সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

traffic-sign-bangla.jpg

দেশের সড়কগুলো এখন মৃত্যু উপত্যকা

ঘর থেকে বের হয়ে আবার ঘরে সুস্থ জীবন নিযে ফিরতে পারবে এমন নিশ্চয়তা কেউ কি দিতে পারে? সড়ক পথের প্রতি ইঞ্চি এখন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। কোন প্রচেষ্টাই সড়ক দূর্ঘটনার লাগাম টানতে পারছে না। তবে কি সড়ক দূর্ঘটনা অপ্রতিরোধ্য হয়ে যাচ্ছে?

সড়ক পথে দূর্ঘটনার হার যেভাবে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে নন্দলাল হয় ঘরে বসে থাকা ছাড়া অন্য কোন পথ আছে কি? কিন্তু আমরা আদৌ নন্দলাল সাজতে পারব কি? জীবন ও জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত ছুটতে হচ্ছে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম সড়ক যোগাযোগ। অথচ প্রতিনিয়ত সড়ক দূর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষ নিহত হচ্ছে। নিহতের সংখ্যার চেয়ে কয়েকগুন বেশি আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করছে। প্রতিদিনের পত্রিকার পাতা এবং টেলিভিশনের পর্দায় মর্মান্তিরক দূর্ঘটনার চিত্র এবং মৃতদেহের বিকৃত ছবিগুলো আমাদের অনুভূতিকে নিয়ত ভোতা করে দিচ্ছে। কেননা যত কঠিন কিংবা কঠোর ব্যাপার হোক সেটা যখন নিয়মিত হতে থাকে তখন তা অন্যান্য স্বাভাবিক ঘটনার কাতারে দাঁড়ায়।

তেমনিভাবে এদেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে প্রতিনিয়তের দূর্ঘটনা এবং লাশের সংখ্যা জানতে জানতে আমাদের মধ্যেও এ নিয়ে তেমন উৎকন্ঠা পরিলক্ষিত হয়না। প্রত্যুষে নিদ্রা থেকে জেগেই আমরা ধরে নিই, আজ সড়ক দূর্ঘটনায় ১০-১২টি লাশ উপহার পাবো। যখন এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায় তখন আমাদের মধ্যে কিছুটা হৈ চৈ দেখা যায়। দায়িত্বশীলরা ঘটা করে অতীতের সড়ক দূর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতির সাথে তুলনা করে বর্তমানের ক্ষয়ক্ষতিকে তুচ্ছ প্রতিষ্ঠা করে দেন। এ জাতীয় দূর্ঘটনায় যাদের আত্মীয়-স্বজন আহত কিংবা নিহত হয় তারা শোকে বুক ভাসায়।

মানবতাবাদী-মানবদরদী কিছু মানুষ শোকার্তদের পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানায়, কিভাবে সড়ক দূর্ঘটনা কমানো যাবে তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে, নিরাপদ সড়ক চাই দাবীতে মানবন্ধন করে; কিন্তু ফলাফলে কোন পরিবর্তন আসে না। মর্মান্তিক, ভয়াবহ-বিভৎসা দূর্ঘটনার শোকও দেশবাসী দীর্ঘ সময় ধরে পালন করতে পারেনা কেননা এক প্রহরের শোক অন্য প্রহরের শোকের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। লাশের সারি কেবল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে।

সড়ক-মহাসড়কে আমদেরকে অসহায়ের মত জীবন বিলিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত থাকতে হচ্ছে। হাজার মানুষের স্বপ্ন নিমেষেই মৃত্যুর মিছিল কেড়ে নিচ্ছে। দেশে প্রতি বছর শুধু সড়ক দূর্ঘটনায় যে সংখ্যক মানুষ নিহত হচ্ছে সমসংখ্যক মানুষ ইতিহাসের অনেক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধেও প্রাণ হারায়নি। সড়ক দূর্ঘটনা নিয়ে দায়িত্বশীল এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভাবভঙ্গি দেখলে মনে পড়ে কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের বিখ্যাত উক্তির কথা।

