সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Mers-disease.jpg

হাজ্বীদের জন্য সতর্কতা! মার্স রোগের লক্ষণ ও করণীয়

এ রোগের সঠিক কোন চিকিৎসা নেই। রোগ লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়। সুতরাং প্রতিরোধ ব্যবস্থা মেনে চলাই উত্তম।

মিডল ইস্ট রেসপারেটরি সিন্ড্রোম (মার্স) ভাইরাসজনিত নতুন রোগ যা মানুষের ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি করে ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যার জন্ম দেয়।

এই রোগ সৌদি আরবে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম ধরা পড়ে। স্বাস্থ্য কমকর্তারা পরবর্তীতে জানান, মার্স রোগ প্রথম হয়েছিল জর্ডানে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে। এ থেকে বোঝা যায় মার্স রোগটি আরবীয় উপদ্বীপের সাথে সংশ্লিষ্ট। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, গত সাত দিনে ১৭ জন লোক এই রোগে মারা গেছে। গত সপ্তাহে রিয়াদে একটি হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মীরা আক্রান্ত হলে তা বন্ধ করে দেয়া হয়।

রোগ লক্ষণ ও জটিলতা:
মার্স রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা ভোগেন। সেই সাথে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়।
  • জ্বর
  • কাশি ও
  • শ্বাসকষ্ট।
অনেক আক্রান্তের ডায়রিয়া ও বমি বা বমি বমি ভাব হতে পারে। মারাত্মক জটিলতা হচ্ছে নিউমোনিয়া এবং কিডনীর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়। প্রতি ১০ জন আক্রান্ত ব্যক্তির মাঝে প্রায় ৩-৪ জন মারা যায়!

রোগবিস্তার:
মার্স ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকলে, তাদের যত্ন ও চিকিৎসার সময়েও সুস্থ ব্যক্তির মাঝে ছড়াতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে হজ্বের সময় সারাবিশ্বের প্রায় ২০ লাখ লোক সৌদি আরব যাবেন। ফলে রোগটি সারাবিশ্বের ন্যায় আমাদের দেশেও আসতে পারে! ভাইরাসটি উটের মাঝে পাওয়া যায়। তাই রোগবিস্তার মোকাবেলায় এ বছর উট কোরবানী নিষিদ্ধ করেছে দেশটি।

প্রতিরোধ:
এখনও এ রোগের কার্যকর কোন টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা মোকাবেলার কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো হল:
  • সাবান ও পানি দিয়ে বিশ সেকেন্ডের জন্য হাত ধুয়ে নিন। আপনার বাচ্চাকেও এই অভ্যাস করান।
  • কাশি ও হাঁচির সময় নাক মুখ টিস্যু পেপার দিয়ে ঢেকে নিন। ব্যবহৃত পেপার ডাস্টবিনে ফেলুন বা পুড়ে ফেলবেন।
  • হাত না ধুয়ে চোখ, নাক এবং মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন, অসুস্থ ব্যক্তির ব্যবহার্য বস্তু আলাদা করুন।
  • নিয়মিত স্পর্শ করা হচ্ছে এমন স্থান যেমন দরজার হাতলে ঘনঘন জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন।
আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় হাজ্বীরা যারা হজ্ব করে দেশে ফিরবেন তাদের মাঝে সর্দি-কাশি জাতীয় রোগ বা উপরের কোন লক্ষণ প্রকাশিত হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। তাদের সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শের ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত করতে হবে।

চিকিৎসা:
এ রোগের সঠিক কোন চিকিৎসা নেই। রোগ লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়। সুতরাং প্রতিরোধ ব্যবস্থা মেনে চলাই উত্তম।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

কোরবানী, উট, শ্বাসকষ্ট, কাশি, জ্বর, সৌদি-আরব, ভাইরাস, মিডল-ইস্ট-রেসপারেটরি-সিন্ড্রোম, সতর্কতা, হাজ্বী, করণীয়, লক্ষণ, রোগ, মার্স