সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Boimela-2016.jpg

বইমেলা বই মেলা হয়ে উঠুক প্রাণের মেলায়

বই পড়াকে সামগ্রিক একটি সামাজিক আন্দোলনের রূপ দিতে হবে। বইকে নিয়ে যেতে হবে পাঠকের নাগালের মধ্যে। ষ্টেশন, বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে বড় বড় বিপণী বিতান এর মতো জনমানুষের প্রধান প্রধান বিচরণের জায়গাগুলোতে গড়ে তুলতে হবে বই এর দোকান কিংবা পাঠাগার।

বিগত কয়েক বছর ধরে বেশ উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, আমরা বই পড়ার সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের এই যুগে আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে বই পড়ুয়া মানুষের সংখ্যা। সেই সাথে স্থিমিত হয়ে পড়েছে পাঠাগার আন্দোলন। যার ফলাফল বেশ ভয়াবহ।

বই মানুষকে নতুন করে জন্ম দেয়। তার ভেতরের সম্ভাবনাগুলোকে জাগিয়ে তোলে। তাকে আহ্বান করে জ্ঞানের বিশাল রাজ্যের কপাট খোলার। প্রথম বই এর সন্ধান পাওয়া মানে তাই প্রথম আলোর সন্ধান।

কিন্তু ধীরে ধীরে সমাজ থেকে বিলুপ্তি ঘটছে পাঠক সমাজের, হ্রাস পাচ্ছে পাঠাভ্যাস। ফলত, একটি সৃজনশীল ও মননশীল জাতি গঠনে বারবার পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে আমাদের।

ছাপা বই এর প্রতি সখ্যতা এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। বিশেষ করে তরুণদের পড়ন ও পঠন অভ্যাস কমে যাওয়াটা রীতিমত ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা তাদের পরিপুর্ণ বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন জ্ঞানের উন্মুক্ত চর্চা।

সাংস্কৃতকি বিপ্লব কিংবা মূল্যবােধের বিকাশে বই পড়ার বিকল্প নেই। পৃথিবীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে লালন করা এবং প্রজান্মান্তরে প্রবাহমান রাখার দায়িত্ব বইয়ের। সেই সাথে ব্যক্তিকে সৃজনশীল মানুষে পরিণত করার দায়িত্বও বইয়ের।  

এই বিপুল সংখ্যক পাঠক হ্রাস পাওয়ার পিছনে বেশ কিছু উপাদানকে কারণ হিসেবে দাড় করানো যায়। এমনিতেই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মানুষের সৌখিন ও মননশীলতার চর্চা কমে যাচ্ছে। তার উপর কাগজের দাম বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে সৃজনশীল বইয়ের দামও।

অন্যদিকে ডিজিটাল দুনিয়ার আধিপত্য ও সহজলভ্যতা ক্রমশ মানুষকে ডাকছে বিকল্প মাধ্যমের দিকে। তরুণরা ইন্টারনটে, ফেইসবুক-টুইটার মাধ্যমেই পাড় করছে তাদের যাপিত জীবন। তাই সমাজ থেকে বিলুপ্ত হচ্ছে বই পড়ার সংস্কৃতি ।
 
কিন্তু একটি আদর্শ জাতি গঠনে হাতে তুলে দিতে হবে বই। গড়ে তুলতে হবে পাঠভ্যাস। এজন্য পাঠাগার আন্দোলনকে বেগবান করা প্রয়োজন। সেই সাথে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। কেননা পঠন বিমুখতার অভ্যাস পরিবর্তনের দায়িত্ব সবার উপরই বর্তায়।

লেখকরা মননশীল ও বৈচিত্রময় লেখনীর মাধ্যমে তরুণদের আকৃষ্ট করবেন বই পড়ার ব্যাপারে। প্রকাশনা সংস্থাগুলোর উচিৎ সহনশীল মূল্যে সে বই বিক্রির উদ্যোগ নেয়া। অভিভাবকরা বই পড়ার বিষয়ে উৎসাহিত করবেন সন্তানদের।

এভাবে বই পড়াকে সামগ্রিক একটি সামাজিক আন্দোলনের রূপ দিতে হবে। বইকে নিয়ে যেতে হবে পাঠকের নাগালের মধ্যে। ষ্টেশন, বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে বড় বড় বিপণী বিতান এর মতো জনমানুষের প্রধান প্রধান বিচরণের জায়গাগুলোতে গড়ে তুলতে হবে বই এর দোকান কিংবা পাঠাগার।

এমনকি ছোট ছোট চায়ের দোকান জুড়েও সামাজিক উদ্যোগে গড়ে উঠতে পারে স্বল্প পরিসরের একটি পাঠাগার। এ ব্যাপারে গৃহীত হতে পারে বেশ কিছু সরকারী উদ্যোগও।

সরকার স্কুল-কলেজগুলোতে বই পড়া কর্মসূচীর আয়োজন করতে পারে, তরুণ লেখকদের ভালো বই প্রকাশের ব্যাপারে উৎসাহিত করতে পারে। সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে নেয়া যেতে পারে আমাদের প্রকাশনা শিল্পকে।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

একুশে-বইমেলা, নতুন-বই, পাঠক, প্রাণ