সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

IMG_3420.JPG

দু'চাকায় জীবন যখন সাইকেল একটি যুগোপযোগী বাহন

একটি কার গাড়ী যেখানে মাত্র একজন যাত্রী নিয়ে রাস্তার ৮×৪ ফুট স্থান দখল করে; সেখানে দু'চাকায় দখলকৃত স্থানটি ফুটের সীমা মাড়ায় না। ইঞ্চিতে আবদ্ধ থাকে। অথচ নাগরিক হিসেবে এই একই রাস্তার উপর কার আরোহী ও দু'চাকা আরোহী দু'জনের অধিকারে কোন বৈষম্য নাই।

দু'পায়ের ভারে চলতে পারে বলেই মানুষ সৃষ্টির সেরা। অথচ এই দু'পায়ে চলার শুরুটা সে কখন করেছিল সেটা তার আদৌ মনে নাই।

কিন্তু দু'চাকার প্যাডেলে পা রাখার স্মৃতি থেকে শুরু করে কেটে আসা দুরন্ত শৈশব-কৈশোরের আনন্দ ভরা মুহূর্তগুলো ঠিক ই তার মনে গেঁথে থাকে। ভোলা যায় না কখনো। তাই দু'চাকা নিয়ে লিখতে বসলে মনে ভাসে ফেলে আসা ছেলেবেলার কথা।

সেই প্রথম দু 'চাকার প্যাডেলে পা'র স্পর্শ; ভারসাম্যহীনতায় পড়ে গিয়ে অর্জিত গোড়ালির চোট; কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোন অবসর না নিয়ে দূর দূরান্ত চষে বেড়ানো; নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছোটখাটো কোন দূর্ঘটনার শিকার হওয়া। আর ও কত কী!

কখনো ভোলার নয় সেসব স্মৃতি। বড় নির্মল সুখের ও আনন্দের ছিল সে সময়টা। সময়ের চাকায় প্রতিনিয়ত জীবন পাল্টায়। নতুনত্ব যায় আসে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ চুকে পেরিয়ে যায় ক্যাম্পাস লাইফেরও অনেকটা সময়।

এরই মধ্যে ইচ্ছেঘুড়ি হয়ে জীবনে ফেরে দু'চাকা। নিয়ে আসে গতি। বেঁচে থাকাটা এবার কঠিন কিছু নয়। বাসের ভিড়, ক্লাসে লেট, ট্র্যাফিক জ্যাম ইত্যাদি শব্দগুলো অকালে খসে যায় জীবন থেকে।

জীবনের ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার জন্য নতুন করে ভাবতে হয় না আর। পকেট ফাঁকা না ভরা এ চিন্তাও নয়। যখন তখন অনায়াসে চলাচল সবখানে। আত্মনির্ভরতা। আর কি চাই? 

একবারও কি ভেবেছেন, দু'চাকায় কোন উপকারটি নেই? এটি একাধারে স্বাস্থ্যবান্দব; পরিবেশবান্ধব এবং অর্থ ও সময় সাশ্রয়ী।

ইট কাঠ পাথরে গড়া শহরে না আছে খেলার পর্যাপ্ত মাঠ; না মেলে ব্যস্ততার ও অবসর। আর তাই শরীর ফিট রাখতে শুরু হয় জিমনেশিয়ামে দৌড়ঝাঁপ। কিন্তু সেটিও নিয়মিত অনিয়মিত হয়ে যায়। অথচ এই একই দৌড়ঝাঁপের উৎস হিসেবে দু'চাকা বেশ উৎকৃষ্ট।

কেননা ব্যায়াম হিসেবে দু'চাকায় চড়ার অবস্থান দ্বিতীয়। প্রথম অবস্থানে আছে জলে চড়া (সাঁতার)। কিন্তু শহুরে বাস্তবতায় সে স্বাদ ও সাধ্যে মেলে না।

কার্বন পুড়িয়ে জ্বালানি নয়; দু'চাকার নিজ দেহের চর্বি পুড়িয়ে জ্বালানি হয়। কাজেই পরিবেশ দূষণের এতটুকু কারণ এতে নাই। তাই প্রকৃতি সবুজ রাখতে অনবদ্য ভূমিকা রাখে দু'চাকা।

একটি কার গাড়ী যেখানে মাত্র একজন যাত্রী নিয়ে রাস্তার ৮×৪ ফুট স্থান দখল করে; সেখানে দু'চাকায় দখলকৃত স্থানটি ফুটের সীমা মাড়ায় না। ইঞ্চিতে আবদ্ধ থাকে। অথচ নাগরিক হিসেবে এই একই রাস্তার উপর কার আরোহী ও দু'চাকা আরোহী দু'জনের অধিকারে কোন বৈষম্য নাই।

প্রত্যাহিক জীবনে জ্যামে আটকে ছুটে যাওয়া সময় কেউ হিসেব রাখে না। কিন্তু নিশ্চিত বলা যায় এ সময়টা মোট আয়ুর কয়েক বছরের ও বেশি হবে। দু'চাকা চড়ে এ বিশাল সময়টা অন্য কাজে ব্যয় করা যায়। বললে ভুল হবে না জ্যাম যুদ্ধের এ জয় রীতিমত যেন এভারেস্ট জয়।

নিত্য নৈমিত্তিক পরিবহনের খরচের হিসাবটা আর না ই বা লিখলাম। টাকার মাপকাঠিতে হয়তো লোকাল বাসের উঠানামা পাঁচ-দশ থেকে শুরু। কিন্তু সে সুবাদে ভোগান্তি অসহনীয়। পকেটমার নামক বিভীষিকা তো আছেই। আবার সিএনজি বা অটোরিক্সার বেলায়...?

আসল কথা হচ্ছে ইচ্ছে করলেই কারো কয়েক মাসের (এমনকি মাস) মোট পরিবহনে ব্যয়িত টাকায় একটি সচল দু’চাকার অধিকারী হওয়া যায়। অনেকেই আবার বিপদ (সড়ক দুর্ঘটনা) ভেবে দু’চাকা চরম অবহেলা করে থাকে। এটিও কোন বোধের মধ্য পড়ে না।

কারণ নন্দলাল বেশে ঘরের কোনায় আজকাল কেউ বসে নেই। দৈনন্দিনকার হাঁটাফেরায় বিপদ যেমন ভর করতে পারে; তেমনি ভর করতে পারে দু'চাকা চড়ায় ও। এ জন্য দু’চাকা ব্যবহারে নির্দিষ্ট প্রটোকল (গ্লাভস, হেলমেট, ট্র্যাফিক আইন) মেনে চলাতে উৎসাহিত করা হয়।

বয়সের লুকোচুরি খেলায় মানুষ সদা মেতে থাকে। কৈশোর তারুণ্য ধরে রাখতে নেয় কত কল কৌশল। কৃত্রিম এসব কৌশলে নিতান্তই বাহ্যিক বয়স টা ধরে রাখা যায়। সত্যিকারের তারুণ্য ডানা মেলে আছে দু'চাকায়। জীবন এখানে জীবনের সত্যি মানে খুঁজে পায়।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

cycle, natural, Human, traffic, city, bicycle, fuel, life