সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

lets-talk.png

আদব কায়দা শিষ্টাচারই পারে সমাজ বদলাতে

আদবকায়দা মানে হল - ভদ্র ব্যবহার। ছোট-বড় বিবেচনা করে সত্যিকারের হৃদ্যতা প্রকাশ করার নামই আদবকায়দা। আদবকায়দা যে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য নয়।

আদবকায়দা বা শিষ্টাচারকে একজন মানুষের প্রধান গুনসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি। এই গুনটি একজন মানুষের গৌরবজনক অলঙ্কার। আদবকায়দা অর্থ, সুন্দর ব্যবহার। অশিষ্টাচারী মানুষ কখনো ধার্মিক হতে পারে না।

অর্থ-সামর্থ্য, বিদ্যাবুদ্ধির অধিকারী বা বাহ্যিক রূপ-লাবণ্যমণ্ডিত না হলেও কেবল শিষ্টাচারগুণে মানুষ সমাদর লাভ করতে সক্ষম হতে পারে। মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য অপেক্ষা শিষ্টাচার বা আদবকায়দা অধিক মনোহর ও বাঞ্ছিত এবং শিষ্টাচারের সাথে বড় ডিগ্রির কোন  সম্পর্ক নেই।

একজন অশিক্ষিত গরিব লোকও শিষ্টাচারী হতে পারেন। আদবকায়দা কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্যে নয়; এটা মানুষের প্রকৃতিগত গুণ। এটা সর্বসাধারণের পরস্পর পরস্পরের কাছে প্রাপ্য। অজ্ঞরা সাধারনত বিদ্যাবুদ্ধির মাহাত্ম্য অনেক সময় বুঝতে পারে না। কিন্তু তারা আদবকায়দার অনুগত হতে বাধ্য হয়।

আদবকায়দা মানে হল - ভদ্র ব্যবহার। ছোট-বড় বিবেচনা করে সত্যিকারের হৃদ্যতা প্রকাশ করার নামই আদবকায়দা। আদবকায়দা যে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য নয়। মানুষের পানাহার, শয়ন, কথাবার্তা, পোশাক-পরিচ্ছদ সব কিছুর মধ্যেই আদবকায়দা নিহিত আছে। আর তা রক্ষা করে চলা  মানুষের সবার কর্তব্য।

যেমন- পরস্পর সালামের আদানপ্রদান বা অভিবাদন করার যে প্রথা সমাজে প্রচলিত আছে, তা আদবকায়দার একটা প্রধান অঙ্গ। কথাবার্তায়  কর্কশভাব ত্যাগ করে সুমিষ্ট ভাষায় কথা বলাও শিষ্টাচারসঙ্গত। বড়দেরকে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন এবং ছোটদেরকে স্নেহ ও আদর করে কথা বলা এই বৈশিষ্ট্যের অন্তর্গত।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, আড়ম্বরহীন পোশাক-পরিচ্ছদ আদবকায়দাসম্মত। কোনো লোক কথা বলছে, তার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিজে কথা না বলা; বয়োজ্যেষ্ঠের সামনে না গিয়ে তার পেছন পেছন গমন করা, তাদের সম্মুখে উচ্চহাস্য না করা বা জোরে কথা না বলা প্রভৃতি আদবকায়দার অন্তর্ভুক্ত।

ছেলেমেয়েদের আদবকায়দা শিক্ষা দেয়া মা বা গৃহিণীদের একান্ত কর্তব্য। অনেক গৃহিণী মনে করেন, ছেলেমেয়েদের জ্ঞানের বিকাশ হলে, তারা আপনা থেকেই আদবকায়দা মান্য করে চলবে। কিন্তু ওই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

কারণ ছেলেবেলা থেকে আদবকায়দায় অভ্যস্ত না হলে কেবল তা জানা থাকলেই হবে না। আমরা শিক্ষিত ও ভদ্র বংশের এমন অনেক লোক দেখেছি, যারা আদবকায়দা অবগত হয়েও কেবল অভ্যাসের অভাবে বেয়াদবি প্রকাশ করে থাকেন।

কেবল কথোপকথনের আদবকায়দায় সন্তানদের অভ্যস্ত করালে হবে না। পানাহার, পোশাক-পরিচ্ছদ, আমোদ-প্রমোদ, হাস্য-পরিহাস, রীতিনীতি প্রভৃতি সব বিষয়েই বাল্যকালে সন্তানদের শিষ্টাচারী করে তুলতে হবে।

তাই আসুন, সমাজে আদবকায়দার বীজ রোপণে সবাই সবার জায়গা থেকে চেষ্টা করি। তাহলে সমাজের কিছু অন্ধকার আলোর মুখ দেখবে।
এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

সমাজ, শিষ্টাচার, আদব, সম্মান, স্নেহ, সালাম, পোশাক, ভদ্রতা