তিনি লিখেছিলেন, কি যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে…। দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে দূর্ঘটনায় আক্রান্ত এবং তাদের পরিবার পরিজনদের কাছে আজ কবির সৃষ্টির সারমর্ম গভীরভাবে অনুভূত হলেও যারা দূর্ঘটনায় এখনো প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি তাদের কাছে বিষের যাতনা এখনো স্পষ্ট হয়নি; অথচ বুদ্ধিবৃত্তির দ্বারা সবারই এটা অনুধাবন করা উচিত।

বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে ঈদ পুর্ব-পরবর্তী কয়েকদিন সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে রমজানের ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় সবগুলো শহর-নগর থেকে ৪ কোটির অধিক মানুষের সাময়িক স্থানান্তর ঘটে। এ অধিক সংখ্যক মানুষের লক্ষ্যে পৌঁছতে এবং পূণরায় গন্তব্যে ফিরে আসার প্রধান মাধ্যম সড়ক পথ।

অতীতের বছরগুলোতে সড়ক পথে মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হলেও এবছরের চিত্র ছিলো অনেকটা আলাদা। সড়কগুলোর চিত্র তুলনামূলক ভালো থাকায় ঈদ উপলক্ষ্যে ভ্রমনকারীরা স্বাচ্ছন্দেই তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে পেরেছে কিন্তু বিপত্তি বাঁধিয়েছে ভয়াবহ কয়েকটি সড়ক দূর্ঘটনা। সড়ক-মহাসড়কের বিপজন্নক কতগুলো স্থান, অদক্ষ চালক, ফিটনেসহীন গাড়ি, ট্রাফিক ব্যবস্থায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, বেপারোয় গতি এবং অধিক আয়ের চিন্তা দূর্ঘটনার ক্রমিককে কেবল দীর্ঘায়িত করেছে।

ঈদ পূর্ব-পরবর্তী মাত্র ১১ দিনের সড়ক দূর্ঘটনায় ২৫২ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জুলাই সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কে বিপরীতমূখী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছে। ২৩ জুলাই সারা দেশে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ছিলো ২৩ জন। এ বছরের ঈদে সড়কপথে দূর্ঘনায় যে সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছে তা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০০৯ সালের নিহতের সংখ্যাটি ছিলো ১৭৫ জনে। গত বছর দুই ঈদ মিলিয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলো ২৮৩ জন। সড়ক দূর্ঘটনা কবলিত হয়ে যারা প্রাণ হারায় তারা আপাত দৃষ্টিতে মুক্তি পায় কিন্তু যারা অঙ্গহানী হয়ে বেঁচে যায় তাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। সংগ্রাম ও প্রতিযোগিতার এই ভূবনে তাদের দায়ভার নিতে আপনজনও কার্পণ্যতা দেখায়!

বিশ্বায়নের চরম প্রতিযোগীতার ফলে মানুষের আবেগ নামক বস্তুটি দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। নারীর টানে বাড়ী ফেরার ইচ্ছা আর বাস্তবতার সাথে মিল করা দিন দিন অসাধ্যের আওতাভূক্ত হচ্ছে। সকল ব্যস্ততার মাঝেও মানুষ একটু বিশ্রাম খোঁজে। কর্মশ্রান্ত মানুষগুলোকে খোশমেজাজে ফিরিয়ে দিতে ক্ষণিকের অবসর একান্ত আবশ্যক। পেশাজীবিসহ সকল শ্রেণীর মানুষের সামনে ব্যস্ততম সময় থেকে সাময়িক মুক্তির সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয় ঈদকালীন দীর্ঘ ছুটি। সে ছুটি কাটাতে স্বজনের কাছে যাওয়া কিংবা স্বজন ছেড়ে আবার ফিরে আসার পথে যেভাবে দূর্ঘটনা মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে তাতে ঈদের আনন্দ আর কতকাল অক্ষুন্ন থাকবে তা ভেবে দেখা আবশ্যক।

একেকটি দূর্ঘটনার সংবাদ লাখো মানুষের মনে যাত্রাগত ভয় সৃষ্টি করে দেয়। অন্যদিকে ভৌগলিক ও প্রাকৃতিক কারণেও গ্রামের মানুষের তুলনায় শহরের মানুষ অনেকটা ভীত। কাজেই সড়ক দূর্ঘটনার লাগাম যদি টেনে ধরা না যায় তবে নিকট ভবিষ্যতে শহরের মানুষের সাথে গ্রামের মানুষের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

