সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

কাছের মানুষ

বন্ধুত্ব

খন্ড গল্প



writer ২৩ এপ্রিল ২০১৫, ০৬:৩৭


১.
মাঠের মধ্যে অনেকক্ষণ ধরে বসে আছে পারভেজ ও শামিম। হঠাৎ দুইজনের পিঠের ওপর একসাথে দুই হাত দিয়ে থাপ্পর দিল তুষার। পারভেজ আস্তে আস্তে তুষার কে বলল যে তার মন ভালো নেই ফাইযলামি করিসনা।

- 'কেন? কি হইসে?' জানতে চায় তুষার। পারভেজ হঠাৎ করেই তুষারকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেয়।
- 'কান্দস কেন?? কি হইসে খুইলা ক'।
- 'রাহেলার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে।' তুষার যেন আকাশ থেকে পড়ল। এরপর তুষার নিজেকে সামলে নিয়ে বলল
- 'এতো খুশির সংবাদ। মিষ্টি কই? ধুর বেটা কান্দস কেন?'
- 'বিয়া ঠিক হইসে আর আকজনের সাথে' বলে উঠল শামিম।
- 'ও আচ্ছা। এইডা কোন সমস্যা হইল। আমি তোর সমস্যার সমাধান করে দিতে পারি, কিন্তু এক শর্তে।'
- 'কি শর্ত?' জিজ্ঞাসা করলো পারভেজ।
- 'গ্রিল আর নান খাওয়াতে হবে। বিয়ে ঠিক হওয়া মানেই তো আর বিয়ে হয়ে গেলনা। রাহেলার থেকে ছেলের নাম্বারটা নিয়ে আয়, এরপর যা করার আমি করে দিব। তবে না খাওয়ালে তোর খবর আছে কিন্তু!'

তুষার এর এ কথা শুনে পারভেজের কষ্ট যেন এক মুহূর্তেই হারিয়া গেলো। ওর মধ্যে যে কি জাদু আছে ভেবেই পায়না পারভেজ, যখনই কোন বন্ধু কোন সমস্যায় পরে ও খুব সহজেই তার সমাধান করে দিতে পারে।

রাহেলাকে দিয়ে কল করিয়ে ওই ছেলেটাকে একটি রেস্তোরায় ডেকে আনে তুষার। তারপর ছেলেটাকে তারা সব কিছু বুঝিয়ে বলে। ছেলেটি সব শুনে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন পারভেজ খুশীতে আত্মহারা হয়ে তুষারকে জরিয়ে ধরে কেঁদে দেয়।
- 'ওই তোর সমস্যা কিরে? খুশিতেও কান্দস দুঃখেও কান্দস? পাবনাতে কি বুকিং দিমু নাকি?'
- 'ওই আমি পাগল...' চোখ মুছে জবাব দেয় পারভেজ।

২.
তারা তিনজন ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছে। তাদের মধ্যে সবসময় ঝগড়া, মারামারি, শয়তানি চলতেই থাকে। এখন তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। শামিম ও পারভেজ দুজনেই প্রেমলীলাতে জড়িয়ে আছে। কিন্তু তুষার এখনও ঐ জায়গাতে পা পরেনি। পারবেই বা কেমন করে। তুষার একটু লাজুক প্রকিতির ও কঞ্জুস টাইপের। তাই আজ পর্যন্ত তার কোন গার্লফ্রেন্ড জুটে নাই।

এই নিয়ে তাকে প্রচুর কথাও শুনতে হয়। কিন্তু সে তা এক কান দিয়ে ঢুকায় আর অন্য কান দিয়ে বের করে দেয়। পারভেজের গার্লফ্রেন্ড এর নাম রাহেলা আর শামিম এর গার্লফ্রেন্ড এর নাম নিতু। তারা একসাথে যত জায়গাতে যায় তুষার কে সঙ্গে নিয়ে যায়।

একবার ক্লাস শেষে তুষার ফ্রেন্ডদের জন্য অপেক্ষা করছে, এমন সময় রিক্সা করে যাওয়া কলেজপড়ুয়া একটি মেয়েকে দেখে তার প্রেমে পড়ে যায়। মেয়েটি তাদের ক্যাম্পাসের কলেজ সেকশনের ছাত্রী। এ কথা যেদিন পারভেজ আর শামিমকে তুষার বলল তারা তখন খুব অবাক হল।

- 'কি মামা তলে তলে এতদূর?? ডুবে ডুবে জল খাওয়া হচ্ছে আর আমারা টেরই পেলামনা!! মেয়েটাকে কবে দেখাবি বল??'
- 'দেখাতে পারি তবে এক শর্তে।' 
- 'কি শর্ত?'
- 'তোরা মেয়েটাকে দেখতে পারবি কিন্তু কিছু বলতে পারবিনা। ওকে?'
- 'এটা কেমন কথা! কথা না বললে প্রেম করবি কিভাবে?' পারভেজ খানিকটা রেগে গিয়ে বলল।
- 'কয়েকদিন যাক তারপর বলব,আগে তো দেখ তোদের পছন্দ হয় কিনা।'
- 'প্রেম কি তুই করবি নাকি আমরা করমু কোনডা?' শামিম একটু মুচকি হেঁসে বলল।

পরেরদিন তুষার শামিম ও পারভেজকে নিয়ে ঠিক ওই জায়গায় দাঁড়ায় যেখানে সে মেয়েটিকে দেখেছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই মেয়েটি কলেজ থেকে বাসার দিকে যাচ্ছিল। তার দুই বন্ধু প্লান করে রেখেছিলো যে মেয়েটিকে গিয়ে বলে দিবে তুষারের কথা। কিন্তু তুষার বুঝতে পেরে তাদের দুই হাত দিয়ে টেনে ধরে থাকে। প্রায় এক বছর হতে চলল তবুও তুষার বলার সাহস পাইনি যে সে মেয়েটাকে ভালোবাসে।
এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

friendship, three, life, love, Crisis, friends, Bangla, story