সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

World-Iodine-Deficiency-Day.jpg

২১ অক্টোবর, বিশ্ব আয়োডিন ঘাটতি দিবস দেশে আয়োডিনের অভাবে ৪১ হাজার মৃত শিশু জন্মায়!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০০৭ সালে প্রকাশিত তথ্যমতে, সারা বিশ্বে প্রায় ২০ লক্ষ লোক খাদ্যে আয়োডিন সংকটে ভুগছে, যাদের এক তৃতীয়াংশ হচ্ছে শিশু।

আয়োডিন স্নায়ু ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। খাবারে আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে মানসিক প্রতিবন্ধকতা, গলগণ্ড বা ঘ্যাগ ও থাইরয়েড রোগ হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০০৭ সালে প্রকাশিত তথ্যমতে, সারা বিশ্বে প্রায় ২০ লক্ষ লোক খাদ্যে আয়োডিন সংকটে ভুগছে, যাদের এক তৃতীয়াংশ হচ্ছে শিশু।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস) ও ইউনিসেফ (৩ মে, ২০১৫) প্রকাশিত নিবন্ধে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর আয়োডিনের অভাবে প্রায় ৪১ হাজার মৃত শিশু জন্মায়। ৩৩ হাজার শিশু জন্মের প্রথম বছরই মারা যায় এবং ১৫ হাজার মা মানসিক ঝুঁকিপূর্ণ শিশুর জন্ম দেয়।

আয়োডিনের অভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য, অনাকাঙ্খিত ওজন বৃদ্ধি, রক্তের কোলেস্টেরোলের মাত্রা বৃদ্ধি, শুষ্ক ত্বক, মুখ ফোলা, চুল পড়া, ঠাণ্ডার প্রতি সংবেদনশীলতা, বিষন্নতা, অবসাদ, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, গলগণ্ড ইত্যাদি উপসর্গ প্রকাশ পায়।  

২১ অক্টোবর, বিশ্ব আয়োডিন ঘাটতি দিবস। খাবারে আয়োডিনের অভাবজনিত বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দিনটি উদযাপিত হয়। International Council for the Control of Iodine Deficiency Disorders (ICCIDD) হচ্ছে বিশ্বের একমাত্র বিশেষায়িত সংস্থা যা আয়োডিনের ঘাটতি নিয়ে বিশেষভাবে পর্যালোচনা করে।

শরীরের প্রয়োজনীয় আয়োডিনের পরিমাণ অন্যান্য পুষ্টির তুলনায় এক চা চামচ হয়। দৈনিক গৃহিত আয়োডিনের পরিমাণ বয়সের উপর নির্ভর করে। 

  • ১-৮ বছরের শিশুর: ৯০ মাইক্রোগ্রাম
  • ৯-১৩ বছরের জন্য: ১২০ মাইক্রোগ্রাম
  • গর্ভবতী মহিলাদের: ২২০ মাইক্রোগ্রাম এবং
  • দুগ্ধদানকারী মায়ের: ২৭০ মাইক্রোগ্রাম আয়োডিনের প্রয়োজন হয়।

কিছু খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়োডিন মজুদ থাকে। সেগুলো হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত রুটি, ডিম, মাংস, গরুর দুধ, দই, সবজি এবং দুগ্ধজাত পণ্য। সীফুড ও শৈবাল খুব ভাল আয়োডিনের উৎস।

আয়োডিন খুব সহজেই খাবারের সাথে যোগ করা যায়। বর্তমানে উন্নত সমাজে নিয়মিত আয়োডিনযুক্ত লবণ ও মাছ খেয়ে আয়োডিনের ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। তথাপিও অনেক অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশে আয়োডিনের ঘাটতি রয়েই গেছে। এর কারণ হতে পারে আয়োডিনের উৎসের অভাব, উৎসগুলো থেকে আয়োডিন না নেয়া অথবা খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অজ্ঞতা।

আয়োডিনের ঘাটতিজনিত রোগ প্রতিরোধে ইউনিসেফ বাংলাদেশকে সহায়তা করে যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে ২০১৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে আয়োডিনের ঘাটতিজনিত রোগ নির্মূল হবে।

তথ্যসূত্র: বিএসএস, ইউনিসেফ, উইকিপিডিয়া।

-
লেখক: চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

আয়োডিন, অভাব, শিশু, ঘাটতি, রুটি, ডিম, মাংস, গরুর-দুধ, দই, সবজি-এবং-দুগ্ধজাত-পণ্য, সীফুড, শৈবাল, উৎস, বিশ্ব-স্বাস্থ্য-সংস্থা, স্নায়ু, অন্তঃক্ষরা, গ্রন্থি, কোষ্ঠকাঠিন্য, অনাকাঙ্খিত-ওজন-বৃদ্ধি, রক্তের-কোলেস্টেরোলের-মাত্রা-বৃদ্ধি, শুষ্ক-ত্বক, মুখ-ফোলা, চুল-পড়া, ঠাণ্ডার-প্রতি-সংবেদনশীলতা, বিষন্নতা, অবসাদ, অনিয়মিত-ঋতুস্রাব, গলগণ্ড