সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

bicycle-highway-road.jpg

যোগাযোগ ব্যবস্থা এশিয়ায় মোটরবিহীন গাড়ি বনাম মোটরযান চালিত গাড়ি

শুধু জাপানে নয় বরং চীনেও স্বল্প দৈর্ঘ্যর যাতায়াতে ঔখানকার মানুষ বাই-সাইকেলের উপর নির্ভরশীল। ধীরে ধীরে ঐসব দেশের নীতিনির্ধারকরা মোটরযান চালিত যানবাহনের উপর নির্ভরশীলতার কমিয়ে আনার জন্য বহুমুখী চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে।

এক কালে বাংলাদেশে যখন মোটরযান চালিত যানবাহনের প্রচলন ছিল না তখন বাই-সাইকেল,পায়ে হেটে চলাচল, রিক্সা, গরু বা ঘোড়ার গাড়িই ছিল এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় য্ওায়ার প্রধানতম বাহন বা ব্যবস্থা।
তখন ২-৪ কিলোমিটার রাস্তা হেটে যাওয়াটা অনেক মানুষেরই ছিল নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশের মানুষরাই এখন অল্প দূরত্বের জন্যই মোটরযান চালিত যানের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে , যার প্রভাব কোনোভাবেই আমাদের পরিবেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়।  

এশিয়ার বেশ কিছু শহরে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নন-মোটরাইজাইড / মোটরবিহীন গাড়ি যেমন - বাইসাইকেল, রিক্সা, গরুর গাড়ি এবং ঘোড়ার গাড়ি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে। এসব মনুষ্য বা পশু চালিত গাড়ি এশিয়ার বিভিন্ন শহরের শতকরা ভ্রমনের ২৫-৮০ ভাগ যা পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি।

আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে পুরো এশিয়াজুড়ে সবধরনের যানবাহনের সংখ্যা দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রমাগত মোটরযান চালিত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এবং নিরাপদে মোটরবিহীন যানবাহনের রাস্তা হ্রাস পাওয়ার কারণে এশিয়ার অনেক শহরেই মোটরবিহীন যানবাহন আজ হুমকীর সম্মুখীন।  

পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই  যোগাযোগ ব্যবস্থার পলিসি এবং বিনিয়োগ মূলত মোটরযানচালিত যানবাহকে গুরুত্বারোপ করা হয় এবং মোটরবিহীন যানবাহনের গুরুত্বকে অবজ্ঞা করা হয়। এ ধরনের পলিসির না হলে মোটরবিহীন যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাবে এবং যার ফলশ্রুতিতে মোটরযানচালিত যানবাহনের ট্রাফিক জ্যাম, বায়ু দূষন, বৈশ্বিক উষœতা বৃদ্ধি সহ পরিবেশের উপর নানাবিধ খারাপ প্রভাব বৃদ্ধি পাবে।

জাপান, নেদারল্যান্ড, জার্মানি এবং ইউরোপের আরো অনেক শহর প্রতিপাদন করছে যে, তাদের নগরায়ন যোগাযোগ ব্যবস্থায় পুরোটাই মোটরতাড়িত যানবাহনের দরকার নয় বরং দরকার হাটার চলাচল উপযোগী, মোটরবিহীন যানবাহনের উপযোগী এবং মোটর যান চলাচল উপযোগী সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা।
জাপানে বাই-সাইকেল চলাচল উপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর জোর দিয়েই তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার পলিসি এবং বিনিয়োগ করে থাকে এবং উৎসাহিত করা হয় যাতে করে বেশি সংখ্যক মানুষ বাই-সাইকেল ব্যবহার করে।

এজন্য তারা বিভিন্ন রেল স্টেশনের পাশে সাইকেল পর্কিং ব্যবস্থা, মোটরযান চালিত গাড়ির উপর উচ্চমূল্যের কর, মূল রাস্তায় আলাদা সাইকেল লেনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু করেছে। শুধু জাপানে নয় বরং চীনেও স্বল্প দৈর্ঘ্যর যাতায়াতে ঔখানকার মানুষ বাই-সাইকেলের উপর নির্ভরশীল। ধীরে ধীরে ঐসব দেশের নীতিনির্ধারকরা মোটরযান চালিত যানবাহনের উপর নির্ভরশীলতার কমিয়ে আনার জন্য বহুমুখী চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে।

ইউরোপের ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ মোটরবিহীন যানের সংখ্যা যেন হ্রাস না পায় সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। সম্প্রতি জার্মানি তার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ডুসবার্গ এবং হাম শহরের ভেতর দিয়ে  ১০০ কিলোমিটার বাই-সাইকেল হাইওয়ের উদ্বোধন করেছে।
ফ্রাংকফুট শহর কর্তৃপক্ষ ড্রামস্টাটের দক্ষিণে  ১৮ মাইল বাই-সাইকেল  পথ তৈরীর প্রস্তাব করেছে। ইউরোপের আরেক দেশ ইংল্যান্ডেও ট্রাফিক জ্যাম কমানোর জন্য বাই-সাইকেল হাই-ওয়ে  তৈরীর ঘোষনা দিয়েছে।   

সাদা হাতির দেশ খ্যাত এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ড ২০১৭ সালের মধ্যেই এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ বাই-সাইকেল লেন তৈরীর ঘোষনা দিয়েছে। এ লেইনটার সম্পূর্ন ট্রাফিক জ্যাম মুক্ত থাকবে এবং ১৪৮ কিলোমিটার লম্বা এই লেইন পাঁচটি প্রোভিন্সকে সংযুক্ত করবে। এশিয়ার অনেক শহরেই বাই-সাইকেল ব্যবহারে বিভিন্ন ধরনের প্রনোদনা এবং মোটিভেশনাল পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই যেমন- দক্ষিণ কোরিয়া সাইকেলের ব্যবহার বাড়াতে ফিনান্সিয়াল প্রনোদনার ব্যবস্থা আছে। চায়নার হ্যাংঝাওদে বাস পরিবহনের সাথে বড় ধরনের সাইকেল চলাচল উপযোগী সমন্বিত নেটওয়ার্ক আছে। ইন্দোনেশিয়ার ইগোয়াকাত্রায় সাইকেল আরোহীদের জন্য দুর্ঘটনা ইন্সোরেন্স চালু করেছে।

বাংলাদেশে গত দশক থেকেই নগরায়নের ফলে মানুষের মধ্যে বিলাসী জীবনযাপনের প্রতি আলাদা একটা আকর্ষন তৈরী হয়েছে। এক কালে যখন মোটরযান চালিত যানবাহনের প্রচলন ছিল না তখন বাই-সাইকেল, পায়ে হেটে চলাচল, রিক্সা, গরু বা ঘোড়ার গাড়িই ছিল এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার প্রধানতম বাহন বা ব্যবস্থা।

তখন ২-৪ কিলোমিটার রাস্তা হেটে যাওয়াটা অনেক মানুষেরই ছিল নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশের মানুষরাই এখন অল্প দূরত্বের জন্যই মোটরযান চালিত যানের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে , যার প্রভাব কোনোভাবেই আমাদের পরিবেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

বাইসাইকেল, জাপান, পরিবেশ, মোটরযান, এশিয়া