সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

iphone-5-coming-in-june-says-foxconn-employee-report--00f003c47c.jpg

সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা, ২০১৬

দপ্তরের একাউন্ট বা পেজ দপ্তরের নামে হবে। তবে নাম ব্যবহার করতেই হলে করা যাবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে নামের পাশাপাশি মূল পেইজের ব্যানারে প্রতিষ্ঠানের নাম ও লগো থাকতে হবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বাংলাদেশও এ থেকে পিছিয়ে নেই। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সকলক্ষেত্রেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার লক্ষণীয়। এদেশে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন বলে জানা যায়। 

দেশব্যাপী ৮ শতাধিক সরকারি অফিস দাপ্তরিক কাজে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করছে। এ সংখ্যা দিনদিন বাড়ছেই। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। যা সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা, মাঠ পর্যায়ের সরকারি অফিস, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং কর্মচারিগণকে মানতেই হবে।

চলুন এই নির্দেশিকা সম্পর্কে কিছু জানার চেষ্টা করি:

উদ্দেশ্য:

  • সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।
  • বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারিগণের করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ করা।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত কর।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার:

সাধারণত নিম্নলিখিত কাজে সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা যেতে পারে:

  • দাপ্তরিক যোগাযোগ ও মতবিনিময়।
  • সমস্যা পর্যালোচনা ও সমাধান।
  • জনসচেতনতা ও প্রচারণা।
  • নাগরিক সেবা সহজীকরণ ও উদ্ভাবন।
  • সিদ্ধান্তগ্রহণ ও নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ।
  • জনবান্ধব প্রশাসন ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।
  • সেবা গ্রহীতার অভিযোগ নিষ্পত্তি ইত্যাদি।

একাউন্ট ব্যবস্থাপনা: এক্ষেত্রে নিম্নের বিষয়গুলো অনুসরণ করতে হবে:

  • দপ্তরের একাউন্ট বা পেজ দপ্তরের নামে হবে। তবে নাম ব্যবহার করতেই হলে করা যাবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে নামের পাশাপাশি মূল পেইজের ব্যানারে প্রতিষ্ঠানের নাম ও লগো থাকতে হবে।
  • মাধ্যমটি ব্যবহারের উদ্দেশ্য, অডিয়েন্স ও ব্যবহারকারি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা থাকতে হবে।
  • প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বা ৩/৫ সদস্যের একটি টিম এডমিন বা মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
  • দাপ্তরিক পেইজের ব্যানার বা প্রোফাইলে কোন ব্যক্তিগত ছবি দেয়া যাবে না।
  • শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।
  • যোগাযোগ মাধ্যমটির উদ্দেশ্য বিবেচনা করেই তার সদস্য অন্তর্ভূক্তকরণ, প্রবেশাধিকার, প্রাইভেসি ইত্যাদি বিষয়ের সেটিংস এডমিন বা মডারেটর কর্তৃক নির্ধারিত হবে।
  • পেইজটিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইটের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সরকারের অভিযোগ নিরসন ব্যবস্থাপনার সাথে সমন্বিত হতে হবে।
  • দাপ্তরিক যোগাযোগের জন্য প্রেরিত চিঠিপত্রে দাপ্তরিক ওয়েবসাইট ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগের একাউন্টটিও প্রদর্শিত হবে।
সরকারি কর্মচারিদের ব্যক্তিগত একাউন্ট উপর্যুক্ত নিয়মের আওতায় আসবে না। তবে-
  • সরকারি কর্মচারিদের ব্যক্তিগত একাউন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে নাগরিকসূলভ আচরণ ও অনুশাসন মেনে চলতে হবে।
  • বাস্তব ও স্বাভাবিক অবস্থায় একজন সরকারি কর্মচারির আচরণ, প্রকাশ, মিথষ্ক্রিয়া সংক্রান্ত নীতি, করণীয় বর্জনীয় দিক সমূহের প্রতিফলন সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে।
  • কন্টেন্ট বা ফ্রেন্ড নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
  • অপ্রয়োজনীয় ট্যাগিং বা রেফারেন্সিং পরিহার করতে হবে।
  • সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার, ক্ষতিকারক কন্টেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারি দায়ী থাকবেন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের আওতায় আসতে বাধ্য থাকবেন।

কন্টেন্ট যেমন হবে:

  • টেক্সট, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি গুরুত্বের সঙ্গে নির্বাচন করতে হবে।
  • প্রদত্ত তথ্য উপাত্তের নির্ভরযোগ্যতা থাকতে হবে।
  • ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পোস্ট প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া যাবে না।
  • অপ্রয়োজনীয় বা গুরুত্বহীন পোস্ট দেয়াকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
  • গুরুত্বপূর্ণ পোস্টগুলোর আর্কাইভ, পুনঃপ্রদর্শন ও শেয়ারিংয়ে উৎসাহিত করতে হবে।

সরকারি আইন ও বিধি-বিধানের প্রযোজ্যতা:

সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে প্রযোজ্য অন্যান্য আইন ও বিধি-বিধানের পাশাপাশি অফিশিয়াল সিক্রেট্স এ্যাক্ট ১৯২৩, সরকারি কর্মচারি (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৮৫, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬, কপিরাইট আইন ২০০০, ইত্যাদি প্রযোজ্য হবে।

যা পরিহার করতেই হবে:

  • জাতীয় ঐক্য ও চেতননার পরিপন্থী কোন রকম কন্টেন্ট প্রকাশ করা যাবে না।
  • কোন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কন্টেন্ট দেয়া যাবে না।
  • রাজনৈতিক মতাদর্শ বা আলোচনায় সংশ্লিষ্ট কোন কন্টেন্ট প্রকাশ করা যাবে না।
  • কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে হেয় প্রতিপন্ন করে এমন কন্টেন্ট দেয়া যাবে না।
  • লিঙ্গ বৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক কন্টেন্ট দেয়া যাবে না।
  • জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টিকারি কন্টেন্ট পরিহার করতে হবে।

পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন:

  • প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নিজ দপ্তরে যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে।
  • নিয়মিত স্যোসাল মিডিয়া সংলাপের মাধ্যমে নিজ নিজ দপ্তরের উদ্যোগ  পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করতে হবে।
  • প্রত্যেক পঞ্জিকা বছর শেষে সেরা পোস্ট, কন্টেন্ট, সেরা নাগরিক, সেরা সমাধান, সেরা প্রচার ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া যেতে পারে।

নির্দেশিকাটি অনুসরণে কোন সমস্যা বা অসুবিধা হলে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার ইউনিট অথবা এটুআই প্রকল্পের নজরে আনয়ন করা যেতে পারে। 


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

সামাজিক-যোগাযোগ-মাধ্যম, ব্যবহার, সরকারী-চাকুরী, নির্দেশ, নিয়ম