সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

eve-teasing.jpg

ইভটিজিং একটি বড় সমস্যা

সরকার নিয়ম-নীতি করবেন, ইভটিজিংয়ের শাস্তি হবে, ইভটিজিং কমবে এমনটি আশা করা যথেষ্ট নয়। আইন-কানুন, নীতি নিয়ম, যার যার গতিতে চলতে থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে রেহানা চারদিন ধরে স্কুলে যাচ্ছে না। মেয়ের এ আচরণে মা চিন্তায় পড়ে গেলেন। জিজ্ঞেস করলে বলে শরীর ভালো না। মেয়ের আচরণে অন্য রকম মনে হয় মা'র। অনেক কৌশল করে জানা যায়, কয়েকটি বখাটে ছেলে তাকে স্কুলে যাবার পথে বিরক্ত করে। খারাপ কথা বলে, খারাপ ভঙ্গিমায় টিপ্পনি কাটে। এতে রেহানা বেশ অস্বস্তি বোধ করে। এর প্রতিকারে সে কিছু ভাবতে পারে না। তাই স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের কোথাও কোথাও এ ধরনের সামাজিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়। সাহস করে অভিভাবককে জানানো অথবা সহপাঠীরা মিলে এর প্রতিরোধ অনেকেই করতে পারে না। ফলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করা ছাড়া আর উপায় থাকে না। অথচ এর প্রতিরোধের উপায় অবশ্যই বের করতে হবে।

সমাজে বসবাসের জন্য প্রত্যেককে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। আর এ নিয়ম-কানুন মানার বিষয়টি প্রথমত আসে সামাজিক সচেতনতা থেকে। পাশাপাশি যে বিষয়টি আমাদের প্রভাবিত করে তা হচ্ছে শিক্ষা। মূল বিষয় হচ্ছে শিক্ষা আর সচেতনতা, যা একে অপরকে প্রভাবিত করে। 

আমাদের বিবেকে এক ধরনের তাড়না সৃষ্টি করে যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় এ দু'টির স্বল্পতা ও সমন্বয় সাধনের অভাবে ব্যক্তি অনেক সময় নিজেকে তার বিবেকের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকতে না পেরে অযাচিত আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। 

উঠতি বয়সের ছেলেরা বুঝে না বুঝে জোয়ারে গা ভাসিয়ে দিয়ে বখাটে হয়ে পড়ছে, বাড়ছে ইভটিজিং প্রবণতা। ক্রমাগত ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে যা আমাদের বিশেষভাবে ভাবিয়ে তুলছে। এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেয়ার এখনই সময়। প্রতিরোধের উপায়ও বের করা জরুরি।

আমাদের ছেলেমেয়েদের, বিশেষভাবে শহরাঞ্চলের ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ঘরে বসে থাকতে থাকতে একঘেয়েমি পেয়ে বসে। কেউ কেউ ঘুরতে ফিরতে, কখনো বা হাসির ছলে করে ফেলছে বিরূপ আচরণ যা ধীরে ধীরে তাদের নিয়ে যাচ্ছে ইভটিজিংয়ে। 

সরকার নিয়ম-নীতি করবেন, ইভটিজিংয়ের শাস্তি হবে, ইভটিজিং কমবে এমনটি আশা করা যথেষ্ট নয়। আইন-কানুন, নীতি নিয়ম, যার যার গতিতে চলতে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এগুলো ইভটিজিং পুরোপুরি রোধ করে না, ইভটিজিং রোধ করবে আমাদের সামাজিক সচেতনতা, আমাদের শিক্ষা, আমাদের অলস সময়কে যথোপযুক্তভাবে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত খেলাধুলার পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টিতে। 

বিভিন্ন পরিবেশ পরিস্থিতির আলোকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের যুব মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বন ও পরিবেশসহ এ সম্পর্কিত অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সঠিক দিকনির্দেশনা পারে একটি সুন্দর-সহজ পরিবেশবান্ধব পথের সন্ধান দিতে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নতুন নতুন সমস্যা সৃষ্টির পাশাপাশি পুরাতন প্রচলিত সমস্যা সমাধানে নতুন নতুন সুচিন্তিত কৌশল অবলম্বন জরুরি। অধিক জনসংখ্যার এই দেশে একের পর এক সমস্যা যেমন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে ঠিক বিপরীতভাবে পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যার যথোপযুক্ত সমাধানে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া ও তার বাস্তবায়ন জরুরি। তবে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হলে দিনে দিনে সমস্যাসমূহ স্তূপাকারে বাড়তে থাকবে, যার পরিণতি হতে পারে ভয়ঙ্কর।

এ সমস্যা আমাদের সকলের। তাই একে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে অযথা সময় নষ্ট না করে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় সকলের সমান অধিকারের পাশাপাশি জটিল সমস্যা সমাধানে সকলের স্বেচ্ছায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণই পারে একটি সুষ্ঠু-সুন্দর সমাধান দিতে। 

আর এর ফলে উপকৃত হবে যুবসমাজ, যারা দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার হিসেবে তৈরি করবে নিজেদের। মানুষ হিসেবে সমগ্র বিশ্বের উন্নয়নই আমাদের কাম্য। যেসব দেশ আজ সমগ্র বিশ্বে সভ্য জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে তাদের ইতিহাস যদি আমরা জানার চেষ্টা করি তাহলে আমরা দেখতে পাই যে এর পিছনে সে দেশের কোনো সরকারের একক ভূমিকা নেই, আছে সে দেশের সম্মিলিত জনসাধারণের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সদিচ্ছা, সচেতনতা, শিক্ষা।

সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়াও শহরে ওয়ার্ড কমিশনার, গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ সামাজিক সমস্যা দূর করতে এগিয়ে আসেন। এর পাশাপাশি যুবসমাজের একটি অংশ সংঘবদ্ধভাবে ভালো কাজে এগিয়ে আসতে পারে। ইভটিজিংয়ের মতো আরো অনাচার, নির্যাতনমূলক কাজ প্রতিরোধে সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা খুবই কার্যকর হতে পারে।

রেহানার মতো স্কুল পড়ুয়া মেয়েরা যাতে যাওয়া-আসার পথে বখাটেদের অসৌজন্যমূলক কথা-বার্তার মধ্যে না পড়ে সে বিষয়ে যুবসমাজকে আজই সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের পাশেই আছে। এ ব্যাপারে ভালো কাজের দৃষ্টান্ত হিসেবে সমস্যা জিইয়ে না রেখে সমাধানে সবাই যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসবেন। এ প্রত্যাশা বিবেকবান সকলের। 
এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

ইভ-টিজিং, স্কুল-ছাত্রী, মানবতা, সামাজিকতা, যুবসমাজ, নৈতিকতা