নগর বাউল

বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী

মাঝ রাতে শেয়ালের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে জাবিতে


শেয়াল নিশাচর প্রাণী হলেও আগে বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে দিনের বেলায়ও দেখা মিলত এদের। কিন্তু কালের আবর্তে বাংলাদেশে আজ অতি বিপন্ন কিংবা বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী এরা। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতের সন্ধ্যা কিংবা মাঝরাতে অচিরেই অস্তিত্ব হারানোর শংকা নিয়ে ভয়ার্ত কন্ঠে এখনো ডেকে ওঠে শেয়ালেরা। বলছি সে কথা এবং আরো কিছু কথা।


student ১৩ নভেম্বর ২০১৫, ২২:৫৯


প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিখ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নানা ধরনের জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ। দেশের অন্যান্য ক্যাম্পাসের চেয়ে এ ক্যাম্পাসের নিজস্ব স্বকীয়তা রয়েছে। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই হৃদয় কাড়া। সকাল বেলা লেকের পানিতে রক্ত কমল গুলো যখন থরে বিথরে ফুটে থাকে তখনকার দৃশ্যের কথা আসলে বলে বোঝানো যাবে না।

শীতকালে অথিতি পাখীর জলকেলীর সৌন্দর্যের কথাই বা কি করে বর্ণনা করা যায়! বর্ষার সময় বৃষ্টিস্নাত লাল ইটের দালানগুলো কিংবা পাহাড়ী রাস্তার মত একবার উঁচু হওয়া আবার নিচে নেমে যাওয়া আয়নার মত ঝকঝকে হয়ে থাকা রাস্তাগুলো এবং এগুলোর দুপাশে দাড়িয়ে থাকা বোবা বৃক্ষ গুলোর সৌন্দর্যও কম যায় কিসে!

এখানে রয়েছে হারিয়ে যেতে বসা অনেক প্রাণী। যেমন সাপ, বেজী, গুইসাপ, কাঠবিড়ালী, শিয়াল সহ অন্যান্য প্রাণী। সবকিছুর কথা একসাথে বলা সম্ভব নয় বলে আপাতত শেয়ালের কথাই বলা যাক।

শেয়াল নিশাচর প্রাণী হলেও আগে বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে দিনের বেলায়ও দেখা মিলত এদের। শীতের মধ্যরাতে গ্রাম তোলপাড় করে এক সাথে ডেকে ওঠত শেয়ালের দল। কিন্তু কালের আবর্তে শেয়াল বাংলাদেশে আজ অতি বিপন্ন কিংবা বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী। অনেক গ্রামেই এখন সন্ধ্যা কিংবা মধ্যরাতে শেয়ালের হুক্কা-হু-হুক্কা-হুয়া ডাক শুধুই গল্প কিংবা ইতিহাস। গ্রামগুলোতে এখন দু-একটি শেয়াল খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত দুর্লভ ব্যাপার।

ঢাকা শহরেও একসময় শেয়ালেরা বসবাস করত। যদিও ঢাকার ব্যাপারে এ কথা এখন আকাস কুসুম কল্পনা বৈ কিছুই নয়। শুধু ঢাকা নয় ঢাকার আশে-পাশে কোথায়ও শেয়ালের সন্ধান পাওয়া এখন মেলা ভার।

তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কিছু কিছু শেয়ালের দেখা পাওয়া যায়। শীতের সন্ধ্যা কিংবা মাঝরাতে অচিরেই অস্তিত্ব হারানোর শংকা নিয়ে ভয়ার্ত কন্ঠে এখনো ডেকে ওঠে শেয়ালেরা। শেয়ালের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে রোমাঞ্চিত হয় শিক্ষার্থীরা। রাতে রাস্তায় হাঁটতে বের হলে দু-একটির সাথে মুখোমুখি সাক্ষাৎও ঘটে যায় অনেক সময়। তবে সাক্ষাৎকালটা হয় খুবই অল্প। দেখা পাওয়া মাত্র লজ্জাবতী কুমারী নারীর মত লুকিয়ে যায় জঙ্গলে।

ব্যাপারটা ঘৃণার কারণেও ঘটতে পারে। কারণ আমরা মানুষেরাইতো অন্যায়ভাবে ধ্বংস করেছি ওদের শান্তির আবাসন। আমাদের অতিরিক্ত ভোগের মানসিকতা আর লোভই তো দিনকে দিন বিপন্ন করেছে ওদের জীবনকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মত সুসভ্য মানুষের আবাসস্থলেও কি ওরা নিরাপদ? মোটেই না।

প্রসাশন প্রতি বছরই ওদের আবাসস্থল ধ্বংস করে কোন-না-কোন অজুহাতে। জ্বালিয়ে দেয় মাথার ছাউনি ঝোপ-ঝাড়গুলি। ওরা হয়ত অভিশাপ দেয়। কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনা ওদের হারিয়ে যাওয়াটাই হবে আমাদের জন্য অভিশাপ।

পূর্বের তুলনায় সংখ্যায় অনেক কমে গেলেও জাবিতে এখনো শেয়ালের সংখ্যা একেবারে কম নয়। ভবিষ্যতে সংখ্যাটা দিন দিনই কমতে থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ শেয়াল থাকা না থাকার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন লাভ ক্ষতি নেই। তাইতো প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ওদের আবাস ধ্বংস হতেই থাকবে।

আগামী কোন এক প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা হয়ত গল্প শুনবে, এখানে একসময় রাতে শেয়ালেরা ডেকে ওঠত, দলবেঁধে ঘোরাফেরা করত। যেমনটা এখন গ্রামের শিশু-কিশোররা তাদের বড়দের কাছে শেয়াল সম্পর্কিত গল্প শোনে।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

জাহাঙ্গীরনগর, বিশ্ববিদ্যালয়, শিয়াল, বিলুপ্তপ্রায়, প্রাণী, প্রজন্ম, প্রশাসন, জীববৈচিত্র, প্রকৃতি, শীতকাল