সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

first-cricket-match.jpg

রাজার খেলা - খেলার রাজা ক্রিকেট খেলার গোড়ার কথা

ক্রিকেট একটা পোশাকী এবং আয়েসী খেলা, যে খেলাটি গোড়া থেকেই রাজকীয় পরিবার ও সম্ভান্ত শ্রেণীর পৃষ্ঠপোষকতায় এতদূর পর্যন্ত এগিয়ে এসেছে। খেলোয়ারদের চালচলনের মাঝেও একটা রাজকীয় ভাবসাব এবং দারুন একটা স্মার্টনেস পরিলক্ষিত হওয়ার কারণেই এ খেলাটিকে মানুষ 'রাজার খেলা বা খেলার রাজা' বলে থাকে। ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলাটি জন্ম গ্রহণ করার কারণে ব্রিটিস শাসিত দেশ গুলোতে এ খেলাটি বেশী প্রসার লাভ করে এবং জনপ্রিয়তাও পায়।

ধারণা করা হয়, ১৩০০ সনের ১০ মার্চে ইংল্যান্ডের প্রথম এডওয়ার্ডের রাজত্ব কালে রাজপুত্র এডওয়ার্ডের ওয়েষ্টমিনিষ্টারে ক্রিকেট খেলার পোশাক পরিচ্ছদ বাবদ ১০০ শিলিং খরচ হয়েছিল। আরও ধারণা করা হয়, ১৬১৫ সনে ক্রমওয়েল তার শৈশবে ক্রিকেট খেলেছিলেন কিন্তু তখনকার মানুষ সেটাকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেনি, এমনকি অনেকে তাকে টিপ্পনী কাটতেও দ্বিধা করেনি। এরপর ১৭০০ সনে ক্যাপহ্যাম কমন মাঠে ইষ্টার মন-ডে তে বাজি ধরে এক ক্রিকেট খেলা হয়। এ রকমই ছিল ক্রিকেটের গোড়ার দিকের চিত্র !

পরবর্তীতে অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ক্রিকেটকে ঘিরে শুরু হয় বাজিকরদের টাকার খেলা! তৎকালীন সময়ে ইংল্যান্ডের ধনিক শ্রেণীর কাছেই ক্রিকেট পৃষ্ঠপোষকতা পেত। এসময় থেকে বর্তমানের আধুনিক ক্রিকেটের চুড়ান্ত সময়কাল পর্যন্ত দেখা যায়, ক্রিকেট আরও চারটি স্তর পেরিয়ে এসেছে। যেমন, ১৭৪৪ সাল থেকে ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত হ্যামবেলডন পিরিয়ড, ১৭৮৭ সাল থেকে ১৮৩৫ সাল পর্যন্ত এবং ১৮৩৫ সাল থেকে ১৮৮৪ সাল পর্যন্ত ছিল মেরিলীবোন পিরিয়ডের যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্তর, এবং সর্বশেষ ১৮৮৪ সাল থেকে আজ অবধি সময়কালটাই ক্রিকেটের কলি যুগ বা আধুনিক স্তর! তবে ১৮৮৭ সালে লন্ডনের ডরসেট স্কোয়ারে টমাস লার্ড-এর মাঠের মাধ্যমে 'মেরিলীবোন ক্রিকেট ক্লাব' এর প্রতিষ্ঠার কারণে তার হাত ধরেই ক্রিকেট এগিয়ে যেতে থাকে।

ক্রিকেটের সূচনা লগ্নে অনেক মজার মজার ঘটনার জন্ম হয়েছিল। যেমন, ১৭৭০ সালে ' রিং' এবং 'টম টেলর' আউট হওয়ার হাত থেকে বাঁচার জন্য কেবলই পা দিয়ে (ষ্ট্যাম্প ঢেকে রেখে) বল আটকিয়ে দিচ্ছিল ফলে তখন তাদের আউট করা দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। সে কারণেই তখনই প্রথম এল.বি.ডব্লিউ আইনের জন্ম হয়! 

আরেকবার ১৭৭১ সালে ইংল্যান্ডের হ্যামবেলডন ও চেষ্টার দলের মধ্যেকার খেলার সময় হোয়াইট নামের একজন খেলোয়ার অনেক চওড়া একটা ব্যাট নিয়ে খেলতে নেমে উইকেটকে সহজেই আগলে রাখলে আম্পায়ারগণ বাধ্য হয়ে তখন ব্যাটের চওড়ার মাপ চার ইঞ্চি নির্দ্ধারণ করে দেন। 

১৭৭৫ সালের ঘটনায় দেখা যায়, আর্টিলারী গ্রাউন্ডে ল্যাম্প নামের একজন বলার প্রায় অধিকাংশ বলই নিঁখুত নিশানায় ছুঁড়তে থাকে কিন্তু তখন মাত্র দুইটা ষ্ট্যাম্পের উপর বেল দেয় হ’তো। ফলে ষ্ট্যাম্প সোজা বলগুলো মাঝখানের ফাঁক গলে বেড়িয়ে যেতে থাকে কিন্তু আউট হওয়া নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। সে কারণেই তখন জন্ম হ’লো মাঝখানের তৃতীয় স্ট্যাম্পের! এমনিতর আরও অনেক ঘটনার খবরই ক্রিকেটের ইতিহাস ঘেঁটে বের করে আনা কঠিন নয়, যা ক্রিকেট প্রেমীদের শুধু আনন্দই দেবে!


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Cricket, History, LBW, Bangladesh, myth, Starting