সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Nash.jpg

ফোর্বস ন্যাশ জুনিয়র প্যারানয়েড সিজেফ্রেনিয়া রোগী থেকে বিখ্যাত গণিতবিদ

মানুষের জীবনে খারাপ সময় আসতে পারে, তাই বলে খারাপ সময়কে আকরে ধরে থাকলে জীবন থেমে থাকবেনা। দুঃখ এর পরেই সুখ আসে। এই সুখের জন্যে লেগে থাকতে হয়।

জন ফোর্বস ন্যাশ জুনিয়র, অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী বিশ্ববিখ্যাত গণিতবিদ। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ব্লুফিল্ড শহরে ১৯২৮ সালের ১৩ জুন জন্মগ্রহণ করেন ন্যাশ। বাবা ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মা ল্যাটিন ভাষার শিক্ষিকা। ছোটবেলা থেকেই ন্যাশ দারুণ মেধাবী। ফলে ডাকনাম জুটে গিয়েছিল একটা- 'বড় মাথা'।

বাবাকে দেখে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার শখ, তাই সে সময়কার বিখ্যাত শিক্ষায়তন কার্নেগি টেকে ভর্তি। প্রযুক্তিবিদ্যার পাঠক্রম ভালো লাগল না। তাই কোর্স বদলে কেমিস্ট্রি। তাও ভালো নয়। শেষমেশ গণিত।


গেম থিয়োরি, ডিফারেনশিয়াল জিয়মেট্রি, পার্শিয়াল ডিফারেনশিয়াল ইকোয়েশনে তাঁর কাজ এই বিষয়গুলিতে মাইলফলক হয়ে আছে। ন্যাশ ছিলেন প্যারানয়েড স্কিৎসোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। তাঁর জীবনের একটা বড় অংশ কেটেছে মানসিক রোগের হাসপাতালে। 

তার জীবনেও উত্থান পতন ছিল। নানা কারণে বিতর্কিতও ছিল। একের পর এক প্রেমিকা বদল। সমকামী সম্পর্কও একাধিক। এক বার গ্রেপ্তার হলেন পুরুষদের শৌচাগার থেকে। ক্রমে মানসিক জীবন বিপর্যস্ত। ন্যাশ তখন উদ্ভ্রান্ত, মানসিক বিকারগ্রস্ত। চাকরি খুইয়ে বেকার। প্রায় বদ্ধ পাগল হিসেবে ঘুরে বেড়ান প্যারিস কিংবা লন্ডন।

কখনও ভাবেন তিনি আন্টার্কটিকার প্রেসিডেন্ট, কখনও ‘শোনেন’ তাঁকে পাঠানো এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়ালদের গোপন বার্তা। হায়, একদা যিনি যুক্তির শ্রেষ্ঠ পূজারী, তিনিই কিনা আবোল তাবোলের সম্রাট! ফল মারাত্মক। বারবার মানসিক হাসপাতালে ভর্তি। সেই ঘোর দুঃসময়ে সর্বক্ষণ তাঁর পাশে পাশে স্ত্রী অ্যালিসিয়া। মানসিক বিকৃতির কারণে অনেক পুরস্কার থেকে গিয়েছিল অধরা। এমনকি গণিতের সেরা শিরোপা ফিল্ডস মেডেলও।   

এই পৃথিবীতে বিখ্যাত অর্থনীতিবিদের অভাব নেই। তাঁদের মধ্যে নোবেল বিজেতাও ডজন-ডজন। ওঁদের ভিড়ে ন্যাশ এক ব্যতিক্রমী চরিত্র। ১৯৯৪ সালে যখন অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল ন্যাশকে, সেটা শুধু এক বিরাট আবিষ্কারের স্বীকৃতিই ছিল না। ব্যক্তিগত জীবনে এক গভীর খাদ থেকে উত্তরণের স্বীকৃতিও ছিল।

বিপুল প্রতিভার অধিকারী, উপন্যাসের মতো উত্থান-পতনসমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী ন্যাশ সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে আছেন ২০০১ সালে রন হাওয়ার্ড নির্মিত চলচ্চিত্র ‘এ বিউটিফুল মাইন্ড’-এর নায়ক হিসেবে। ওই বায়োপিক তৈরি হয়েছিল নিউইয়র্ক টাইমসের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদদাতা সিলভিয়া নাশার রচিত একই নামের বইটি থেকেই। ‘আ বিউটিফুল মাইন্ড’ সেরা ছবির পুরস্কারসহ পেয়েছিল চারটি অস্কার। অস্কার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দর্শক সারিতে কালো টাই পরে মুখে স্মিত হাসি নিয়ে বসেছিলেন জন ন্যাশ।

২০১৫ সালের ২৩শে মে এক মর্মান্তিক সড়ক 
দুর্ঘটনায় এই বিখ্যাত গণিতবিদ মৃত্যুবরণ করেন। 

তার জীবন কাহিনী থেকে আমরা শিখতে পারি যে মানুষের জীবনে খারাপ সময় আসতে পারে, তাই বলে খারাপ সময়কে আকরে ধরে থাকলে জীবন থেমে থাকবেনা। দুঃখ এর পরেই সুখ আসে। এই সুখের জন্যে লেগে থাকতে হয়।

সুত্র ও ছবিঃ ইন্টারনেট।



এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

সিজেফ্রেনিয়া, গণিতবিদ, হতাশা, ঘুরে-দাঁড়ানো