সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

kidney.png

আজ কিডনি দিবস শিশুর কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির বিষয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতেই বিভিন্ন প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে “শিশুদের কিডনি রোগ: শুরুতেই প্রতিরোধ”।

দেহের অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গের মধ্যে একটি হচ্ছে কিডনি। এটি রক্ত থেকে পানি ও লবণ পরিশোধন করে মূত্র তৈরি করে। কিডনি থেকে রেনিন নামক এনজাইম তৈরি হয় যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের দেশের প্রায় ২ কোটি লোক কোন না কোন ধরনের কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়। 

এদের মধ্যে ২৫-৩০ হাজার লোকের হঠাৎ কিডনি বিকল হয়। ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে আক্রান্তদের অধিকাংশই মারা যায়। কিডনি রোগ থেকে বাঁচলে হলে প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা। জানা যায় শুধুমাত্র জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন করলেই ৬৮ ভাগ মৃত্যু কমানো যায়।

প্রতিবছর মার্চের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস উদযাপিত হয়। International Society of Nephrology (ISN) এবং International Federation of Kidney Foundations (IFKF) এ বছর ১১তম কিডনি দিবসের আয়োজন করছে। বিশ্বের ৯০ টি দেশের ৫০ মিলিয়ন লোক একযোগে দিবসটি উদযাপন করে। আমাদের দেশে সেভ লাইফ ফাউন্ডেশন এবং গিফট লাইফ ফাউন্ডেশন  নামে দু’টি সংস্থা নানাবিধ কর্মসূচী পালন করবে।

দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির বিষয়ে স্বাস্থ্য  সচেতনতা বাড়াতেই বিভিন্ন প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্চে “শিশুদের কিডনি রোগ: শুরুতেই প্রতিরোধ”।

শিশুদের কিডনি সুস্থ রাখা সম্পর্কে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে। কারণ বয়স্কদের অধিকাংশ কিডনি রোগই ছোটবেলা থেকেই সৃষ্টি হয়েছিল।

বিশ্বের শতকরা ১০ ভাগ লোক কোন না কোনভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। আগামী ১০ বছরে বেড়ে দাঁড়াবে ১৭ শতাংশ। বর্তমান বিশ্বে লক্ষ লক্ষ লোক কিডনি রোগে আক্রান্ত। এদের মধ্যে রয়েছে শিশুও। কিছু শিশু কিডনি রোগ নিয়েই জন্মায়। আবার অনেকে জন্মের কয়েক বছরের মধ্যেই আক্রান্ত হয়।

সাধারণত দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের কিডনি রোগ আক্রান্ত হবার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। শিশুরা আক্রান্ত হলে রোগটি নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ অধিকাংশ সময়ে জ্বর ছাড়া আর কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না। আবার জ্বর বিভিন্ন কারণেই হতে পারে।

যে সকল লক্ষণ প্রকাশিত হলে শিশুদের ডাক্তারের কাছে নিতেই হবে সেগুলো হচ্ছে:

জ্বর: মূত্র থলিতে প্রদাহ বা ইনফেকশন হলে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর হয়। কিন্তু সামান্য বৃদ্ধি হওয়া তাপমাত্রা সব সময়েই লেগে থাকবে। মূত্রথলিতে প্রদাহ হলেই কিডনি আক্রান্ত হবে এমন না। তবুও বাবা-মায়ের উচিৎ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া।

ঘনঘন প্রস্রাব: শিশু ঘনঘন প্রস্রাব করবে, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হবে। সাধারণত জ্বালাপোড়া হয় মূত্রনালীর জ্বালাপোড়া থেকে। ঘনঘন ও ব্যথাযুক্ত প্রস্রাব সাধারণত মূত্রথলি প্রদাহের লক্ষণ। তবে মারাত্মক কিডনি রোগও হতে পারে।

বমি অথবা ডায়রিয়া: খাবার ও পানীয় পানে অনীহা, বমি, বমি বমি ভাব এবং ডায়রিয়া ইত্যাদি হলে। তবে এই লক্ষণগুলো জন্ডিসের কারণেও হতে পারে।

পেট ব্যথা: বাচ্চারা যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পেট ব্যথার কথা বলে তবে কিডনি রোগ থাকতে পারে। সাধারণত তারা প্রায়ই পেট ধরে থাকে ও খেলাধূলা বা উপভোগ্য কোন কাজেও মন দেয় না।

প্রস্রাবে রক্ত: প্রস্রাবের সাথে রক্ত আসলে, অধিক দূর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব করলে কিডনি সমস্যা আছে ধরা যায়। আবার যদি প্রস্রাবের সাথে পুঁজ আসে তবে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

প্রতিরোধ: কিডনি রোগ প্রতিরোধের জন্য সবাইকে রোগ সম্পর্কে সচেতন করা, রোগ নির্ণয়ের উপায় বোঝানো, শিশুদের স্বাস্থ্যসম্মত জীবনশৈলীর শিক্ষা প্রদান করতে হবে।

শিশুদের কিডনি রোগ প্রতিরোধের জন্য পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর দিতে হয়। ক্রোনিক কিডনি রোগের জন্য অবিভাবকদের উচিৎ হবে বাচ্চার পুষ্টিবিদের সাথে নিয়মিত কথা বলা।

শিশুর খাবারে যে সকল উপাদান থাকতে পারে:

প্রোটিন: পুষ্টিবিদদের পরামর্শ মোতাবেক ডায়ালাইসিসের সময় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার দেয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে। ডিম, দুধ, পনির, মুরগি, মাছ, মাংস, শিম ইত্যাদিতে প্রচুর প্রোটিন থাকে।

সোডিয়াম: শিশুর কিডনি রোগের পর্যায় বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিদ খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ কমাতে অথবা বাড়াতে বলতে পারেন।

পটাশিয়াম: শিশু স্বাস্থ্যবিদ পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন। কারণ অতিরিক্ত পটাশিয়াম হৃদপিণ্ড ও পেশীর সমস্যা সৃষ্টি করে। শিশুর শরীরে কি পরিমাণ পটাশিয়াম আছে তার উপর ভিত্তি করে কিছু ফলমূল ও খাবার এড়িয়ে চলা বা গ্রহণ করার প্রয়োজন পড়তে পারে।

আপেল, স্ট্রবেরী, আনারস, বাঁধাকপি ইত্যাদিতে পটাশিয়াম কম থাকে। অপরদিকে কমলালেবু, তরমুজ, কলা, গোলআলু, টমেটো ইত্যাদিতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে।

ফসফরাস: শিশুর শরীরে ফসফরাস নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখতে হবে।

তরল: কিডনি রোগের কারণে অতিরিক্ত মূত্র তৈরি বা একেবারেই কম মূত্র তৈরি হতে পারে। শিশু স্বাস্থ্যবিদরা এক্ষেত্রে তরলের পরিমাণ বাড়ানো বা কমানোর পরামর্শ দিতে পারেন।

শিশুর কিডনি রোগ প্রতিরোধের জন্য অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক শিশুর চিকিৎসা পদ্ধতি বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিবেন। মনে রাখবেন কিডনি রোগে অবহেলা শিশুর জীবনের জন্য হুমকীস্বরুপ।

সূত্র: বিএসএস, ওয়ার্ল্ড কিডনি ডে ওয়েবসাইট।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

কিডনি-রোগ, ইনফেকশন, মূত্রথলি, দূর্গন্ধযুক্ত-প্রস্রাব, অতিরিক্ত-পটাশিয়াম, ডাক্তারের-পরামর্শ