সাহিত্য সমাচার

বিশ্ব সংবাদপত্র স্বাধীনতা দিবস

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এখন কেবল লোকমুখেই প্রচলিত


সংবাদপত্র স্বাধীনতা দিবস যখন পালন করা হয় সাহসী সাংবাদিকদের স্মরন করে তখন আমরা বর্তমানে বেশ সন্দিহান যে শতকরা কত ভাগ সাংবাদিক এখন জীবনের পরোয়া না করেও সংবাদ সংগ্রহ করে থাকেন।


student of Computer Science and Engineering(CSE) ০২ মে ২০১৬, ২৩:১৮


একটা সময় ছিলো যখন আমরা প্রায় সবাই যে কোন তথ্য, খবর বা আয়োজনের কথা জানার জন্য পত্রিকার অপেক্ষায় থাকতাম। সংবাদপত্র ছিলো আমাদের দৈনন্দিন দিনের অতীব প্রয়োজনীয় বন্ধু।

সংবাদপত্র মানেই সংবাদের সমাহার, সাংবাদিকের স্বাধীনতা। ৩ মে “ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে” বা “বিশ্ব সংবাদপত্র স্বাধীনতা দিবস” পালন করা হয়। জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালন করা হয়। এই দিনটিতে স্মরণ করা হয় খবর সংগ্রহে মৃত্যু বরণকারী কিংবা কারাবরণকারী সাংবাদিকদের।

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ অধিবেশনের এক সভায় ১৯৯৩ সালে এই দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মূলত আফ্রিকার সংবাদপত্রসমূহের ওপর একটি সেমিনারের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে এই দিবসটি। এই সেমিনারটি ১৯৯১ সালে নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় এবং এখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বহুমুখিতা নিশ্চিত করতে 'উইন্ডহক ডিক্লারেশন' দেয়া হয়।

এই উইন্ডহক ঘোষণার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে স্বাধীন ও বহুমুখী সাংবাদিকতা চর্চার নিশ্চয়তা দেওয়া। এই ঘোষণার মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতির গণতন্ত্র বিকাশের জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতা জরুরি।

মূলত ৩ মে এই 'উইন্ডহক ডিকলারেশন' ঘোষিত হওয়ায় প্রতি বছর বিশ্ব সংবাদপত্র স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়।

তবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এখন কেবল লোকমুখেই প্রচলিত বলে গন্য হয়। আজ আমরা পত্রিকা পড়তে গেলে ভাবতে হয়, খবরটা কি আসলেই সত্য! এই ভাবনাওটা আমাদের মস্তিষ্ক অব্দি আসাটাও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ব্যার্থতা।

বলা হয়ে থাকে, সংবাদপত্র একটি দেশের গণতন্ত্র, সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক অবক্ষয় সবকিছুই তুলে ধরে। তবে বর্তমানে শত শত সত্যি সংবাদ হারিয়ে যাচ্ছে মিথ্যার বেড়াজালে।

সংবাদপত্র স্বাধীনতা দিবস যখন পালন করা হয় সাহসী সাংবাদিকদের স্মরন করে তখন আমরা বর্তমানে বেশ সন্দিহান যে শতকরা কত ভাগ সাংবাদিক এখন জীবনের পরোয়া না করেও সংবাদ সংগ্রহ করে থাকেন।

অনলাইন ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমগুলো খুব তাড়াতাড়ি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে যে কোন সংবাদ পৌছে দিতে সক্ষম। তবে অত্যান্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে বেশিরভাগ সংবাদ মাধ্যমগুলো মিথ্যা এবং কুরুচিপুর্ন সংবাদে পুর্ন।

সংবাদপত্র এবং যে কোন সংবাদের স্বাধীনতা আমাদের সবারই কাম্য। সত্যি সংবাদই পারে বদলে দিতে একটি দেশ, জাতি এবং রাষ্ট্রকে। 


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

সংবাদপত্র, স্বাধীনতা, সত্য, দেশ, রাষ্ট্র, জীবন, মিথ্যা-সংবাদ