সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

333.jpg

মানুষের উপকারে কমিউনিটি ক্লিনিক

কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা নিয়ে ৮৩ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট। বিনা মূল্যে ওষুধ পাওয়া, দোরগোড়ায় বিনা খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ভালো আচরণ এই সন্তুষ্টির কারণ।

কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে গবেষণার এই তথ্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে। 

বিশ্বব্যাংক ও রকেফেলার ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর, বি), ব্র্যাক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতিসহ প্রায় ১০০ প্রতিষ্ঠান এই সম্মেলন আয়োজনে যুক্ত হয়েছে বলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

পিপিআরসি ও সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের (সিআইপিআর, বি) গবেষকেরা এ বছর ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ৬৪ জেলার ১৯২টি কমিউনিটি ক্লিনিকের তথ্য সংগ্রহ করেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সিআইপিআর, বি'র জ্যেষ্ঠ গবেষক ফলাফল উপস্থাপনের সময় বলেন, প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য তৈরি করা এই গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রগুলোর ৯২ শতাংশে পৌঁছানোর রাস্তাঘাট ভালো। আর ৯০ শতাংশ কেন্দ্র মানুষের বাড়ির কাছে, হাঁটার দূরত্বের মধ্যে। ৯৪ শতাংশ কেন্দ্র সপ্তাহে ছয় দিন খোলা থাকে এবং ৮৬ শতাংশ কেন্দ্রে গবেষণার সময় স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে দৈনিক গড়ে ৩৩ জন মানুষ সেবা নিতে আসেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে থাইল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সোমসাক চুনাহারাস বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন সেবা না পেলে বিপর্যয় ঘটে। বেশি মূল্য দিয়ে মানুষকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা কিনতে হয়। স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন নিয়ে থাইল্যান্ডের ৩০ বছরের নানা অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বেশি মানুষকে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে হলে রাজনীতিক, আমলা ও নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

একই অধিবেশনে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের শিশু বিভাগের প্রধান ও ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব অ্যাসোসিয়েশন অব পেডিয়াট্রিক সার্জনসের প্রেসিডেন্ট ডি কে গুপ্তা বলেন, উন্নত বা উন্নয়নশীল কোনো দেশের সরকারের পক্ষে ১০০ শতাংশ নাগরিককে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব না। তিনি বলেন, ‘অনেকে অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কম। কিন্তু ভারতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বরাদ্দ দেওয়া বাজেটের সিংহভাগ খরচ হয় না।’

শুরুতে বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি এ কে আজাদ খান বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামো খুবই ভালো। এখন দরকার সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি ও নিয়োগ করা।

সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, চিকিৎসা ব্যয় দারিদ্র্য ডেকে আনে। আবার সুস্বাস্থ্য উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, মৃত্যুহার কমায়।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Community, clinic, health, medical, assistance, help, neighbor, Bangladesh