সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

road-accident-bangladesh-safety.jpg

সড়ক নিরাপত্তা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কিছু করণীয়

সড়ক দুর্ঘটনায় নাকি কারো হাত থাকে না। আবার চালকের অদক্ষতায় এটি হতে পারে। একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে হয়তো এই দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিদিন গণমাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি সড়ক দুর্ঘটনার অসংখ্য বিভৎস ছবি, দেখতে পাই স্বজন হারানোদের আহাজারি। বিশেষ করে ঈদের ছুটির সময়ে এ রকম মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। আর এ দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারের জন্য সান্ত্বনার বাণী আমাদের কাছে নেই।

কিন্তু কেন এই সড়ক দুর্ঘটনা? কেন এই অকাল অপমৃত্যু? যোগাযোগ মন্ত্রনালয়, বিআরটিএ সহ যোগাযোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কি সদুত্তর দিতে পারবেন? অথচ সড়কপথ একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে।

বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কয়েকটি কারণ খুজতে গেলে যেগুলো পাওয়া যাবে তা হল:

সোজা রাস্তা ও ডিভাইডার না থাকা:
দেশের আন্তজেলা মহাসড়কগুলোতে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে যেখানে যানবাহন খুব দ্রুতবেগে চলাচল করে। এসব সড়কগুলোতে মুখোমুখি যানবাহন চলাচল করলেও সড়কগুলো বেশ চওড়া নয় এবং কোনো ডিভাইডার নেই। যার ফলে যানবাহনগুলো যখন পাশাপাশি চলে আসে তখন তাদের মধ্যে নিরাপদ দুরত্ব না থাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। আর নিরাপদ দুরত্ব রাখতে হলে রাস্তা ছেড়ে যানবাহন নিচে নেমে আসে। ফলে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।

পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ন যানবাহন:
পুরোনো যানবাহনগুলো সরিয়ে নিতে সরকার একটি পদক্ষেপ নিয়েছিলো বছরখানেক আগে। যানবাহনগুলো ২৫ বছরের পুরোনো। কিন্তু তা সরকার বাস্তবায়ন করেছে কি-না তা আমরা দেখিনি। কিন্তু ঢাকার বাইরে অসংখ্য পুরাতন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে যেগুলো দুর্ঘটনা ঘটানোর অন্যতম কারণ।

ভালো সড়কের অভাব:
মহাসড়কের রাস্তা হতে হবে যুগোপযোগী, টেকসই, ভালো বা উন্নতমানের যেন সকলের ব্যবহার উপযোগী হয়। কিন্তু আমাদের দেশের রাস্তাঘাটগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, অধিকাংশ রাস্তঘাটগুলো জোড়াতালি দিয়ে তৈরি করা হয়। তৈরি করার ছয়মাসের মধ্যেই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে এমন অনেক রাস্তার নজির আছে। যেকোন ধরনের সড়ক নির্মাণে আমাদের অধিক যত্নবান হতে হবে। আমার মনে হয়, সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারের নজরদারি আরো বাড়ানো প্রয়োজন। তা ছাড়া স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম কখনই যেন গ্রহণযোগ্য না হয় সে দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।

চালকের অদক্ষতা:
দেশের বেশির ভাগ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী থাকে চালকের অদক্ষতা। দুর্ঘটনার পরও এসব চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আবার এও সত্য যে, অধিকাংশ চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা দেওয়ার মতো অবকাঠামো সরকারের এখনো নেই। এটি সরকারের ব্যর্থতা। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরে এসেও একটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এমন বিশৃঙ্খল অবস্থা মেনে নেওয়া অসম্ভব।

ড্রাইভিং পেশার উৎকর্ষহীনতা:
ড্রাইভিং পেশাটা আমাদের দেশে এখনো নিম্নমানের পেশা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে, বাস ও ট্রাক ড্রাইভাররা ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টাই পরিশ্রম করেন। এতো সময় এরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পথঘাটে থাকতে থাকতে তাদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতার তৈরি হয়। এরা শারীরিক ও মানষিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। যার ফলে তারা তাদের পেশায় মনোনিবেশ করতে পারেন না। এটিও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ।

পুরাতন ট্রাফিক সিগনাল ব্যবস্থা:
বাংলাদেশে এখনও অনেক কিছু পুরাতন পদ্ধতি অনুসারে চলছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ট্রাফিক সিগনাল ব্যবস্থা একটা। এই ট্রাফিক সিগনালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। এখন সময়ের দাবী হয়ে দাডিয়েছে গতি পরিমাপক, ওজন পরিমাপক, জিপিএস প্রযুক্তি ইত্যাদির অন্তর্ভুক্তি।

বিকল্প যানবাহনের সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকা:
দেশে এখনো অনেক জেলা ও উপজেলা আছে, যাদেরকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনা যায়নি। সড়কপথের বিকল্প হিসেবে রেলপথ ও নৌপথের প্রচলন ও সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে। কারণ একটি নির্দিষ্ট পথে যখন যাত্রীচাপ বেশি হবে তখন স্বাভাবিকভাবেই অসুবিধা বাড়বে। রেল যোগাযোগ সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারলে সড়কপথের ওপর থেকে চাপ কমবে। আর তাতে হয়তো দুর্ঘটনা কিছুটা হলেও কমবে।

যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের অভাব:
চলমান ট্রাফিক আইন সংশোধন ও তার যথাযথ প্রয়োগ একান্ত প্রয়োজন। রাস্তাঘাটে যেসব অবৈধ চালক, ফিটনেসহীন গাড়ি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আটক করেন তার অধিকাংশই অর্থের বিনিময়ে বৈধ হয়ে যায় বা মামলা কাগজ কলমেই থাকে। এসবের সঠিক প্রয়োগ চাই।

আমার মনে হয়, উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলো স্বল্পমেয়াদে ও দীর্ঘমেয়াদে বিভক্ত করে এখনই কাজ শূরু করা গেলে সড়ক নিরাপত্তায় একটি ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে। আর এজন্য সরকারকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

দূর্ঘটনা, সড়ক, মৃত্যু, আহত, প্রতিকার, নিরাপত্তা, জীবন, মানুষ, চালক, দায়িত্ব, সতর্কতা