সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

World-Osteoporosis-Day.jpg

২০ অক্টোবর: বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস প্রতিরোধ করুন অস্টিওপোরোসিস

বিশ্বের বেশ কয়েকটি মারাত্মক রোগের মধ্যে এর অবস্থান তৃতীয়। এটি সরাসরি মৃত্যুর কারণ না হলেও এর দ্বারা সৃষ্ট জটিলতার কারণে মানুষের মৃত্যু হয়।

অস্টিওপোরোসিস এক ধরনের হাড়ের রোগ যার ফলে হাড় ছিদ্র হয়, ক্ষয়ে যায়, হাড়ে ব্যথা করতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। বিশ্বের বেশ কয়েকটি মারাত্মক রোগের মধ্যে এর অবস্থান তৃতীয়। এটি সরাসরি মৃত্যুর কারণ না হলেও এর দ্বারা সৃষ্ট জটিলতার কারণে মানুষের মৃত্যু হয়।

ইন্টারন্যাশনাল অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশন (আইওএফ) ২০ অক্টোবর বৎসরব্যাপী সারাবিশ্বে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস উদযাপন করে থাকে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে - Serve up bone strength throughout life.

সুস্থ হাড় গঠন বা অস্টিওপোরোসিস থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার ও ব্যায়াম ইত্যাদি বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। কিছু নির্দেশনা মেনে চললে এই রোগ সহজে প্রতিরোধ করা যায়। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে:

  • পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যায়াম: অনেক গবেষণায় প্রমাণিত হয় নিয়মিত ভারী ব্যায়াম করলে অস্টিওপোরোসিস হয় না। হাঁটাহাঁটি, জগিঙ্গ, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা, ভার উত্তোলন করলে হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি চলন সহায়ক পেশীগুলোও অধিক সচল থাকে। প্রতিদিন কমপক্ষে আধ ঘন্টা এবং সপ্তাহে কমপক্ষে তিনদিন ব্যায়ামগুলো করা উচিৎ।
  • ক্যালসিয়ামের প্রাকৃতিক উৎস মজুতকরণ: ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং ভিটামিন ডি হাড় শক্ত করার জন্যই খুবই জরুরী। দুধ, দধি, পনির, সবুজ শাকসবজি, স্যামন ফিস, সার্ডিন (সামুদ্রিক পোনামাছ বিশেষ) ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। সবুজ শাকসবজি ও বাদামে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম থাকে।
  • সূর্যের আলো: যখন ক্যালসিয়াম দিয়ে হাড় তৈরি হয় তখন প্রচুর ভিটামিন ডি দরকার হয়। ভিটামিন ডি ক্যালসিয়ামকে একত্রিতকরণ করে। তাই চর্বিযুক্ত মাছ খেতে হবে। সকালবেলা সূর্যের আলো শরীরে পড়তে দিলে ত্বক ভিটামিন ডি তৈরি করে নিবে।
  • ভিটামিন কে: অস্টিওক্যালসিন নামক প্রোটিন ক্যালসিয়ামকে দৃঢ়ভাবে হাড়ের সাথে বাঁধতে সহায়তা করে। এই প্রোটিন ভিটামিন কে এর দ্বারা সক্রিয় হয়। বাঁধাকপিতে প্রচুর ভিটামিন কে থাকে।
  • ইস্ট্রোজেন: মহিলাদের হাড়ের ঘনত্ব অনেকটা ইস্ট্রোজেনের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। মেনোপজ বা রজবন্ধ হলে ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ কমে হাড়ের প্রচুর ক্ষতি করতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় সয়াবিন, মসুর ডাল, সিম, ছোলা ইত্যাদি রাখা জরুরী।
  • ক্যালসিয়াম পাচারকারী: ক্যাফেইন, উচ্চ ঘনমাত্রার প্রোটিনযুক্ত খাবার শরীর থেকে ক্যালসিয়াম বের করে দেয়। ফলে হাড় আক্রান্ত হয়।
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল: অ্যালকোহল খাবার থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে বাঁধা দেয়। ধূমপান করলে শরীর থেকে খনিজ পদার্থ বেরিয়ে যেতে পারে। নিকোটিন ভাঙ্গা হাড় সহজে জোড়া লাগতে দেয় না।
  • ধকল পরিহার: অধিক ধকল বা স্টেসের কারণে কর্টিসল নামক হরমোন নিঃসরণ হয়। যা খনিজ পদার্থকে হাড় থেকে বের করে দেয়।
  • তেল ম্যাসাজ: আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রমতে, শরীরে তেল ম্যাসাজ করে পরবর্তীতে গরম পানি দিয়ে গোসল করে নিলে হাড় সুস্থ থাকে।
  • তিল বীজ: আয়ুর্বেদিকদের মতে, রান্নায়, ভর্তায় তিল বীজ খেলে অস্টিওপোরোসিস থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড় পাতলা হয় ও হাড়ের শক্তি কমে যায়, হাড় ভঙ্গুর হতে থাকে। তাছাড়া বংশগত কারণও থাকে। ফলে মেরুদণ্ড, শ্রোণীদেশীয় ও বাহুর হাড় ভাঙ্গার সম্ভাবণা বেশি হয়। কিন্তু যদি ছোটবেলা থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় তবে বয়স্ক হলেও হাড় মজবুত থাকতে পারে।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

তিল-বীজ, ভিটামিন-কে, ক্যালসিয়াম, মারাত্মক, প্রতিরোধ, ভাঙা, হাড়, রোগ, ক্ষয়, ২০১৫, দিবস, অস্টিওপোরোসিস, বিশ্ব