বিশ্বের সকল দেশেই সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে এবং সেখানেও দূর্ঘটনা ঘটে তবে আমাদের দেশের সড়ক-মহাসড়কে দূর্ঘটনার হার আশঙ্কাজনকভাবে অত্যন্ত বেশি। সড়ক দূর্ঘটনার হার একবারে শুণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব না হলেও অন্তত উল্লেখযোগ্য দূর্ঘটনা কেবল সচেতনতা সৃষ্টি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য সবার প্রথমে দরকার ২০১২ সালে প্রণীত মোটর যান আইনের খসরা আইনে পরিণত করে তা বাস্তবায়িত করা এবং সড়ক-মহাসড়কগুলোর নির্মান ও সংস্কারে রাষ্ট্র কর্তৃক বরাদ্ধকৃত অর্থের সিংহভাগ পৃকত উদ্দেশ্যে ব্যয় করা । বর্তমানেও যে বরাদ্ধকৃত অর্থ ব্যয় হয়না তা বললে মিথ্যা বলা হবে তবে সে অর্থের উল্লেখযোগ্য পরিমান রাস্তার নির্মান সামগ্রী খরিদের পূর্বেই অদৃশ্য হয়ে যায়। মূল কাজের জন্য যে পরিমান অর্থ বেঁচে থাকে তা দিয়ে নাম্বার ছাড়া নিম্ন মানের নির্মান সামগ্রী কিনতে হয়। যা দিয়ে সড়ক তৈরি কিংবা মেরামতের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় সড়ক আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। যানবাহন ও চালকের যোগ্যতা সংক্রান্ত যে আইন রয়েছে তারও পূর্ণ বাস্তবায়ন নাই। যানবাহনের মালিকপক্ষের অধিক লাভের মানসিকতায় যেমন ঈদের সময় হেলপার চালকে পরিণত হয় তেমনি অর্থের বিনিময়ে দফারফা হয়ে যায় অনেক অবৈধ-বৈধে।

শুধু ঈদ কিংবা পুজায় মানুষের বাড়তি চাপে নয় বরং এদেশের মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে প্রাত্যাহিক সড়ক দূর্ঘটনা। এদেশে এমন পরিবার খুব কম খুঁজে পাওয়া যাবে যাদের কোন আত্মীয় স্বজন সড়ক দূর্ঘটনায় আহত কিংবা নিহত হয়নি। এদেশে এমনও অনেক পরিবার ছিলো যাদের সকল সদস্যই সড়ক দূর্ঘনায় নিহত হয়েছে। সড়ক দূর্ঘটনার এই ভয়ানক চিত্র যা নিয়ত মর্মবেদনা সৃষ্টি করছে তার দিকে তাকালে যা দেখা যায় তাতে দেশের সড়কগুলোকে মৃত্যু উপত্যকা বললেও অত্যুক্তি করে বলা হবে না।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যান সমিতির তথ্য মতে, গত বছর অর্থাৎ ১০১৪ সালে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৮ হাজার ৫৮৯ জন অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ২৪ জন লোকের প্রাণনাশ হয়েছে রাস্তায়। একই সময়ে আহত হয়েছে ১৭ হাজার ৫২৪ জন। উক্ত সমিতির প্রদত্ত তথ্য মতে, চলতি বছরে সারা দেশে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে ৪ হাজার ২০০টি । এতে নিহত হয়েছে ৫ হাজার ৮৯০ জন। আহতের সংখ্যা ৯ হাজার ২৭১ জন। দেশের মোট সড়ক দূর্ঘটনার দুই-তৃতীয়াংশ ঘটেছে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে। আমাদের দেশে রেজিষ্ট্রেশনপ্রাপ্ত পরিবহরেন বিপরীতে অবৈধ চালকের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ অর্থ্যাৎ মোট চালকের ৬১ ভাগেরই চালক হিসেবে কোন বৈধতা নাই। সড়ক দুর্ঘটনায় যারা নিহত হয় তাদের শতকরা ৬০ ভাগ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অংশ এবং ২০ ভাগের বয়স ১৬ বছরের নিচে। দেশের হাসপাতালগুলোর জরুরী বিভাগে আসা রোগীর শতকরা ৫৬ ভাগই সড়ক দূর্ঘটনার শিকার । 

