সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

World-Neumonia-Day.jpg

বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস নিউমোনিয়ার লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

সেভ দ্যা চিলড্রেন এর ২০১৪ সালে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৯ হাজার শিশুর মৃত্যু হয় নিউমোনিয়ার কারণে! যা শতকরা হিসেবে পাঁচ বছরের কম বয়সী ২২% শিশু মৃত্যুর কারণ।

প্রতিবছর ১২ নভেম্বর বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস উদযাপিত হয়। এটি ২০০৯ সাল থেকে উদযাপিত হচ্ছে। পূর্বে ২ নভেম্বর দিবসটি উদযাপিত হত। ২০১০ সাল থেকে আজকের দিনে উদযাপিত হচ্ছে।

বিশ্বের সবথেকে বড় ঘাতক নিউমোনিয়া রোগে প্রতি বছর ১৫৫ মিলিয়ন পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু আক্রান্ত হয় এবং ১.৬ মিলিয়ন মারা যায়। সেভ দ্যা চিলড্রেন এর ২০১৪ সালে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৯ হাজার শিশুর মৃত্যু হয় নিউমোনিয়ার কারণে! যা শতকরা হিসেবে পাঁচ বছরের কম বয়সী ২২% শিশু মৃত্যুর কারণ।

নিউমোনিয়ায় প্রতি ২০ সেকেন্ডে একজন শিশু মারা গেলেও এই রোগ সহজেই সমাধানযোগ্য! কিভাবে? জানার জন্য সবটুকুই পড়ুন।

নিউমোনিয়া: নিউমোনিয়া ফুসফুসে প্রদাহজনিত একটি রোগ যা প্রাথমিকভাবে ফুসফুসের অ্যালভিওলিকে আক্রান্ত করে। অ্যালভিওলি তরল অথবা পুঁজ দ্বারা পূর্ণ হতে পারে। ফলে কাশির সাথে শ্লেষ্মা অথবা পুঁজ, উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর, ঠাণ্ডা লাগা, শ্বাসকষ্ট হয়।

কারণ: সাধারণত ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার (নিউমোক্কাস, স্টাফাইলোক্কাস) কারণে এ রোগ হয়। এছাড়াও এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা, এক্টিনোমাইকোসিস নামক ছত্রাক, ঠাণ্ডা পরিবেশ, অপারেশন পরবর্তী সময়, রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদিকেও দায়ী করা হয়।

যাদের বেশি হয়: নিউমোনিয়ায় অধিক ঝুঁকির তালিকায় কারা আছেন একটু জেনে নিই।

  • ৫ বছরের কম বয়সী শিশু ও ৬৫ বছরের অধিক বয়সী ব্যক্তি।
  • ধূমপায়ী।
  • পুষ্টিহীনতায় ভোগা রোগী।
  • ফুসফুসে কোন সমস্যা আছে এমন যে কেউই।
  • যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল- HIV আক্রান্ত, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, ক্যান্সারের কারণে নেয়া কেমোথেরাপি, দীর্ঘদিন স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ সেবনকারী।
  • স্ট্রোক, অ্যালকোহল ইত্যাদির কারণে কাশি হলে।
  • ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত রোগী।

লক্ষণ:

  • সাধারণত রোগী ডাক্তারকে হলুদ অথবা সবুজাভ কফের কথা বলে।
  • প্রায়ই কফের রং লোহার মরিচার মত হয় বা রক্তমিশ্রিত কফ হয়।
  • জ্বরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইটের অধিক হয়।
  • শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বুকে ব্যথা করে।
  • রোগী শীতল হয় ও মানসিক পরিবর্তন হতে পারে। ফলে দ্বিধা ও চিন্তাহীনতায় ভুগতে পারে।
  • ঘাম ঝরে।
  • শিশুদের ক্ষেত্রে উপর্যুক্ত লক্ষণ ছাড়াও  জড়তা, বিশ্রামহীনতা, খাবার গ্রহণে অনীহা বা ক্ষুধামন্দা এবং পেটব্যথা হতে পারে।

রোগ নির্ণয়:

  • রোগ লক্ষণ।
  • রক্তপরীক্ষা, কফ/শ্লেষ্মা পরীক্ষা, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান।
  • রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা নির্ণয়।
  • ফুসফুসের এন্ডোস্কোপি।

প্রতিরোধ:

  • সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
  • অসুস্থ ব্যক্তিদের সুস্থদের সাথে মেলামেশা না করা।
  • টিস্যু পেপার দ্বার মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দেয়া। ব্যবহৃত পেপার দ্রুত ডাস্টবিনে অথবা গর্তে চাপা দিতে হবে।
  • টিস্যু দিয়ে মুখ ঢাকতে না পারলে হাঁচি-কাশি কনুইয়ের ভিতরের দিকের কাপড়ের কাছে দেয়া। এতে হাতে জীবাণু লাগবে না।
  • সুষম খাবার গ্রহণ ও নিজের প্রতি যত্ন নেয়া।
  • টিকা নেয়া।

চিকিৎসা:

  • ৫-৭ দিন এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ।
  • সম্পূর্ণ সুস্থ হতে প্রায় ৩ সপ্তাহ হাসপাতালে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নেয়া উচিৎ।
সূত্র: ডব্লিউএইচও, সিডিসি, সেভ দ্যা চিলড্রেন।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

বিশ্ব, নিউমোনিয়া, দিবস, জ্বর, কাশি, শিশু, কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ, মৃত্যু, বাংলাদেশ