সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Pritilota-waddedar.jpg

নারী মুক্তিযোদ্ধা নীরবে নিভৃতে অতিবাহিত হল প্রীতিলতার জন্মদিন!

আজ ৫ মে। ১৯১১ সালের এইদিনে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম রাণী এবং ছদ্মনাম ছিল ফুলতার। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথম বিপ্লবী নারী শহীদ। তিনি সূর্য সেনের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে যোগ দিয়ে ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর শহীদ হন।

তিনি ডাঃ খাস্তগীর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ১৯১৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের জন্য ভর্তি হন। ছাত্রী হিসেবে অত্যন্ত মেধাবী প্রীতিলতা বেশ কিছু বৃত্তি লাভ করেছিলেন। তিনি কয়েকটি বিষয়ে লেটার মার্ক পেয়ে ১৯২৮ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর তিনি ইডেন কলেজে ভর্তি হন। ১৯৩০ সালে আই. এ. পরীক্ষায় মেয়েদের মাঝে প্রথম এবং সবার মাঝে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। তিনি কলকাতা থেকে বি.এ পাশ করেন।

অদম্য মেধাবী ছাত্রী প্রীতিলতার স্বপ্ন ছিল এদেশকে ব্রিটিশ শাসন মুক্ত করা। তিনি তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য মাস্টার দা সূর্যসেনের সাথে দেখা করেছিলেন। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল পাহাড়তলীর ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ করা। কিন্তু ১৯৩২ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত বিদ্রোহীরা বেশ কয়েকবার আন্দোলনে ব্যর্থ হন।

পরে ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পুনরায় আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন সূর্যসেন। আর এর দায়িত্ব দেন প্রীতিলতার উপর। নির্ধারিত সময়ে প্রীতিলতা ও তাঁর সহযোগী যোদ্ধারা রাতের অন্ধকারে ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণ করেন। কিন্তু ব্রিটিশদের পাল্টা আক্রমণের এক পর্যায়ে প্রীতিলতা গুলিবিদ্ধ হন। পরে ব্রিটিশদের হাতে ধরা পরার হাত থেকে বাঁচতে তাঁর কাছে রাখা পটাশিয়াম সায়ানাইট মুখে পুরে দেন। এছাড়াও তাঁর কাছে থাকা রিভলবার কালীকিংকরের হাতে দিয়ে আরো সায়ানাইট চাইলে কালী কিংকর তা প্রীতিলতার মুখে ঢেলে দেন। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাবের ১০০ গজ দূরে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়।

বর্তমানে পাহাড়তলী রেলওয়ে জাদুঘরের কাছে ও বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে যে স্থানটিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন সেই স্থানে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ২০১২ সালের ২ অক্টোবর তৎকালীন মেয়র উদ্বোধন করেছিলেন। ভাস্কর্যে টাঙ্গানো ফলক থেকে বেশ কয়েকজন বিপ্লবীর নাম জানা যায়। তাঁরা হলেন কালী কিংকর দে, মহেন্দ্র চৌধুরী, সুশীল দে, শান্তি চক্রবর্তী, প্রফুল্ল দাশ, পান্না সেন, বীরেশ্বর রায়। এটির সামনে গেলে হয়ত আপনার অতীত ইতিহাস মনে পড়বে।

ইতিহাস আজও কথা বলে। এদেশের উপর ব্রিটিশদের আধিপত্যের ভীত নাড়ানো ব্যক্তিদের অবদানের কথা স্বীকার করে। কিন্তু আজ এই মহান সংগ্রামী বীরের স্মৃতিগাঁথা সংগ্রহে নেই কোন পদক্ষেপ। তাঁর জন্মস্থান সংরক্ষণেও তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আজ তাঁর জন্মদিনে স্মৃতি বিজড়িত আত্মাহুতির স্থানে গিয়ে হতবাক হয়ে ফিরতে হল। সেখানে তাঁকে ঘিরে কোন আয়োজন নেই! ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা ভাস্কর্য প্রাঙ্গন’ লেখা সাইনবোর্ডটির এখন একটি ছোট চায়ের দোকানের ভিতর ঢুকে গেছে। চায়ের দোকানদারের সাথে কথা বলে জানলাম সেখানে ২১ ফেব্রুয়ারী, বিজয় দিবসে অনেকে এসে ফুল দেয়। কিন্তু আজ জন্মদিনের কোন আয়োজন ছিল কিনা জানতে চাইলে জানান তাঁর জন্মদিন মৃত্যুদিন কোনটাই এখানে হয় না।

প্রীতিলতা আমাদের বীরকন্যা। কিন্তু তাঁকে সন্মান দেখানোর কোন সদিচ্ছা আমাদের আছে কি? সিনেমার নায়ক নায়িকাদের জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকীতে আমাদের মিডিয়া অনেক তৎপর। কিন্তু সত্যিকারের নায়ক নায়িকাদের জন্মদিনে নেই কোন আয়োজন! বিষয়টা সত্যিই দুঃখজনক। মনে রাখতে হবে যে জাতি তার বীরদের সন্মান করেনা সেই জাতিকেও কেউ সন্মান করে না।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

freedom, fighter, preetilata, waddedar, fultar, Bangladesh