বিআরটিএর এক প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা গেছে, ১৯৯৪-২০১১ পর্যন্ত সারাদেশে ৭২ হাজার ৭৪৮ জন সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে এবং আহত হয়েছে ৫২ হাজার ৬৮২ জন। বিভিন্ন সময় সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের অনেক কৃতি সন্তান প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখ্য:

  • ২০১০ সালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান
  • ২০১১ সালের ১৩ই আগষ্ট মানিকগঞ্জে নিহত হন চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন  নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিশুক মুনীরসহ ৫ জন।
  • সেই বছরই ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬ জন স্কুল শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
  • ২০১০ সালে মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান জনপ্রশাসন বিভাগের দুই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
  • ২০১২ সালে রাজধানীর কাকরাইলে বাসচাপায় নিহত হন সাংবাদিক দীনেশ দাস।
  • ২০১৪ সালে রাজধানীতে এক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হন আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষক লেখক ও কলামিষ্ট জগলূল আহমেদ চৌধুরী।

দূর্ঘটনা সংশ্লিষ্ট বিশ্বব্যাংকের হিসাব আরও ভয়াবহ। তাদের জরিপের তথ্য মতে, আমাদের দেশে প্রতিবছর সড়ক দূর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১২ হাজার। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু)’র মতে, নিহতের সংখ্যা ১৮ হাজার।

আর কতদিন সড়ক দূর্ঘটনা কবলিত হয়ে মানুষকে রাস্তায় জীবন দিতে হবে? আর কত জীবন বৃন্ত হতে ঝড়লে রোধ হবে অনাকাঙ্খিত সড়ক দূর্ঘটনা? রাষ্ট্রের কিছু দায়িত্বশীল এসকল দূর্ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বিষয় বলে উড়িয়ে দিতে চান কিন্তু দূর্ঘটনার তীব্রতা ও ক্ষতির ভয়বহতায় কি এসব দূর্ঘটনাকে এমনভাবে ভাবার আদৌ সুযোগ রাখছে? সুতরাং দায়িত্বশীলদের আরও মনোযোগী হতে হবে এবং পূর্ববর্তী দূর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রদত্ত রিপোটগুলোকে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে যেকোন মূল্যে দূর্ঘটনা রোধ করতে হবে।

সড়ক দূর্ঘটনা এমন কোন ঘটনা নয় যা এড়ানো অসম্ভব। চালক যদি যোগ্য-দক্ষ-অভিজ্ঞ হয়, যানবাহনের যদি ফিটনেস থাকে, সড়ক-মহাসড়ক যদি যানবাহন চলাচলের পূর্ণ উপযোগী থাকে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার যদি পূর্ণ বাস্তবায়ন হয় তাহলে যানবাহনকে দুর্ঘটনামুক্ত রেখে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব এবং মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি প্রদানও অসম্ভব নয়।

যে কারণগুলোতে বিশেষ করে গাড়ির অতিরিক্ত গতির কারণে ৫৩.২৮ শতাংশ, বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোয় ৩৭.৩৮ শতাংশ, পথচারীদের ভূলের কারণে ৩.৫৬ শতাংশ এবং অন্যান্য কারণে ৫.৫৮ শতাংশ সড়ক দূর্ঘটনা ঘটে।

সুতরাং সকলের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটুকুর নিশ্চয়তা অন্তত দিতে হবে যে, সড়ক দূর্ঘটনায় পতিত হয়ে আর কোন জীবন অকালেই ঝড়ে যাবে না এবং কোন বাবা-মা-সন্তান-ভাই-বোন অস্বাভাবিক কোন কারণে আপনজন হারা হবে না। আমরা দেশের সড়কগুলোকেও নিরাপদ চাই। সারা দেশের ৩ হাজার ৫৪৪ কিলোমিটার মহাসড়কসহ সকল সড়ক পথ যেন মানুষের জীবনের সংহারক না হয়ে নিরাপত্তার আশ্রয় হয়। প্রতিটি যাত্রা যেন আনন্দঘন হয় তার নিশ্চয়তা চাই।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

সড়ক, নিরাপত্তা, যানবাহন, নিয়ম, আইন, চালক, নিয়ন্ত্রণ, মৃত্যু, আহত, প্রতিদিন, খবর, দুঃখজনক