাঁচটি কারণের কথা উল্লেখ করেন। সেগুলো হল:
  • মাছ ধরা: জেলেদের মাছ ধরার সময় জালে আটকা পড়ে প্রচুর সংখ্যক কচ্ছপ মারা যায়। জালে জড়িয়ে, আবাসস্থল ধ্বংস ও খাদ্যশৃঙ্খলে পরিবর্তনের কারণেও মারা যায়।
  • কচ্ছপ ও কাছিম ধরা: সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম খাওয়ার জন্য অনেকে সংগ্রহ করে। আবার কচ্ছপ ও কাছিমকে খাদ্য হিসেবেও খায়। তাছাড়াও এদের থেকে বিভিন্ন ধরণের পণ্য তৈরি করা হয়।
  • উপকূলীয় উন্নয়ন: উপকূলের উন্নয়নের নামে অনেক দেশেই কচ্ছপের আবাস ধ্বংস করা হচ্ছে। ডিম পাড়ার জন্য সংরক্ষিত স্থানে পর্যটকদের আনাগোনাও কচ্ছপ সংকটের একটি বড় কারণ। এছাড়াও জাহাজ চলাচল, সমুদ্রের তলদেশের পরিবর্তনসহ নানাবিধ কারণ রয়েছে।
  • দূষণ: প্লাস্টিক, পরিত্যাক্ত মাছ ধরার যন্ত্রপাতি, তেল বর্জ্য এবং অন্যান্য পদার্থ খেয়ে কিংবা পরিত্যাক্ত জালের সাথে জড়িয়েও মারা যায়। রাসায়নিক দূষণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। উপকূলে আলোর ঝলকানি ডিম পাড়ায় বাঁধা দেয়।
  • জলবায়ুর পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তন এদের বাসস্থানের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলে থাকে।
আমাদের দেশে সাধারণত জলবায়ু পরিবর্তন, পুকুর জলাশয়ে বিষ ও কীটনাশকের ব্যবহার, জমিতে সার প্রয়োগ, কচ্ছপের প্রয়োজনীয়তা না জানা, প্রাণি দেখামাত্রই মেরে ফেলা ইত্যাদি কারণে সংকটাপন্ন হচ্ছে।

আরেকটি অবিবেচনাপ্রসূত কাজ হচ্ছে পিতামাতা প্রায়ই বিভিন্ন ধরণের পাখির বাচ্চা, বনবিড়ালের বাচ্চা, বন্য খরগোশের বাচ্চা ইত্যাদি ধরতে পারলে তাদের নিজের বাচ্চাকে খেলতে দিয়ে থাকেন। এক সময় দেখতাম কচ্ছপ পেলেও এর ব্যতিক্রম হত না। বাচ্চারা কচ্ছপ পেলে আনন্দে আত্মহারা হয়ে লাথি গুতা দিয়ে খোলসের ভিতর থেকে মুখ বের করার চেষ্টা করত। এভাবে এক সময় মেরেই ফেলত।

আমাদের দেশে কচ্ছপ ও কাছিম সংরক্ষণের জন্য করণীয়:

  • প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে শুধু উপকারি প্রাণিদের নিয়ে লেখা থাকবে। মশা-মাছি, তেলাপোকা ইত্যাদি নিয়ে পড়াশোনা করিয়ে ছোটবেলাতেই প্রাণি-পতঙ্গ নিয়ে ভীতি সৃষ্টি না করা। যেমন অজগরটি আসছে তেড়ে! এসব কথা মুছে ফেলা।
  • বাড়ির আঙ্গিনা, বিভিন্ন জলাশয়, ঝোপঝাঁড়ে কচ্ছপের নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা। মশা দূর করতে ঝোপঝাঁড় নিধন করা লাগে এসব শিক্ষা দেয়ার আগে কচ্ছপ ও কাছিম নিয়ে ভেবে দেখা।
  • প্রকৃতিতে সবারই কিছু না কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে এমন মনোভাব সবার মাঝে গঠন করা ও সচেতনতা বাড়ানো।
  • কচ্ছপ উৎপাদন করে খাওয়া ও বিদেশে রপ্তানির চিন্তা করা। শুধু প্রকৃতিতে প্রাপ্ত কাছিম দিয়ে জামাই আদর, উৎসব-আচার পালন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে বিলুপ্তি রোধে কচ্ছপ, কাছিম ধরা নিষেধ।
-
লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

International, Turtle, day, 2015