সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

mursi-trial-egypt.jpg

মুরসির মৃত্যুদণ্ড নব্য ফারাউ এর হাতে অন্ধকার পথে মিসর

গণতান্ত্রিকভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, এই তত্ত্বে বিশ্বাসী আইএস, আল কায়েদার মত উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর প্রতি এই বিজয় ছিল অনেক বড় একটা জবাব। এটা তাদের আবার ভাবতে বাধ্য করছিল এবং গণতন্ত্রপন্থীদের এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করছিল।

আরব বসন্তকে একবিংশ শতাব্দীর ফরাসি বিপ্লব বলা যায় নিঃসন্দেহে। বছরের পর বছর ধরে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কয়েকটি পরিবারের হাতে জিম্মি হয়ে থাকা কোটি কোটি মানুষের গণবিষ্ফোরন জার রাজ বিরোধী ১০ দিনের সেই বিপ্লবের কথাই আমাদের আবার স্মরণ করিয়ে দেয়। তিউনিসিয়া, লিবিয়া, সিরিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, ইয়েমেন এ সমস্ত রাষ্ট্রে বয়ে যাওয়া এই গণজোয়ার বিপ্লবের সকল শর্ত মতেই ছিল একটি আদর্শ গণবিপ্লব।

আরব বসন্তের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল ছিল সম্ভবত মিশরের ইতিহাসে প্রথমবারের মত গণতান্ত্রিক নির্বাচন, যে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুড। আর দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতা মুহাম্মদ মুরসী স্বীকৃতি পেয়েছিলেন দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদীদের কুটচালের তো কোন শেষ নেই। আরব রাষ্টগুলোয় তাদের তাবেদারদের এরুপ পতন বহু কষ্টেসৃষ্টে মেনে নিলেও তারা চেয়েছিল তাদের অনুগত কোন গণতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতায় বসাতে। কিন্তু পাশার এই চালেও পরাজিত হওয়ায় মুখোশ খুলে মাঠে নামতে বাধ্য হল তারা।

মিশরের ইতিহাসের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মুরসীকে ক্ষমতাচ্যুত করে ঘৃণ্য স্বৈরশাসক সিসিকে ক্ষমতা দখল করল। পশ্চিমারা তখন দুচোখ বন্ধ করে মুখে আলু পটল পুরে বসেছিল। পাছে যদি আবার কোন পদক্ষেপ নিতে হয়! শুধু তাই নয়, নৃশংসতার ইতিহাসও নতুনভাবে লিখল এই দালালেরা। গণতন্ত্র রক্ষার দাবীতে রাবা স্কয়ারে আন্দোলনরতদের উপর হামলা চালিয়ে দুহাজার মানুষকে স্রেফ গুলি করে মেরে ফেলা হল, যা ইরানের ব্ল্যাক ফ্রাইডে কিংবা চীনের তিয়েনয়ানমেন স্কয়ারের নৃশংসতাকেও হার মানায়। গ্রেফতার করা হল ১৫ - ২০ হাজার গণতন্ত্রকামীকে।

একঘণ্টার শুনানিতে মৃত্যুদন্ডের প্রহসন নাটক মঞ্চায়ন করা হল। স্বৈরাচারী দৃষ্টিভঙ্গির চুড়ান্ত প্রতিফলন ঘটাবার তাগিদেই হয়তবা প্রেসিডেন্ট মুরসীসহ দলের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিল 'সিসির আদালত'। কিন্তু তারা একবারও ভাবল না যে, তারা কত বড় বিপদ আর ধ্বংস ডেকে আনছে? মুরসীর বিজয় গণতান্ত্রিক ইসলামপন্থীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।

গণতান্ত্রিকভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, এই তত্ত্বে বিশ্বাসী আইএস, আল কায়েদার মত উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর প্রতি এই বিজয় ছিল অনেক বড় একটা জবাব। এটা তাদের আবার ভাবতে বাধ্য করছিল এবং গণতন্ত্রপন্থীদের এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করছিল। কিন্তু মুরসীর এই মৃত্যুদন্ডাদেশ যেন এ সকল আশা আর জবাবের মৃত্যু ঘোষণা করল।

এরই মধ্যে সিনাইয়ে ঘাটি গেড়েছে আইএস এমনকি কায়রোতে তারা কয়েকটি হামলাও চালিয়েছে। এসব ঘটনা পরম্পরায় আরো কত আল কায়েদা আইএস জন্ম হবে, সেটা তো সময়ই বলে দেবে। সাম্রাজ্যবাদীরা এখন চোখ বন্ধ করে থাকলেও একসময় তো চোখ খুলতে বাধ্য হবে, কিন্ত ততক্ষণে হয়ত তারা তাদেরই খোদাই করা কূপে পড়ে গেছে, যেমনটা হয়েছে ইরাক- আফগানিস্তানে। আশা করি ইসলামপন্থীরা ধৈর্যের সাথে সকল অন্যায়ের মোকাবেলা করবে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে সকল উগ্রবাদী হাতছানীকে উপেক্ষা করেই।
এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Brotherhood, Muslim, Islamic, Media, Massacare, Judgement, Egypt, Trial, Morsi