সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

scream-munch.jpg

টিএসসিতে কোন কুকুর যায়নি, মানুষ নামক প্রাণী গিয়েছিল!

মানুষই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে একমাত্র প্রাণী যাদের রয়েছে উন্নত মস্তিষ্ক। সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমে নিজেদের পরিচালিত করার মত এত উন্নত মস্তিষ্ক আর কোন প্রাণীর নেই। একমাত্র মানুষেরই রয়েছে সঠিকভাবে আকড়ে ধরার হাত। বানর, গরিলাদের থাকলেও তা মানুষের হাতের মত শক্তিশালী নয়। সৃষ্টি কর্তা মানুষকে উত্তমরূপে সৃষ্টি করেছেন। আর এদের দিয়েছেন সুন্দর আবাসস্থল।

মানুষ বুদ্ধি ও জ্ঞানের দ্বারা আকাশ পাতাল সর্বত্রই তাদের পদচিহ্ন অংকন করেছে। অথচ পাখির পাখা থাকা স্বত্বেও চাঁদে যেতে পারেনি। অবশ্য এ নিয়ে পাখিদের মাথা ব্যথাও নেই।

প্রাণীজগতের সকল প্রাণীই কোন না কোনভাবে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত। একথাটা সম্ভবত নবম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বইয়ে পড়েছিলাম। তখন চট করে একটা প্রশ্ন করেছিলাম, স্যার মশা কিভাবে উপকার করে? স্যার রসিকতা করে বলেছিলেন হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের (মশারি তৈরি ও বিক্রি) ব্যবস্থা করে। অবশ্য স্যার পরে বলেছিলেন এরও কাজ আছে হয়ত আমরা এখনো জানি না।
যাইহোক আমরা মানুষ নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর ওস্তাদ। যদি কাউকে বলা হয় বিড়ি খাও কেন? সে বলবে বিড়ি তৈরি করে কেন? অথবা ওমুক খায়...

দেখুন টিএসসিতে সেদিন কোন কুকুর যায়নি, শুকুর যায়নি, হায়েনা কিংবা শকুন যায়নি। যায়নি কোন পশু (বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক ইত্যাদিকে পশু আখ্যায়িত করা হয়)। গিয়েছিল কারা? মানুষ নামক অতিব বুদ্ধিমান প্রাণী। সেই ঘটনার পর থেকে কত শত গালি-গালাজের বন্যা বয়ে গেছে প্রাণীর উপর দিয়ে (মানুষ বাদে)। কেউ বলছে কুত্তার বাচ্চা, কেউ আবার হায়েনা, ছাগু (ছাগল), শকুন ইত্যাদি। আবার দেশের স্বনামধন্য লেখকরা লিখছে এসব বস্ত্রহরণকারী পশুর থেকেও নিকৃষ্ট! তারমানে তাদের কথায় বোঝা গেল পশুরা খারাপ। আমি আরো অবাক হই যারা ভেটেরিনারি (প্রাণীদের নিয়ে) মেডিসিনের উপর পড়াশোনা করছে আমার এমন কিছু বন্ধুও বিভিন্ন প্রাণীর নাম নিয়ে গালি-গালাজ করছে!

আমার মতে পশু, পাখি কিংবা প্রাণীদের নিয়ে যাদের জ্ঞান নেই তারাই কেবল গালির ভাষা হিসেবে এসব নাম ব্যবহার করতে পারে। ছোটবেলায় বইয়ে পড়েছিলাম কাককে বলা হয় কুৎসিত পাখি এবং কর্কশ শব্দে ডাকে। কাক যে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখে তা কে বলবে? এরা কি মানুষের উপকার করে না?

আবার গালি দিচ্ছে শকুন বলে! এককালে মরা গরু খেত শকুন। শকুন মানুষকে রক্ষা করত অ্যানথ্রাক্স রোগ থেকে। এদেরকে বলা হয় প্রকৃতির ঝাড়–দার (অনেকে কাককেও বলেন)। জীবিত গরু খেত বলে শুনিনি। আর মানুষ নিজের স্বার্থে ডাইক্লোফেনাক নামক ব্যথানাশক ঔষধ ব্যবহার করল। যার  ফলে শকুন মরে শেষ। এতদিনে বলে ডাইক্লোফেনাক নিষিদ্ধ। আমি বলি শকুন মরে শেষ এখন ডাইক্লোফেনাক ব্যবহার বন্ধ করে কি হবে?

