সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

quit-smoking.jpg

জনসেচেতনতা ধূমপান বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা জরুরি

জেনে শুনেই বিষ পান করছে এমন লোকের সংখ্যা আজ অজস্র। আসুন সকলে মিলে সরকারের পাশাপাশি যার যার অবস্থান থেকে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সচেতনতা সৃষ্টি করি। সকলে সিগারেট বর্জন করি।

সিগারেটের প্যাকেটে লেখা আছে “সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর”। যেখানে সেখানে সিগারেট খেলে জরিমানার আইনও সরকার করেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার দায়িত্ব আপনার-আমার। যিনি স্বাস্থ্য সচেতন তিনি স্বাস্থ্য ভালো রাখার সুফল জানেন, তাই তিনি যথারীতি নিজেকে বাঁচিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত জীবন ব্যবস্থা মেনে চলেন।

স্বাভাবিক জীবনযাপন আমাদেরকে সুন্দর করে, সুস্থ রাখে। তবে স্বাস্থ্য সচেতন হলেই যে মানুষ মাত্রই স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হচ্ছে তা কিন্তু নয়। জেনে শুনেই বিষ পান করছে এমন লোকের সংখ্যা আজ অজস্র। পৃথিবীব্যাপী তাই ভয়াবহভাবে মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাব দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। অকাল মৃত্যু হচ্ছে লাখ লাখ মানুষের। আমরা অনেকেই নীরব ঘাতক এই সিগারেটের কাছে নত হয়ে মারণ ব্যাধি ফুসফুস ক্যানসার, মুখের আলসারকে স্বাগত জানাচ্ছি, শ্বাসকষ্টে ভুগছি বছরের পর বছর, একসময় মৃত্যুবরণও করছি।


বাংলাদেশ সরকার ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ধূমপায়ী বা মাদকাসক্তদের মেডিকেল শিক্ষার সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মেডিকেলে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীকে ভর্তির সময় ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়ে প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। ধূমপান এবং মাদকাসক্তি নিরুৎসাহিত করতেই এই পদক্ষেপ। 

এক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষায় পাস করার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে একটি প্রত্যয়ন পত্র দেখাতে হবে যে সে ধূমপায়ী বা মাদকাসক্ত নয়। পরিবারের শিশুর দিনে দিনে মা-বাবা আত্মীয়-স্বজনের আদর-সোহাগ, ভালোবাসা, শাসন পেয়ে বড়ো হয়। আস্তে আস্তে পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজে মিশতে শুরু করে। একসময় স্কুল, কলেজে সহপাঠী, বন্ধু, বড়োদের সংস্পর্শে এসে নিজেকে মেলে ধরে। 

আচার-আচরণে একে অপরকে প্রভাবিত করে। জীবনধারায় পরিবর্তন আসতে শুরু হয়। সকলের মাঝে নিজের একটা স্থান করে নেয়। তারপর ধীরে ধীরে নিজেকে বিকশিত করে জগৎ সংসারে ব্যক্তি পরিচয়ে বড়ো হতে থাকে। জীবনের এ চলার পথে একে অন্যের সাহচর্যে কখনো ভালো দিকে এগিয়ে যায় আবার কখনও বা বিপথগামী হয়ে পড়ে। 

সমাজে প্রচলিত রীতিনীতির ভালো-খারাপ দিক বিবেচনায় কেউ বা মানুষের মতো মানুষ হয়। আর কেউ কেউ খারাপ বন্ধুর সাহচর্যে নিজেকে বিপথগামী করে জড়িয়ে ফেলে কু-অভ্যাসে। এ রকম কু-অভ্যাসের মধ্যে ধূমপান বা মাদকাসক্তি বর্তমান সময়ের এক বড় সমস্যা। 

যুবক বয়সে নিজেকে অন্যের কাছে মেলে ধরতে- ধূমপান বা মাদকাসক্ত হওয়া মানে যেন যুগের সাথে তাল দিয়ে চলা। নিজের সর্বনাশ করে জাতে উঠতে উঠতে তারা এক সময় মৃত্যুর হাতছানিতে নিজেকে এগিয়ে নেয়। যারা কোনো ভালো সাহচর্যে আসার সুযোগ পায় তারা নতুন জীবনের স্বাদ পেলেও বাকিরা ধীরে ধীরে রোগাক্রান্ত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগতে ভুগতে একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।


ধূমপান নিবারণে কিন্তু আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই বললেই চলে। যেখানে সেখানে সিগারেট খেলে জরিমানার নিয়ম আছে। যেখানে সেখানে যে কেউ কিনতে পারে, খেতেও তেমন অসুবিধা হচ্ছে বলে দেখা যায় না। আর এর মাধ্যমে ধূমপায়ী নিজের সর্বনাশ তো করছেই, এর প্রভাবে আশপাশের মানুষগুলোরও সর্বনাশ ডেকে আনছে। 

পৃথিবীর উন্নত অনেক দেশে ধূমপানের জন্য বিশেষ নিয়ম-কানুন আছে, যা অধূমপায়ীদের স্বার্থরক্ষা করে। যেখানে সেখানে ইচ্ছা করলেই ধূমপান করা যায় না। নির্দিষ্ট স্থানেই ধূমপানের সুযোগ থাকে। অপ্রাপ্তবয়স্করা ইচ্ছা করলেই দোকান থেকে সিগারেট কিনতে পারে না, অনেক ক্ষেত্রে আইডি কার্ড দেখিয়ে বয়স প্রমাণসাপেক্ষে সিগারেট কিনতে হয়। 

বাংলাদেশে এখন কিছু মহিলা ধূমপায়ী চোখে পড়ে। দিনে দিনে এদের সংখ্যাও উলে­খযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এ ধারা অব্যাহত থাকলে মারণব্যাধি ফুসফুস ক্যানসার, মুখের আলসার, শ্বাসকষ্টসহ কঠিন রোগের প্রকোপ অচিরেই সমাজকে কঠিনভাবে আক্রান্ত করবে।


সরকারের সদ্য নেয়া মেডিকেল কলেজসমূহে অধূমপায়ীদের ভর্তির বিষয়টি এখন অনেকের কাছে প্রশংসিত। ইতোপূর্বে অনেককে বলতে শোনা গেছে- আচ্ছা ক্যানসার এত বড়ো মারাত্মক রোগ জেনেও একজন ডাক্তার কীভাবে সিগারেট খান? একজন রিকসা চালককে বলতে শোনা গেছে- বড় বড় শিক্ষিত লোক সিগারেট খায় তাতে দোষ নেই আর আমি পাতার বিড়ি খাই এটা আর এমন কী।

আর যখন তারা কঠিন রোগে আক্রান্ত হয় তখন বলতে থাকে “আমাগের আর দোষ কী, শিক্ষিত বড় বড় মানুষের খেতি দেখতি দেখতি আমাগেরও খেতি ইচ্ছি হচ্ছিল পরে আর ছাড়তি পারলাম কই। এখন ভুগে মরছি আর মৃত্যুর দিন গুনছি”। তাই সিগারেট কেবলমাত্র যে খায় তার একার ক্ষতি নয় এটা দেশের, সমগ্র জাতির ক্ষতির কারণ। আসুন সকলে মিলে সরকারের পাশাপাশি যার যার অবস্থান থেকে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সচেতনতা সৃষ্টি করি। সকলে সিগারেট বর্জন করি।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

ধূমপান, আইন, সচেতনতা, ক্যান্সার, দূষণ, ব্যবস্থা