সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

0187ba8fe232319ef71d1bfd6c207a11-15.jpg

অমর একুশে বইমেলা বইয়ের কান্নায় সিক্ত ‘অমর একুশে বই মেলা-২০১৬’

পরদিন মেলায় দেখা যায় খোলা জায়গাগুলোতে সারিবদ্ধ করে রাখা বইগুলো। রোদে শুকাতে দেয়া বইগুলো দেখে মনে হচ্ছিলো যেন সেগুলো কাঁদছে। পানিতে ভিজে ফুলে গেছে বইয়ের পাতা।

অন্য বছরের তুলনায় এবারের বইমেলা যেন একটু ভিন্ন। আর তার কারন এবার অধিবর্ষ হওয়ায় মেলা থাকছে পুরো ২৯ দিন। প্রাণের মেলা, বই মেলা। বই প্রেমীদের মনে তাই বাড়তি খুশির আমেজ। আজই মেলার শেষ দিন। কেমন ছিলো এবারের মেলা? এবারের মেলার টুকটাক খসড়া নিয়েই আজকের লেখা।

হুমায়ূন বিহীন ফ্যাঁকাসে মেলা- বইমেলার এক অপূরণীয় শোক হুমায়ূন আহমেদের অনুপস্থিতি। কৃতি ও স্বনামধন্য এই লেখকের লেখা বই যদিও বইমেলায় ছিলো কিন্তু কোথাও যেন একটা ঘাটতি রয়ে গিয়েছিলো। যদিও হুমায়ূন প্রেমীরা ঠিকই বইমেলায় গিয়ে কিনেছেন প্রিয় লেখকের বই।  

নবাগত লেখকের আগমনে মুখরিত বই মেলা- নিঃসন্দেহে এটা খুবই আনন্দের বিষয় যে বাঙালি জাতি সাহিত্যকে এখনও আপন করে রেখেছে। তার প্রমান মিলে মেলায় নবাগত লেখক বা কবিদের বই দেখে। ফেসবুক, ব্লগ থেকে বেরিয়ে প্রিন্টের অক্ষরে নিজের সৃষ্টি দেখতে কার না ভালো লাগে!

পাঠকরাও সাধুবাদ জানিয়েছেন নতুন লেখক/কবিদের। বন্ধু সমাজ বা পাঠক সমাজ কিনেছেন নতুনদের বই। ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই নতুনদের লেখার এই অভ্যাস বজায় থাকবে এটাই সবার চাওয়া।

শিশুদের খেলার জন্য সিসিমপুর শিশু কর্নার- এ আয়োজন নিঃসন্দেহে মেলার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকখানি। সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের অদূরেই ছিলো সবুজ গালিচায় মোড়ানো স্টেজ। যেখানে ছোট ছোট কচিকাঁচার আশর জমেছিলো বেশ। এদের থেকেই তো আগামীতে তৈরি হবে নামীদামী সব লেখক আর কবি।

মেলায় জ্বলেনি লাইট, মাঠে ছিলো কাঁদা- এবার না হয় একটু সমালোচনা করা যাক। দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে বাংলা একাডেমী নানা আয়োজনের কথা কাগজে কলমে আর মুখে জানালেও তা ঠিকমত বাস্তবায়ন হয়নি। সন্ধ্যার পর দেখা গেছে অনেকগুলো লাইটেই ঠিকমত আলো জ্বলেনি। মাঠের এখানে সেখানে অপ্রয়োজনীয় পানির উপস্থিতি মানুষের বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।

লেখার মানের বিষয়ে ছিলোনা নজর- বেশ কিছু বইয়ের নাম নিয়েই হয়েছে সমালোচনা। ভীষণ হাস্যকর এবং অযৌক্তিক এসব নামের ব্যাপারে কতৃপক্ষের নজর আশা করা আমাদের সকলের কাম্য। বেশ কিছু বইয়ে দেখা গেছে, নিন্মমানের গল্প আব কবিতার পরিপুর্ন।

বইয়ের কান্নায় সিক্ত বইমেলা- শেষবেলায় এসে সর্বনাশা বৃষ্টি যেন ধুয়ে দিলো বইমেলার সব হাসি। গত ২৪শে ফেব্রুয়ারির সকালে বৃষ্টিতে মলিন হয়ে গেল লেখক, পাঠক, প্রকাশকের সব স্বপ্ন। শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে সাজানো স্টলগুলো। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক না থাকায় অল্প সময়েই পানি জমে গেছে স্টলে স্টলে। আর সে পানিতেই ছিলো বই!

পরদিন মেলায় দেখা যায় খোলা জায়গাগুলোতে সারিবদ্ধ করে রাখা বইগুলো। রোদে শুকাতে দেয়া বইগুলো দেখে মনে হচ্ছিলো যেন সেগুলো কাঁদছে। পানিতে ভিজে ফুলে গেছে বইয়ের পাতা। কিছু বই পুরোপুরি নষ্টই হয়ে গেছে। সেই সাথে নষ্ট হয়ে গেছে কিছু মানুষের স্বপ্ন।

আবার অপেক্ষা এক বছরের। তারপর আবার শুরু হবে প্রাণের মেলা। অমর একুশে বইমেলা। এ বছরের সব দুঃখ ভুলে আগামী মেলা মুখরিত হোক লেখক, পাঠক আর প্রকাশকের আগমনে। এমন কামনাই আমাদের সবার। 


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

কান্না, প্রকাশক, পাঠক, লেখক, বই, বৃষ্টি, বইমেলা