সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

8476624791_ac7a5a8357_b.0.0.jpg

১৪ মার্চ পাই দিবস পাই (π) এর ইতিহাস

সূত্রটি হল: “১০০ এর সাথে ৪ যোগ করে ৮ দ্বারা গুণ করে ৬২০০০ যোগ করে পাওয়া যায় বৃত্তের পরিধি। যাকে ব্যাস ২০০০০ দ্বারা ভাগ করলে পাই এর মান আসবে ৩.১৪১৬। তাঁর সূত্র থেকে প্রাপ্ত মান এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে।

আজ ১৪ মার্চ। বিশ্ব পাই দিবস। ল্যারি শ (Larry Shaw) ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে প্রথম পাই দিবস উদযাপন করেন। সেই থেকে প্রতি বছর পাই দিবস উদযাপিত হচ্ছে। গাণিতিক ধ্রুবক পাই (π) এর মান ৩.১৪ হওয়ায় ১৪ মার্চ দিবসটি পালিত হয়। পাই এর মান ৩.১৪১৫৯২৬..... যা একটি অসীম ও অনাবৃত মান। বৃত্তের পরিধিকে ব্যাস দ্বারা ভাগ করলে মানটি পাওয়া যায়। পাই এর মান থেকে প্রাপ্ত সংখ্যার ভিত্তিতে দুপুর ১ টা ৫৯ মিনিটি ২৬ সেকেন্ডকে পাই সেকেন্ড বলা হয় এবং কাছাকাছি সময়েই দিবসটি উদযাপিত হয়। আজ আবার আইনস্টাইনেরও জন্মদিন।

বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির উদ্যোগে ২০০৬ সালে প্রথম পাই দিবস উদযাপিত হয়। বর্তমানে দেশের কিছু গণিত ক্লাব ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নানাবিধ আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করে। শোভাযাত্রা, পাই এর মান বলা, পাই নিয়ে আলোচনা, পাই দিবসের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে দিবসটি ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে।

স্মৃতি থেকে পাই এর মান বলায় শীর্ষে যারা:

আমরা জানি পাই এর মান অসীম। তাই এর মানের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। http://www.ilikepi.com/10-000-digits-of-pi/ লিঙ্কটিতে ১০ হাজার সংখ্যা আছে। সংখ্যা নিয়ে উৎসাহী অনেকেই অনেকগুলো সংখ্যা মুখস্ত বলে দিতে পারেন। ১৯৮১ সালে ভারতীয় ব্যক্তি রাজন মহাদেব সঠিকভাবে দশমিকের পর ৩১ হাজার ৮১১ পর্যন্ত সংখ্যা বলেছিলেন। 

১৯৮৯ সালে জাপানি নাগরিক হিডেকি টমোয়োরি বলেছিলেন ৪০ হাজার সংখ্যা। এখন পর্যন্ত পাই এর মান বলে গিনেস বুকে যার নাম অন্তর্ভূক্ত আছে তিনি হলেন চীনের লু চাও। তিনি ২০০৫ সালে পাই এর ৬৭ হাজার ৮৯০ টি সংখ্যা বলেছিলেন।

পাই এর ইতিহাস:

  • প্রাচীন ব্যবিলনীয়রা ৪০০০ বছর পূর্বেই পাই এর অস্তিত্বের কথা জানতেন। যিশু খ্রিস্ট্রের জন্মের পূর্বে ১৯০০-১৬৮০ সালে প্রাপ্ত ব্যাবিলনীয় ট্যাবলেটে (পাথর দ্বারা নির্মিত এক ধরনের ফলক যাতে নকশা খোদাই করা থাকে) পাই এর মান ৩.১২৫ হিসেব করা ছিল।
  • ১৬৫০ অব্দে মিশরীয় গণিতবিদ প্যাপিরাস পাই এর মান বের করেছিলেন ৩.১৬০৫।
  • ৮০০ অব্দের বাইবেল (1 kings 7:23) থেকে জানা গিয়েছিল পাই এর মান ৩।
  • প্রথম জ্যামিতিক উপায়ে পাই এর মান নির্ণয় করার চেষ্টা করেছিলেন আর্কিমিডিস। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে বের করতে ব্যর্থ হন। তবে গাণিতিক অসমতার মাধ্যমে মানটি দেখান ২২৩/৭< π<২২/৭। তিনি পাই এর মান নির্ণয় করতে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে ঘরে শত্রু প্রবেশ করে তাকে হত্যা করে!
  • ত্রিকোণমিতির জনক টলেমি পাই এর মান ১৫০ সালেই বলেছিলেন ৩.১৪১৬৬৬। তবে কিভাবে হল তার ব্যাখ্যা অজানাই রয়ে গেছে। ভারতের আর্যভট্ট পাই এর মান নির্ণয়ের সূত্র দেন ৫০০ সালে। সূত্রটি হল: “১০০ এর সাথে ৪ যোগ করে ৮ দ্বারা গুণ করে ৬২০০০ যোগ করে পাওয়া যায় বৃত্তের পরিধি। যাকে ব্যাস ২০০০০ দ্বারা ভাগ করলে পাই এর মান আসবে ৩.১৪১৬। তাঁর সূত্র থেকে প্রাপ্ত মান এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে।
  • পাই এর মান নির্ণয়ে ১২২০ সালে কাজ করেছিলেন ফিবোনাক্কি ও ১৬৬৫ সালে আইজ্যাক নিউটন। 
  • আর পাই এর প্রতীক, π সর্বপ্রথম ১৭০৬ সালে ব্যবহার করেছিলেন উইলিয়াম যোনস।
  • অস্টাদশ শতাব্দীতে পাই এর দুটি বৈশিষ্ট্য অমূলদ ও ট্রান্সডেন্টাল (বীজগণিতের সমাধান হিসেবে লেখা যায় না) আবিষ্কৃত হয়।

আমরা বর্তমানে পাই এর মান ব্যবহার করি ৩.১৪১৬। আর নাসার গবেষণাগারে দশমিকের পর ৩৯ সংখ্যা পর্যন্ত গণনা হয়। পাই নিয়ে গণিতবিদ, গবেষক ও বিজ্ঞাণীদের আগ্রহের শেষ নেই। তাই তারা প্রতিনিয়তই পাই এর নতুন নতুন মান বের করার চেষ্টা করেই যাচ্ছে। এই গবেষণা হয়তো চলবেই...

সূত্র: লাইভ সাইন্স, পাই ডে ওয়েবসাইট।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

পাই, দিবস, ৩.১৪১৬, গনিত