সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

nickvujicic.jpg

প্রেরণাদায়ক ঘটনা হাত-পা ছাড়াই জীবনযুদ্ধে সফল নিক ভুইয়টসিক

নিক ধীরে ধীরে বুঝতে চেষ্টা করেন যে তিনি চাইলে সামান্য কিছুতেই বেঁচে থাকতে পারেবেন। নিক তাঁর পায়ের স্থানে জন্মানো আঙ্গুল ও অন্যান্য কিছু উপকরণের সাহায্যে লেখা ও কম্পিউটারে টাইপ করা শেখেন।

যখন আমাদের জীবনে কোন সমস্যা আসে তখন আমরা মনে করতে থাকি এমনকিছু আমার সাথে কেন হল? মনের এই ধারণাই ধীরে ধীরে হতাশার জন্ম দিতে থাকে এবং একটা বোঝা হয়ে যায়। এজন্য প্রয়োজন সর্বদাই নিজের উপর ভরসা রাখা এবং জীবনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা দিয়ে তা মোকাবেলা করা। 

যতক্ষণ পর্যন্ত সফল হবেন না ততক্ষণ পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা চালাতেই থাকবেন। আপনি মনে করছেন এটি অসম্ভব! বিশ্বাস করুন জীবনে কোনকিছুই অসম্ভব নয়। যদি বিশ্বাস না হয় তবে নিক ভুইয়টসিক এর জীবনীটা একটু পড়ে নিবেন।

নিক ভুইয়টসিক এর জীবনের গল্প:

নিক ভুইয়টসিক (ইংরেজি: Nick Vujicic) ৪ ডিসেম্বর ১৯৮২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে অন্যান্য বাচ্চাদের মত হলেও Phocomelia নামক এক দুর্লভ রোগের কারণে তাঁর কোন হাত পা হয়নি!

নিকের বাবা (বরিশ্লাভ ভুইয়টসিক) ও মা (ডুসানকা) সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে বিলাপ করতে থাকেন। একজন হাত পা ছাড়া বাচ্চার ভবিষ্যত কি হতে পারে? আসুন আমরাও একটু চিন্তা করি।

শৈশব জীবন খুবই জটিলতায় ভরা ছিল। স্কুল জীবনে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। তিনি সব সমস্যা মোকাবেলা করছিলেন। কিন্তু বিকলাঙ্গতার কারণে একাকি থাকায় হতাশার সাগরে ডুবতেছিলেন।

তিনি স্রষ্টার কাছে সর্বদা হাত পায়ের জন্য প্রার্থনা করতেন। স্রষ্টার মিরাকলে তার হাত পা ফিরে পাবার আশায় সাথেই একজোড়া জুতা রাখতেন! বিকলাঙ্গতার কারণে এতই হতাশ হচ্ছিলেন যে ১০ বছর বয়সে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন!

কিন্তু পত্রিকায় একটি লেখা পড়ার পর জীবনের প্রতি হতাশার পরিবর্তন আসে। লেখাটি ছিল মূলত একজন বিকলাঙ্গ ব্যক্তির সংগ্রাম ও বিজয়ের কাহিনী। সেইদিন থেকেই নিক বুঝলেন যে পৃথিবীতে শুধুই তিনিই একা নন যাকে প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

নিক ধীরে ধীরে বুঝতে চেষ্টা করেন যে তিনি চাইলে সামান্য কিছুতেই বেঁচে থাকতে পারেবেন। নিক তাঁর পায়ের স্থানে জন্মানো আঙ্গুল ও অন্যান্য কিছু উপকরণের সাহায্যে লেখা ও কম্পিউটারে টাইপ করা শেখেন।

নিজের প্রতিবন্ধীতাকে জয় করে মাত্র ১৭ বছর বয়সে Life Without Limbs নামক অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করেন। ২১ বছর বয়সে গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটি থেকে হিসাব বিজ্ঞান ও ব্যবসা পরিকল্পনা বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জন করেন।

তিনি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দিতে পাঁচটি উপমহাদেশের ৬০ টি দেশ ঘুরে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের কাছে নিজের বক্তব্য পৌঁছান। টিভি শো এবং লেখার মাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন কাজকর্ম জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দেন। ২০১২ সালে কানায়ে মিয়াহারার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে।

কর্ম ও প্রাপ্তি:

  • ২০০৫ সালে Life’s Greater Purpose নামক ডক্যুমেন্টারি চলচ্চিত্রের ডিভিডি বাজারে ছাড়েন।
  • ঐ একই বছর অর্থাৎ ২০০৫ সালে Youth Australian Of The Year পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছিলেন নিক।
  • ২০০৯ সালে The Butterfly Circus নামক ইংরেজি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে Doorpost Film Project’s এ প্রথম পুরস্কার পান।
  • ২০১০ সালে The Butterfly Circus চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে Method Fest Independent Film Festival এ পদক লাভ করেন।
  • ২০১০ সালে Life Without Limits: Inspiration for a Ridiculously Good Life নামক তাঁর প্রথম বই প্রকাশিত হয়।
  • এছাড়াও যুব সমাজের জন্য No Arms, No Legs, No Worries! নামের একটি ডিভিডি প্রকাশ করেন।

৩৩ বছর বয়সী ভুইয়টসিক আজ শুধু একজন সফল বক্তাই নন পাশাপাশি তিনি অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যক্তিদের মতই সব কাজ করতে পারেন। তিনি গলফ ও ফুটবল খেলেন, সাঁতার কাটেন, স্কাইডাইবিং এবং সার্ফিং করেন!

আপনি কেন হতাশ? ভাল চাকুরি পাচ্ছেন না? গাড়ি বাড়ি নেই? সংসারে ঝামেলা? সন্তানের পড়ালেখা? সম্পর্কে ভাঙ্গন? এসব ছাড়াও আরো অনেক কারণ হয়তো আছে আপনার। তবে যতকিছুই হোক না কেন আশা করছি এই ঘটনাটি পড়ার পর নতুন করে নব উদ্যোমে জীবন গঠনে মনঃযোগ দিবেন।

তথ্যসূত্র: লাইভ উইদাউট লিম্বস ও নিকের ওয়েবসাইট।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

নিক-ভুইয়টসিক, Phocomelia, বিকলাঙ্গ-ব্যক্তি, Life-Without-Limbs