কুকুরের সাথে আমরা সবাই পরিচিত। আদিমকালে গুহা মানবরা তাদের নিরাপত্তার জন্য কুকুর পোষা শুরু করেন। কুকুর তার মনিবকে বাঁচানোর জন্য বাঘের সাথেও লড়াই করত। যদিও কুকুর বাঘের সাথে লড়াই করে পারবে না। কিন্তু ঐ যে নিমক খেয়েছে? তাই সে মনিবের গুন গাইছে। প্রভূভক্তিতে কুকুরের সমকক্ষ আর কোন প্রাণী নেই। মনিবের কবরের পাশে বসে থাকা, মৃত মনিবকে খুঁজে খুঁজে ফেরার মত ইতিহাস আছে কুকুরের। আর মনে করে দেখুনতো সিরাজউদ্দৌলার সাথে হঠকারিতা কে করেছিল? তার খালা ঘসেটি বেগম, শওকত জং, জগতশেঠ সহ আরো অনেকে। এরা কিন্তু মানুষ।

ছাগলের উপকারীতা সবারই জানা আছে। একে গরীবের গরু বলা হয়। এটিকে নিয়ে বলার দরকার আছে বলে মনে করিনা।
বাঘ নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই। বাঘ শৌর্য-বীর্যের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহার হয়। আমাদের ক্রিকেট টিমকে টাইগার বলে বাঘকে সন্মানই করা হয়। তবে হিংস্র বাঘ, হায়না ইত্যাদি বলে গালি দেয়া কতটা যৌক্তিক তা আমার বুঝে আসে না। বাঘকে কারা হিংস্র করেছে? বাঘের আবাস্থল ধ্বংশ করে, হরিণ মেরে ফেলা হচ্ছে। তাইতো বাঘ খাদ্যের সন্ধানে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে লোকালয়ে আসছে। অন্যথায় আসত না। আর পেট ভরা থাকলে বাঘ, সিংহ শিকার করে না। ঘুমিয়ে কাটায়। হায়েনারাও আমার আপনার বাসায় এসে হামলা করে মাংস খাবে না। আবার বাঘ নাকি মানুষ মারে তাই এরা খারাপ! দেখুন মানুষওতো মানুষ মারে। তাহলে মানুষ কি শ্রেষ্ঠ ও সভ্য জীব?

প্রাণীর প্রজনন অভ্যাস একটু বলতে হচ্ছে। কুকুর সারাবছরই যৌন মিলন করেনা। বছরের নির্দিষ্ট সময়েই করে। বাঘ জঙ্গলের ভিতর একটি নির্দিষ্ট জায়গা নিয়ে থাকে। এরপর অনেকগুলো পুরুষ বাঘ মারামারি করার পর জয়ী বাঘকে নিয়ে বাঘিনী ঘন জঙ্গলে যায় ও মিলন করে। ও হ্যাঁ বাঘগুলো কিন্তু মারামারির সময় বাঘিনীর সাথে সংঘর্ষ করে না। আর মানুষের যৌন মিলন সারা বছরই হয়। এরা প্রেমিক-প্রেমিকার নিয়ে সংঘাত করবে, অন্যের বউয়ের দিকে নজর দিবে। ধর্ষন করবে।

আবেগ থেকে একটু সরে দাঁড়ান। আবেগ থাকলে এই কথাটা আপনাকে পড়তে বলছিনা। আমার বয়স ২৩ হলেও পরিবারের কোন উপকারে আসতে পারিনি। এখনো টাকা-পয়সার জন্য পরিবারের উপর নির্ভরশীল। অথচ বাবা আমার পরিবর্তে ২৩ বছর ধরে ছাগল লালন-পালন করলেও বাবার অনেক উপকার হত। আবার কিছু বাবা মায়ের সন্তানরা এমন সব আচরণ করে যাতে বাবা মা তাদের প্রতি বলতে থাকে এ সন্তান না থাকাই ভাল ছিল!

প্রাণী কতটা উপকারী তা এই ছোট লেখায় সম্পূর্ণ তুলে ধরা সম্ভব নয়। মানুষের থেকে শ্রেষ্ঠ কোন প্রাণী হতে পারবে না এটা ঠিক। তবে আমাদের শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিতে হবে কাজে কর্মে মেধা ও মননে। মানুষকে প্রাণীদের সাথে তুলনা করা বা প্রাণী থেকে কতটা খারাপ তা বলার জন্য যুক্তি খোঁজার দরকার নেই। শুধু মনে রাখলেই হবে প্রাণীদের জীবন মৃত্যুর মাধ্যমেই শেষ হলেও মানুষের জীবন কিন্তু শেষ হয় না। তাই সর্বোচ্চ মেধার অধিকারী মানুষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে এমন কিছু কাজ করবে না যাতে তাদেরকে শুধুই ধিক্কার জানাতে হয়। তাই প্রাণীর নামে গালি না দিয়ে যদি গালি দিতেই হয় তাহলে গালির বিকল্প খুঁজুন। তবে মনে রাখতে হবে গালি কোন কিছুরই সমাধান নয়।

-
লেখক: মোঃ সাইফুল ইসলাম
ইন্টার্ণশীপ শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

crime, Bangla, boishakh, TSC, Women, Insult, Abuse